ঢাকা ০১:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
Logo ভারত-পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য নিয়ে যা বললেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী Logo চাঁদাবাজির সঙ্গে আমার ছেলে জড়িত থাকলেও যেন ছাড় না দেয় Logo রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারকে তাৎক্ষণিক প্রত্যাহার, আলোচনায় যে কারণ Logo ‘ভারতবিরোধী রাবণে’র পোস্টারে ড. ইউনূসের ছবি, রাহুল–মাস্কসহ আছেন আরও যারা Logo কৃষিঋণের ৪২% খেলাপি Logo যুক্তরাষ্ট্রের চাপে অর্থসংকটে পড়ছে কি ইরানের সামরিক বাহিনী Logo অস্বস্তিকর পদত্যাগ Logo সকল মানুষ স্বাধীনভাবে নির্বিঘ্নে ধর্ম পালন করবেন: প্রতিমন্ত্রী পুতুল Logo ১২০ বিঘার ফলবাগান গড়েছেন চুয়াডাঙ্গার সাদ্দাম, বছরে আয় ২ কোটি টাকা Logo জ্বালানি সহযোগিতা বাড়াতে বাংলাদেশ–আলজেরিয়া চুক্তি সই
প্রতিনিধি নিয়োগঃ
এটি একটি প্রিন্টভার্ষণ পত্রিকার ওয়েবসাইট। সারাদেশে জেলা উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। আগ্রহীদের শুধুমাত্র ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করার জন্য বলা হইলো। -বার্তা সম্পাদক।

কৃষিঋণের ৪২% খেলাপি

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১১:৪৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

অর্থনীতি ডেস্ক: দেশের কৃষি খাতে খেলাপি ঋণের হার অতীতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে এক alarming বা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। একসময়ে এই খাতে খেলাপির পরিমাণ অন্যান্য খাতের তুলনায় বেশ কম থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি প্রকাশিত পরিসংখ্যানে দেখা গেছে যে কৃষি খাতে বিতরণকৃত মোট ঋণের বড় একটি অংশই এখন আদায় করা সম্ভব হচ্ছে না। সার্বিক ব্যাংক খাতের গড় খেলাপি ঋণের হারকেও ছাড়িয়ে গেছে এই খাতের খেলাপি ঋণের চিত্র।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্যে প্রকাশ পেয়েছে যে, নির্দিষ্ট সময় শেষে কৃষি খাতে মোট ঋণস্থিতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭০ হাজার ৪৩২ কোটি টাকারও বেশি। এর মধ্যে প্রায় ২৯ হাজার ৮৪৯ কোটি টাকাই বর্তমানে খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যা মোট বিতরণ করা ঋণের প্রায় ৪২ দশমিক ৩৮ শতাংশ। অথচ এর কিছুদিন আগেই গত জুন প্রান্তিক শেষে এ খাতে খেলাপির হার ছিল তুলনামূলক কম। অর্থাৎ খুবই স্বল্প সময়ের ব্যবধানে কৃষি খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি এবং খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কৃষিখাতের অবদান অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও অপরিহার্য। মোট দেশজ উৎপাদনে বা জিডিপিতে এই খাতের বড় অংশীদারিত্ব রয়েছে এবং দেশের শ্রমশক্তির একটি বিশাল অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার পুষ্টি চাহিদা মেটাতে সরকার সবসময়ই কৃষিঋণ বিতরণে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকে। অতীতে বিভিন্ন সময়ে কৃষকদের সহায়তা করতে সরকার সুদসহ ঋণ মওকুফের মতো জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপও গ্রহণ করেছে।

তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন ঋণ শ্রেণিকরণ ও নিরাপত্তা সঞ্চিতির কঠোর নীতিমালার কারণেই মূলত খেলাপি ঋণের এই উল্লম্ফন ঘটেছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে প্রণীত এই নীতিমালায় ঋণ পরিশোধের সময়সীমা কঠোর করা হয়েছে এবং গ্রেস পিরিয়ডের সুবিধা কমিয়ে আনা হয়েছে। এর ফলে মেমোরেন্ডাম অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের পর বকেয়া পড়া ঋণগুলো খুব দ্রুত খেলাপি হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছে। তা সত্ত্বেও চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই ব্যাংকগুলো নতুন লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী কৃষকদের মধ্যে ঋণ বিতরণ এবং পুরনো ঋণ আদায়ের কার্যক্রম সমানভাবে চালিয়ে যাচ্ছে।

ট্যাগস :

ভারত-পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য নিয়ে যা বললেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

কৃষিঋণের ৪২% খেলাপি

আপডেট সময় ১১:৪৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

অর্থনীতি ডেস্ক: দেশের কৃষি খাতে খেলাপি ঋণের হার অতীতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে এক alarming বা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। একসময়ে এই খাতে খেলাপির পরিমাণ অন্যান্য খাতের তুলনায় বেশ কম থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি প্রকাশিত পরিসংখ্যানে দেখা গেছে যে কৃষি খাতে বিতরণকৃত মোট ঋণের বড় একটি অংশই এখন আদায় করা সম্ভব হচ্ছে না। সার্বিক ব্যাংক খাতের গড় খেলাপি ঋণের হারকেও ছাড়িয়ে গেছে এই খাতের খেলাপি ঋণের চিত্র।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্যে প্রকাশ পেয়েছে যে, নির্দিষ্ট সময় শেষে কৃষি খাতে মোট ঋণস্থিতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭০ হাজার ৪৩২ কোটি টাকারও বেশি। এর মধ্যে প্রায় ২৯ হাজার ৮৪৯ কোটি টাকাই বর্তমানে খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যা মোট বিতরণ করা ঋণের প্রায় ৪২ দশমিক ৩৮ শতাংশ। অথচ এর কিছুদিন আগেই গত জুন প্রান্তিক শেষে এ খাতে খেলাপির হার ছিল তুলনামূলক কম। অর্থাৎ খুবই স্বল্প সময়ের ব্যবধানে কৃষি খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি এবং খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কৃষিখাতের অবদান অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও অপরিহার্য। মোট দেশজ উৎপাদনে বা জিডিপিতে এই খাতের বড় অংশীদারিত্ব রয়েছে এবং দেশের শ্রমশক্তির একটি বিশাল অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার পুষ্টি চাহিদা মেটাতে সরকার সবসময়ই কৃষিঋণ বিতরণে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকে। অতীতে বিভিন্ন সময়ে কৃষকদের সহায়তা করতে সরকার সুদসহ ঋণ মওকুফের মতো জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপও গ্রহণ করেছে।

তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন ঋণ শ্রেণিকরণ ও নিরাপত্তা সঞ্চিতির কঠোর নীতিমালার কারণেই মূলত খেলাপি ঋণের এই উল্লম্ফন ঘটেছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে প্রণীত এই নীতিমালায় ঋণ পরিশোধের সময়সীমা কঠোর করা হয়েছে এবং গ্রেস পিরিয়ডের সুবিধা কমিয়ে আনা হয়েছে। এর ফলে মেমোরেন্ডাম অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের পর বকেয়া পড়া ঋণগুলো খুব দ্রুত খেলাপি হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছে। তা সত্ত্বেও চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই ব্যাংকগুলো নতুন লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী কৃষকদের মধ্যে ঋণ বিতরণ এবং পুরনো ঋণ আদায়ের কার্যক্রম সমানভাবে চালিয়ে যাচ্ছে।