ঢাকা ০৭:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগঃ
এটি একটি প্রিন্টভার্ষণ পত্রিকার ওয়েবসাইট। সারাদেশে জেলা উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। আগ্রহীদের শুধুমাত্র ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করার জন্য বলা হইলো। -বার্তা সম্পাদক।

পুলিশের টিএ আত্মসাৎ: এখনো বাকি দেড় কোটি একজনকে বরখাস্ত, ৪ জনের কৈফিয়ত তলব

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৭:১৫:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

অপরাধ ডেস্ক: বগুড়া জেলা পুলিশে ভ্রমণ বা টিএ বিলের ভাউচার জালিয়াতি করে সরকারি অর্থ আত্মসাতের একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে। এই জালিয়াতির ঘটনায় জড়িত ৩১ জন পুলিশ সদস্যের মধ্যে ২৭ জন ইতোমধ্যে তাদের কাছে থাকা প্রায় দেড় কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছেন। তবে এখনো চারজন পুলিশ সদস্য এবং হিসাবরক্ষণ অফিসের একজন অডিটর এই বিশাল পরিমাণ টাকা ফেরত দেননি। অভিযুক্তরা চাকরি বাঁচাতে এই অর্থ ফেরত দিতে বাধ্য হয়েছেন বলে ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে পুলিশ অফিস ও হিসাবরক্ষণ অফিসের একটি অসাধু চক্র পুলিশ সুপারের কম্পিউটার আইডি অবৈধভাবে ব্যবহার করে এই জালিয়াতি চালিয়ে আসছিল। গত ১৯ আগস্ট বিষয়টি পুলিশ সুপার মীর্জা সায়েম মাহমুদের নজরে আসার পর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। এরপর পুলিশ অফিসের হিসাব সহকারী রাজিবুল ইসলাম ও হিসাবরক্ষণ অফিসের অডিটর ফিরোজ আলমকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে জালিয়াতির সাথে জড়িতদের শনাক্ত করা হয় এবং অভিযুক্তরা জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন।

অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের দাবি, জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংক হিসাবে আসা টাকার একটি বড় অংশ তাঁদের তুলে হিসাবরক্ষণ অফিসের অডিটর ফিরোজ আলম ও পুলিশ অফিসের হিসাব সহকারী রাজিবুল ইসলামকে দিতে হতো। এদিকে আত্মসাৎ করা সরকারি অর্থ উদ্ধারের কৌশল হিসেবে সংশ্লিষ্টদের টাকা ফেরত দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। এর সুফল হিসেবে ২৭ জন পুলিশ সদস্য তাদের অংশের টাকা পর্যায়ক্রমে ফেরত দিলেও বাকি চার পুলিশ সদস্য এখনো তা দেননি। পুলিশ অফিসের হিসাব সহকারী রাজিবুল ইসলামসহ ওই চারজনের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে বলে জানিয়েছে তদন্ত কমিটি।

অন্যদিকে মহাহিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয়ের একটি পৃথক তদন্ত কমিটি এই ঘটনায় হিসাবরক্ষণ অফিসের পাঁচ কর্মচারীর সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পায়। জেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আছাদুজ্জামান সরকার জানিয়েছেন, তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অডিটর ফিরোজ আলমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং দায়িত্বে অবহেলার দায়ে আরও চার কর্মচারীর কাছে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে। অডিটর ফিরোজ আলম এখনো আত্মসাৎকৃত অর্থ ফেরত দেননি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

আজকের নামাজের সময়সূচি: ০১ নভেম্বর ২০২৬

পুলিশের টিএ আত্মসাৎ: এখনো বাকি দেড় কোটি একজনকে বরখাস্ত, ৪ জনের কৈফিয়ত তলব

আপডেট সময় ০৭:১৫:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

অপরাধ ডেস্ক: বগুড়া জেলা পুলিশে ভ্রমণ বা টিএ বিলের ভাউচার জালিয়াতি করে সরকারি অর্থ আত্মসাতের একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে। এই জালিয়াতির ঘটনায় জড়িত ৩১ জন পুলিশ সদস্যের মধ্যে ২৭ জন ইতোমধ্যে তাদের কাছে থাকা প্রায় দেড় কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছেন। তবে এখনো চারজন পুলিশ সদস্য এবং হিসাবরক্ষণ অফিসের একজন অডিটর এই বিশাল পরিমাণ টাকা ফেরত দেননি। অভিযুক্তরা চাকরি বাঁচাতে এই অর্থ ফেরত দিতে বাধ্য হয়েছেন বলে ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে পুলিশ অফিস ও হিসাবরক্ষণ অফিসের একটি অসাধু চক্র পুলিশ সুপারের কম্পিউটার আইডি অবৈধভাবে ব্যবহার করে এই জালিয়াতি চালিয়ে আসছিল। গত ১৯ আগস্ট বিষয়টি পুলিশ সুপার মীর্জা সায়েম মাহমুদের নজরে আসার পর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। এরপর পুলিশ অফিসের হিসাব সহকারী রাজিবুল ইসলাম ও হিসাবরক্ষণ অফিসের অডিটর ফিরোজ আলমকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে জালিয়াতির সাথে জড়িতদের শনাক্ত করা হয় এবং অভিযুক্তরা জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন।

অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের দাবি, জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংক হিসাবে আসা টাকার একটি বড় অংশ তাঁদের তুলে হিসাবরক্ষণ অফিসের অডিটর ফিরোজ আলম ও পুলিশ অফিসের হিসাব সহকারী রাজিবুল ইসলামকে দিতে হতো। এদিকে আত্মসাৎ করা সরকারি অর্থ উদ্ধারের কৌশল হিসেবে সংশ্লিষ্টদের টাকা ফেরত দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। এর সুফল হিসেবে ২৭ জন পুলিশ সদস্য তাদের অংশের টাকা পর্যায়ক্রমে ফেরত দিলেও বাকি চার পুলিশ সদস্য এখনো তা দেননি। পুলিশ অফিসের হিসাব সহকারী রাজিবুল ইসলামসহ ওই চারজনের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে বলে জানিয়েছে তদন্ত কমিটি।

অন্যদিকে মহাহিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয়ের একটি পৃথক তদন্ত কমিটি এই ঘটনায় হিসাবরক্ষণ অফিসের পাঁচ কর্মচারীর সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পায়। জেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আছাদুজ্জামান সরকার জানিয়েছেন, তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অডিটর ফিরোজ আলমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং দায়িত্বে অবহেলার দায়ে আরও চার কর্মচারীর কাছে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে। অডিটর ফিরোজ আলম এখনো আত্মসাৎকৃত অর্থ ফেরত দেননি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।