ঢাকা ০২:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
Logo এক দফা আদায়ে সময়মতো ডাক আসবে, ঢাকায় সমবেত হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকুন: মামুনুল হক Logo বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ, জয়ের কাছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ Logo এইচএসসিতে ছাত্রদের অর্ধেকই ফেল, ছাত্রী ৪৩.৬৯ শতাংশ Logo এক মাসের মধ্যে ফের পরীক্ষা দিতে পারবে সর্বোচ্চ দুই বিষয়ে অকৃতকার্যরা Logo লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে ছিল না এনসিপি, গাড়িবহরে ৪ নেতা Logo চাকরির বেতন ১০ হাজার, ব্যাংকে ঢুকল ১০ হাজার কোটি Logo সরকার জনগণের কাঁধে স্বৈরাচার চাপিয়ে দিতে চায়: শফিকুর রহমান Logo এইচএসসি ও সমমানে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪০ হাজার Logo এইচএসসি ও সমমান: ‎২৯৩ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাস করেনি কেউ, শতভাগ পাস ১৩৯টিতে Logo যশোর বোর্ডে পাসের হার ৪৪ দশমিক ৯২ শতাংশ
প্রতিনিধি নিয়োগঃ
এটি একটি প্রিন্টভার্ষণ পত্রিকার ওয়েবসাইট। সারাদেশে জেলা উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। আগ্রহীদের শুধুমাত্র ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করার জন্য বলা হইলো। -বার্তা সম্পাদক।

ইউক্রেনে রাশিয়ার অবরোধ: খাদ্যনিরাপত্তার হুমকিতে বাংলাদেশের করণীয়

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৩:০৩:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে খাদ্যনিরাপত্তা যখন এক গভীর সংকটের মুখে, তখন ইউক্রেনের শস্য রপ্তানি পথগুলো বারবার হামলার শিকার হচ্ছে। কৃষ্ণসাগর, দানিয়ুব নদী এবং স্থলপথ ব্যবহার করে উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাইরে পাঠায় ইউক্রেন, যা বিশ্ববাজারের খাদ্য সরবরাহ সচল রাখতে বড় ভূমিকা রাখে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এসব পরিবহন পথ, বন্দর, গুদাম এবং কৃষি অবকাঠামোয় পরিকল্পিত আক্রমণ চালানো হচ্ছে। এর ফলে কেবল বৈশ্বিক খাদ্যনিরাপত্তাই বিঘ্নিত হচ্ছে না, বরং আন্তর্জাতিক বাজারে বাণিজ্য, জ্বালানি ও সারের দামেও বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

চলতি বছরের আগস্ট মাস থেকে ইউক্রেনে ফসল কাটার মৌসুম শুরু হলেও পরিবহন অবকাঠামো ধ্বংসের কারণে প্রচুর শস্য ও তৈলবীজ দেশের ভেতরেই আটকা পড়ে আছে। এর ফলে গত বছরের তুলনায় দেশটির রপ্তানি অর্ধেকে নেমে এসেছে এবং আগামী মাসগুলোতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। সংরক্ষণাগারের অভাবের কারণে চলতি বছরের শেষ নাগাদ প্রায় ৯০ লাখ টনের বেশি কৃষিপণ্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কৃষকেরা উৎপাদিত ফসল বিক্রি করতে না পারলে আগামী মৌসুমে বীজ বপনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ পাবেন না, যা ভবিষ্যৎ উৎপাদনকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করবে।

বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য এই পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ দেশে গম দ্বিতীয় সর্বাধিক ব্যবহৃত খাদ্যশস্য এবং এখানকার মোট চাহিদার ৮০ শতাংশের বেশি আমদানির মাধ্যমে মেটানো হয়। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথে বিঘ্ন ঘটলে এবং প্রধান উৎপাদনকারী অঞ্চলে সংকট তৈরি হলে বাংলাদেশ সরাসরি মূল্যস্ফীতি ও খাদ্যপণ্য আমদানির উচ্চ ব্যয়ের মুখে পড়ে। অতীতেও বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় ব্যাঘাত ঘটায় দেশের বাজারে গম ও গমজাতীয় খাবারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়েছিল।

বিশ্বের খাদ্যবাজারে ইউক্রেনের ঐতিহাসিক অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ যুদ্ধ শুরুর আগে দেশটি বিশ্বের একটি বড় অংশের গম, ভুট্টা, যব ও সূর্যমুখী তেল সরবরাহ করত। বিকল্প স্থলপথ বা নদীপথ দিয়ে কিছু পরিমাণ পণ্য পাঠানো সম্ভব হলেও নিরাপদ সমুদ্রপথের বিকল্প নেই। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতে এবং খাদ্যকে যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা বন্ধ করতে দায়িত্বশীল দেশগুলোকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। রাশিয়ার পক্ষ থেকে এই বাণিজ্যিক জীবনরেখায় হামলা বন্ধ হলে তা কেবল ইউরোপ নয়, বরং বাংলাদেশের মতো দূরবর্তী দেশগুলোর খাদ্যনিরাপত্তাও সুরক্ষিত করবে।

ট্যাগস :

এক দফা আদায়ে সময়মতো ডাক আসবে, ঢাকায় সমবেত হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকুন: মামুনুল হক

ইউক্রেনে রাশিয়ার অবরোধ: খাদ্যনিরাপত্তার হুমকিতে বাংলাদেশের করণীয়

আপডেট সময় ০৩:০৩:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে খাদ্যনিরাপত্তা যখন এক গভীর সংকটের মুখে, তখন ইউক্রেনের শস্য রপ্তানি পথগুলো বারবার হামলার শিকার হচ্ছে। কৃষ্ণসাগর, দানিয়ুব নদী এবং স্থলপথ ব্যবহার করে উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাইরে পাঠায় ইউক্রেন, যা বিশ্ববাজারের খাদ্য সরবরাহ সচল রাখতে বড় ভূমিকা রাখে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এসব পরিবহন পথ, বন্দর, গুদাম এবং কৃষি অবকাঠামোয় পরিকল্পিত আক্রমণ চালানো হচ্ছে। এর ফলে কেবল বৈশ্বিক খাদ্যনিরাপত্তাই বিঘ্নিত হচ্ছে না, বরং আন্তর্জাতিক বাজারে বাণিজ্য, জ্বালানি ও সারের দামেও বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

চলতি বছরের আগস্ট মাস থেকে ইউক্রেনে ফসল কাটার মৌসুম শুরু হলেও পরিবহন অবকাঠামো ধ্বংসের কারণে প্রচুর শস্য ও তৈলবীজ দেশের ভেতরেই আটকা পড়ে আছে। এর ফলে গত বছরের তুলনায় দেশটির রপ্তানি অর্ধেকে নেমে এসেছে এবং আগামী মাসগুলোতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। সংরক্ষণাগারের অভাবের কারণে চলতি বছরের শেষ নাগাদ প্রায় ৯০ লাখ টনের বেশি কৃষিপণ্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কৃষকেরা উৎপাদিত ফসল বিক্রি করতে না পারলে আগামী মৌসুমে বীজ বপনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ পাবেন না, যা ভবিষ্যৎ উৎপাদনকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করবে।

বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য এই পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ দেশে গম দ্বিতীয় সর্বাধিক ব্যবহৃত খাদ্যশস্য এবং এখানকার মোট চাহিদার ৮০ শতাংশের বেশি আমদানির মাধ্যমে মেটানো হয়। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথে বিঘ্ন ঘটলে এবং প্রধান উৎপাদনকারী অঞ্চলে সংকট তৈরি হলে বাংলাদেশ সরাসরি মূল্যস্ফীতি ও খাদ্যপণ্য আমদানির উচ্চ ব্যয়ের মুখে পড়ে। অতীতেও বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় ব্যাঘাত ঘটায় দেশের বাজারে গম ও গমজাতীয় খাবারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়েছিল।

বিশ্বের খাদ্যবাজারে ইউক্রেনের ঐতিহাসিক অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ যুদ্ধ শুরুর আগে দেশটি বিশ্বের একটি বড় অংশের গম, ভুট্টা, যব ও সূর্যমুখী তেল সরবরাহ করত। বিকল্প স্থলপথ বা নদীপথ দিয়ে কিছু পরিমাণ পণ্য পাঠানো সম্ভব হলেও নিরাপদ সমুদ্রপথের বিকল্প নেই। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতে এবং খাদ্যকে যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা বন্ধ করতে দায়িত্বশীল দেশগুলোকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। রাশিয়ার পক্ষ থেকে এই বাণিজ্যিক জীবনরেখায় হামলা বন্ধ হলে তা কেবল ইউরোপ নয়, বরং বাংলাদেশের মতো দূরবর্তী দেশগুলোর খাদ্যনিরাপত্তাও সুরক্ষিত করবে।