ঢাকা ০৬:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগঃ
এটি একটি প্রিন্টভার্ষণ পত্রিকার ওয়েবসাইট। সারাদেশে জেলা উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। আগ্রহীদের শুধুমাত্র ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করার জন্য বলা হইলো। -বার্তা সম্পাদক।

বরিশাল শিক্ষা বোর্ড: তিন কারণে ফল বিপর্যয়

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৬:৩০:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
  • ০ বার পড়া হয়েছে

শিক্ষা ডেস্ক: চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় দেশের সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ ফলাফল করেছে বরিশাল শিক্ষা বোর্ড। প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী এই বোর্ডে পাসের হার মাত্র চুয়াল্লিশ দশমিক আট চার শতাংশ যা সারা দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন। গত বছরের তুলনায় এই অঞ্চলে পাসের হার কমেছে প্রায় আঠারো শতাংশ এবং সেই সঙ্গে উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা। বিগত বছরগুলোতে তুলনামূলক ভালো অবস্থানে থাকা এই শিক্ষাবোর্ডটির এমন ধস নামায় শিক্ষক ও অভিভাবক মহলে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

বোর্ডের শোচনীয় এই ফলাফলের প্রধান কারণ হিসেবে ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের চরম ব্যর্থতাকে দায়ী করেছে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। বোর্ডের তথ্যমতে ইংরেজি বিষয়ে পাসের হার মাত্র তেপান্ন শতাংশের কাছাকাছি অবস্থান করায় তার সামগ্রিক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে পুরো ফলাফল ব্যবস্থার ওপর। বোর্ড কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে এ বছরের খাতা মূল্যায়ন ও ফলাফল প্রকাশ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে সম্পন্ন হয়েছে এবং এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মেধার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।

অন্যদিকে শিক্ষাবিদ ও কলেজ অধ্যক্ষদের মতে এই বিপর্যয়ের পেছনে মূলত তিনটি প্রধান কারণ জড়িত রয়েছে যার মধ্যে অন্যতম হলো ছাত্র আন্দোলনের পর শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা থেকে দীর্ঘসময় দূরে থাকা। তাঁরা জানান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্লাসে অনুপস্থিত ছিল এবং অভিভাবকেরাও তাদের সন্তানদের পড়াশোনার বিষয়টি যথাযথভাবে তদারকি করেননি। এর ফলে ইংরেজি উচ্চতর গণিত এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির মতো কঠিন বিষয়গুলোতে শিক্ষার্থীরা নিজেদের প্রস্তুত করতে ব্যর্থ হয়েছে।

শিক্ষকদের এমন মন্তব্যের সঙ্গে অবশ্য পুরোপুরি একমত পোষণ করেননি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা বরং তাঁরা এর জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক দায়িত্বহীনতা ও পাঠদানের ঘাটতিকেও সমানভাবে দায়ী করেছেন। অভিভাবক মহলের মতে শিক্ষার্থীদের একচেটিয়াভাবে দোষ না দিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোরও নিজেদের দুর্বলতা খতিয়ে দেখা উচিত। সব মিলিয়ে পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে পরীক্ষা গ্রহণ এবং নিয়মিত ক্লাসের অনুপস্থিতির মতো নানা জটিলতার কারণে বরিশাল বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষার এই বিপর্যয় দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষাব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

এইচএসসির ফল: ইংরেজি-আইসিটিতেই বিপর্যয়

বরিশাল শিক্ষা বোর্ড: তিন কারণে ফল বিপর্যয়

আপডেট সময় ০৬:৩০:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

শিক্ষা ডেস্ক: চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় দেশের সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ ফলাফল করেছে বরিশাল শিক্ষা বোর্ড। প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী এই বোর্ডে পাসের হার মাত্র চুয়াল্লিশ দশমিক আট চার শতাংশ যা সারা দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন। গত বছরের তুলনায় এই অঞ্চলে পাসের হার কমেছে প্রায় আঠারো শতাংশ এবং সেই সঙ্গে উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা। বিগত বছরগুলোতে তুলনামূলক ভালো অবস্থানে থাকা এই শিক্ষাবোর্ডটির এমন ধস নামায় শিক্ষক ও অভিভাবক মহলে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

বোর্ডের শোচনীয় এই ফলাফলের প্রধান কারণ হিসেবে ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের চরম ব্যর্থতাকে দায়ী করেছে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। বোর্ডের তথ্যমতে ইংরেজি বিষয়ে পাসের হার মাত্র তেপান্ন শতাংশের কাছাকাছি অবস্থান করায় তার সামগ্রিক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে পুরো ফলাফল ব্যবস্থার ওপর। বোর্ড কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে এ বছরের খাতা মূল্যায়ন ও ফলাফল প্রকাশ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে সম্পন্ন হয়েছে এবং এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মেধার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।

অন্যদিকে শিক্ষাবিদ ও কলেজ অধ্যক্ষদের মতে এই বিপর্যয়ের পেছনে মূলত তিনটি প্রধান কারণ জড়িত রয়েছে যার মধ্যে অন্যতম হলো ছাত্র আন্দোলনের পর শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা থেকে দীর্ঘসময় দূরে থাকা। তাঁরা জানান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্লাসে অনুপস্থিত ছিল এবং অভিভাবকেরাও তাদের সন্তানদের পড়াশোনার বিষয়টি যথাযথভাবে তদারকি করেননি। এর ফলে ইংরেজি উচ্চতর গণিত এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির মতো কঠিন বিষয়গুলোতে শিক্ষার্থীরা নিজেদের প্রস্তুত করতে ব্যর্থ হয়েছে।

শিক্ষকদের এমন মন্তব্যের সঙ্গে অবশ্য পুরোপুরি একমত পোষণ করেননি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা বরং তাঁরা এর জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক দায়িত্বহীনতা ও পাঠদানের ঘাটতিকেও সমানভাবে দায়ী করেছেন। অভিভাবক মহলের মতে শিক্ষার্থীদের একচেটিয়াভাবে দোষ না দিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোরও নিজেদের দুর্বলতা খতিয়ে দেখা উচিত। সব মিলিয়ে পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে পরীক্ষা গ্রহণ এবং নিয়মিত ক্লাসের অনুপস্থিতির মতো নানা জটিলতার কারণে বরিশাল বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষার এই বিপর্যয় দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষাব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।