ঢাকা ০২:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
Logo ত্বককে আরও তরুণ দেখাতে কী খাবেন Logo এলডিসি উত্তরণের সময় বৃদ্ধি ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত, এখন কৃতিত্ব দেখানোর পালা Logo থার্ড টার্মিনাল পরিচালনায় জাপানের চার শর্তে সম্মতি বাংলাদেশের Logo ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে অপু বিশ্বাসকে হঠাৎ চুমু, নেপথ্যে কী Logo এআই–এর কারণে কমছে গুগল সার্চ, এক দিনে অ্যালফাবেটের ৫০০ বিলিয়ন ডলার উধাও Logo কোর্ট মার্শালে দোষী সাব্যস্ত, বরখাস্ত হলেন লে. কর্নেল ফারুখ হোসেন Logo বেসরকারি সংস্থা পিসিডিতে চাকরি, পদ ২২০ Logo এবার নিকি মিনাজকে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি করায় আগ্রহ ট্রাম্পের Logo অটোরিকশা চলাচলে নতুন বিধিমালা ঘোষণা, চলতে পারবে না যেসব সড়কে Logo সুনামগঞ্জে মাদক সেবন করে বিশৃঙ্খলার অভিযোগে কৃষক দলের দুই নেতা আটক
প্রতিনিধি নিয়োগঃ
এটি একটি প্রিন্টভার্ষণ পত্রিকার ওয়েবসাইট। সারাদেশে জেলা উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। আগ্রহীদের শুধুমাত্র ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করার জন্য বলা হইলো। -বার্তা সম্পাদক।

এলডিসি উত্তরণের সময় বৃদ্ধি ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত, এখন কৃতিত্ব দেখানোর পালা

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০২:১৬:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

অর্থনীতি ডেস্ক: স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের সময়সীমা তিন বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে একটি বড় সুযোগ হিসেবে মূল্যায়ন করেছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ। সংস্থাটির মতে, জাতিসংঘের এই ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্তের যথাযথ মর্যাদা রক্ষা করতে হলে আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশকে অর্থনৈতিক ও কাঠামোগত ক্ষেত্রে অনন্য সাফল্য অর্জন করতে হবে। কেবল নীতিমালা প্রণয়ন বা মুখের কথায় এই সুযোগ কাজে লাগানো যাবে না, বরং সুনির্দিষ্ট সংস্কার ও বাস্তবায়নের মাধ্যমেই কেবল আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থার প্রতিদান দেওয়া সম্ভব। অন্যথায় বৈশ্বিক অঙ্গনে দেশের বিশ্বাসযোগ্যতা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হওয়ার ঝুঁকি থেকে যাবে।

রাজধানীর ধানমন্ডিতে আয়োজিত এক মিডিয়া সংলাপে সংস্থাটির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন যে, এই অতিরিক্ত সময়ে বাংলাদেশকে তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ একসঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে এলডিসি উত্তরণের পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি সম্পন্ন করা, সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধার করা। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, টাকার বিনিময় হারের স্থায়িত্ব রক্ষা, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার এবং রাজস্ব আদায় বাড়ানোর ওপরও বিশেষ জোর দিতে হবে। এসব লক্ষ্য পরস্পরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত এবং সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই কেবল কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক সাফল্য অর্জন করা সম্ভব।

এই বিশাল কর্মযজ্ঞকে কেবল একটি আমলাতান্ত্রিক বা অর্থনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে না দেখে সর্বোচ্চ রাজনৈতিক গুরুত্ব দেওয়ার তাগিদ দিয়েছে সিপিডি। কারণ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সরাসরি জাতিসংঘের মহাসচিবের কাছে অতিরিক্ত সময় চেয়ে চিঠি দেওয়ায় প্রতিশ্রুত সংস্কার বাস্তবায়নের রাজনৈতিক দায়ও সরকারের ওপর এসে বর্তায়। ড. দেবপ্রিয় প্রস্তাব করেছেন যে, উত্তরণকালীন সংস্কার পরিকল্পনা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করে আলোচনা করা উচিত, যাতে দেশের সব রাজনৈতিক দলের মধ্যে একটি জাতীয় ঐকমত্য গড়ে ওঠে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে একটি সমন্বিত ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার মাধ্যমে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়কে এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।

সরকারের প্রতিশ্রুতি ও সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতি স্বচ্ছভাবে তুলে ধরতে একটি উন্মুক্ত ড্যাশবোর্ড চালুর সুপারিশ করেছে গবেষণা সংস্থাটি। এর মাধ্যমে কোন মন্ত্রণালয় বা সংস্থা নির্ধারিত দায়িত্ব কতটুকু পালন করছে এবং কোথায় ঘাটতি রয়েছে, তা সহজেই জনসমক্ষে প্রকাশ পাবে। এছাড়া এলডিসি উত্তরণ ও সংশ্লিষ্ট সংস্কার কাজ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে সিপিডি ২৩টি ক্ষেত্র চিহ্নিত করেছে এবং সংসদ সদস্যদের নিয়ে একটি সর্বদলীয় ককাস গঠনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। বিগত দিনে প্রতিশ্রুতি রক্ষায় ঘাটতির ইতিহাস বদল করে এবার আগামী তিন বছরে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখানোর মাধ্যমেই দেশের প্রকৃত সক্ষমতা প্রমাণ করতে হবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ত্বককে আরও তরুণ দেখাতে কী খাবেন

এলডিসি উত্তরণের সময় বৃদ্ধি ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত, এখন কৃতিত্ব দেখানোর পালা

আপডেট সময় ০২:১৬:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

অর্থনীতি ডেস্ক: স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের সময়সীমা তিন বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে একটি বড় সুযোগ হিসেবে মূল্যায়ন করেছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ। সংস্থাটির মতে, জাতিসংঘের এই ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্তের যথাযথ মর্যাদা রক্ষা করতে হলে আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশকে অর্থনৈতিক ও কাঠামোগত ক্ষেত্রে অনন্য সাফল্য অর্জন করতে হবে। কেবল নীতিমালা প্রণয়ন বা মুখের কথায় এই সুযোগ কাজে লাগানো যাবে না, বরং সুনির্দিষ্ট সংস্কার ও বাস্তবায়নের মাধ্যমেই কেবল আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থার প্রতিদান দেওয়া সম্ভব। অন্যথায় বৈশ্বিক অঙ্গনে দেশের বিশ্বাসযোগ্যতা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হওয়ার ঝুঁকি থেকে যাবে।

রাজধানীর ধানমন্ডিতে আয়োজিত এক মিডিয়া সংলাপে সংস্থাটির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন যে, এই অতিরিক্ত সময়ে বাংলাদেশকে তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ একসঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে এলডিসি উত্তরণের পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি সম্পন্ন করা, সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধার করা। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, টাকার বিনিময় হারের স্থায়িত্ব রক্ষা, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার এবং রাজস্ব আদায় বাড়ানোর ওপরও বিশেষ জোর দিতে হবে। এসব লক্ষ্য পরস্পরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত এবং সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই কেবল কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক সাফল্য অর্জন করা সম্ভব।

এই বিশাল কর্মযজ্ঞকে কেবল একটি আমলাতান্ত্রিক বা অর্থনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে না দেখে সর্বোচ্চ রাজনৈতিক গুরুত্ব দেওয়ার তাগিদ দিয়েছে সিপিডি। কারণ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সরাসরি জাতিসংঘের মহাসচিবের কাছে অতিরিক্ত সময় চেয়ে চিঠি দেওয়ায় প্রতিশ্রুত সংস্কার বাস্তবায়নের রাজনৈতিক দায়ও সরকারের ওপর এসে বর্তায়। ড. দেবপ্রিয় প্রস্তাব করেছেন যে, উত্তরণকালীন সংস্কার পরিকল্পনা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করে আলোচনা করা উচিত, যাতে দেশের সব রাজনৈতিক দলের মধ্যে একটি জাতীয় ঐকমত্য গড়ে ওঠে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে একটি সমন্বিত ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার মাধ্যমে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়কে এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।

সরকারের প্রতিশ্রুতি ও সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতি স্বচ্ছভাবে তুলে ধরতে একটি উন্মুক্ত ড্যাশবোর্ড চালুর সুপারিশ করেছে গবেষণা সংস্থাটি। এর মাধ্যমে কোন মন্ত্রণালয় বা সংস্থা নির্ধারিত দায়িত্ব কতটুকু পালন করছে এবং কোথায় ঘাটতি রয়েছে, তা সহজেই জনসমক্ষে প্রকাশ পাবে। এছাড়া এলডিসি উত্তরণ ও সংশ্লিষ্ট সংস্কার কাজ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে সিপিডি ২৩টি ক্ষেত্র চিহ্নিত করেছে এবং সংসদ সদস্যদের নিয়ে একটি সর্বদলীয় ককাস গঠনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। বিগত দিনে প্রতিশ্রুতি রক্ষায় ঘাটতির ইতিহাস বদল করে এবার আগামী তিন বছরে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখানোর মাধ্যমেই দেশের প্রকৃত সক্ষমতা প্রমাণ করতে হবে।