ঢাকা ০৯:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
Logo জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯ বিষয়ে কারিকুলাম আধুনিকায়নের কাজ শুরু Logo যে কারণে ১৫ বছরের মধ্যে চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার সর্বনিম্ন Logo সরকার ৮ মাসেই দেশ ধ্বংস করে দিয়েছে: যশোরে গোলাম পরওয়ার Logo সংস্কার লংমার্চে নয়, সংবিধান সংশোধন কমিটিতে আসতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo দীর্ঘ বিরতির পর আবার পড়াশোনা, ৫২ বছরে শেফালীর এইচএসসি জয় Logo ভবিষ্যৎ ফ্যাসিবাদ রোধে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo গ্রাম ছেড়ে ঢাকায় মায়ের সংগ্রাম, নটর ডেম থেকে ছেলের জিপিএ–৫ Logo এবার আপনিও হতে পারেন ফ্যাশন হাউসের মডেল, পাবেন মাসিক বেতন Logo সংবিধান না মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি গায়ের জোরের শামিল: রিজভী Logo কামিন্দুর সেঞ্চুরিতে শ্রীলঙ্কার বড় পুঁজি, পাকিস্তানের লক্ষ্য ৩২৬
প্রতিনিধি নিয়োগঃ
এটি একটি প্রিন্টভার্ষণ পত্রিকার ওয়েবসাইট। সারাদেশে জেলা উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। আগ্রহীদের শুধুমাত্র ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করার জন্য বলা হইলো। -বার্তা সম্পাদক।

যে কারণে ১৫ বছরের মধ্যে চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার সর্বনিম্ন

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৯:৩০:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

শিক্ষা ডেস্ক: চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় গত পাসের হারে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। বিগত পাসের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, দীর্ঘ ১৫ বছরের মধ্যে এবারই এই বোর্ডে পাসের হার সবচেয়ে কম। প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, এবার চট্টগ্রাম বোর্ডে সামগ্রিক পাসের হার নেমে এসেছে ৫২ দশমিক ০৭ শতাংশে। গত বছরের তুলনায় এই পাসের হার শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ কম হওয়ায় শিক্ষাবিদ ও সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

পাসের হারের পাশাপাশি এবার জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। চলতি বছর এই বোর্ড থেকে মাত্র দুই হাজার ৯২৯ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে, যা গত বছরের তুলনায় তিন হাজার ১৬৮ জন কম। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন একশ চৌদ্দটি কেন্দ্রের মাধ্যমে দুইশ আশিটি কলেজের প্রায় ছিয়ানব্বই হাজার পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। এর মধ্যে ছেলেদের পাসের হার ছিল সাতচল্লিশ দশমিক ছয় দুই শতাংশ এবং মেয়েদের পাসের হার ছিল তিপ্পান্ন দশমিক আট নয় শতাংশ।

ফলাফল বিপর্যয়ের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে ইংরেজি বিষয়ে পরীক্ষার্থীদের দুর্বল ফলাফল। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ইংরেজিতে পাসের হার মাত্র পঁয়ষট্টি দশমিক সাত সাত শতাংশে সীমাবদ্ধ ছিল, যা অন্য যেকোনো বিষয়ের তুলনায় সবচেয়ে কম। এছাড়া বিভিন্ন বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে কেবল একটি বিষয়ে ফেল করেছে বাইশ হাজারেরও বেশি পরীক্ষার্থী। বিষয়ভিত্তিক এই বড় হোঁচট সামগ্রিক ফলাফলকে মারাত্মকভাবে পেছনের দিকে টেনে দিয়েছে।

চট্টগ্রাম মহানগরীর ফলাফল তুলনামূলক ভালো হলেও পার্বত্য জেলাগুলোর করুণ দশা পুরো বোর্ডের গড় ফলাফলকে ডুবিয়েছে। চট্টগ্রাম শহরে পাসের হার ছেষট্টি দশমিক দুই শূন্য শতাংশ থাকলেও কক্সবাজার ও পার্বত্য তিন জেলার চিত্র ছিল হতাশাজনক। কক্সবাজারে তেতাল্লিশ দশমিক তিন চার শতাংশ, রাঙামাটিতে তেত্রিশ দশমিক দুই চার শতাংশ, বান্দরবানে একচল্লিশ দশমিক চার দুই শতাংশ এবং খাগড়াছড়িতে মাত্র ঊনত্রিশ দশমিক আট পাঁচ শতাংশ শিক্ষার্থী কৃতকার্য হয়েছে।

এই সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী জানিয়েছেন, ফলাফলের এই নিম্নগতির পেছনে একাধিক জটিল কারণ ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে পাহাড়ি জেলাগুলোতে শিক্ষাগত পিছিয়ে পড়া অবস্থা এবং ইংরেজি বিষয়ের মতো জনবহুল বিষয়ে কম পাসের হারই চট্টগ্রাম বোর্ডের সামগ্রিক ফলাফলকে তলানিতে নিয়ে গেছে বলে মনে করছেন এই শিক্ষা কর্মকর্তা।

ট্যাগস :

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯ বিষয়ে কারিকুলাম আধুনিকায়নের কাজ শুরু

যে কারণে ১৫ বছরের মধ্যে চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার সর্বনিম্ন

আপডেট সময় ০৯:৩০:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

শিক্ষা ডেস্ক: চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় গত পাসের হারে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। বিগত পাসের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, দীর্ঘ ১৫ বছরের মধ্যে এবারই এই বোর্ডে পাসের হার সবচেয়ে কম। প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, এবার চট্টগ্রাম বোর্ডে সামগ্রিক পাসের হার নেমে এসেছে ৫২ দশমিক ০৭ শতাংশে। গত বছরের তুলনায় এই পাসের হার শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ কম হওয়ায় শিক্ষাবিদ ও সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

পাসের হারের পাশাপাশি এবার জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। চলতি বছর এই বোর্ড থেকে মাত্র দুই হাজার ৯২৯ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে, যা গত বছরের তুলনায় তিন হাজার ১৬৮ জন কম। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন একশ চৌদ্দটি কেন্দ্রের মাধ্যমে দুইশ আশিটি কলেজের প্রায় ছিয়ানব্বই হাজার পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। এর মধ্যে ছেলেদের পাসের হার ছিল সাতচল্লিশ দশমিক ছয় দুই শতাংশ এবং মেয়েদের পাসের হার ছিল তিপ্পান্ন দশমিক আট নয় শতাংশ।

ফলাফল বিপর্যয়ের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে ইংরেজি বিষয়ে পরীক্ষার্থীদের দুর্বল ফলাফল। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ইংরেজিতে পাসের হার মাত্র পঁয়ষট্টি দশমিক সাত সাত শতাংশে সীমাবদ্ধ ছিল, যা অন্য যেকোনো বিষয়ের তুলনায় সবচেয়ে কম। এছাড়া বিভিন্ন বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে কেবল একটি বিষয়ে ফেল করেছে বাইশ হাজারেরও বেশি পরীক্ষার্থী। বিষয়ভিত্তিক এই বড় হোঁচট সামগ্রিক ফলাফলকে মারাত্মকভাবে পেছনের দিকে টেনে দিয়েছে।

চট্টগ্রাম মহানগরীর ফলাফল তুলনামূলক ভালো হলেও পার্বত্য জেলাগুলোর করুণ দশা পুরো বোর্ডের গড় ফলাফলকে ডুবিয়েছে। চট্টগ্রাম শহরে পাসের হার ছেষট্টি দশমিক দুই শূন্য শতাংশ থাকলেও কক্সবাজার ও পার্বত্য তিন জেলার চিত্র ছিল হতাশাজনক। কক্সবাজারে তেতাল্লিশ দশমিক তিন চার শতাংশ, রাঙামাটিতে তেত্রিশ দশমিক দুই চার শতাংশ, বান্দরবানে একচল্লিশ দশমিক চার দুই শতাংশ এবং খাগড়াছড়িতে মাত্র ঊনত্রিশ দশমিক আট পাঁচ শতাংশ শিক্ষার্থী কৃতকার্য হয়েছে।

এই সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী জানিয়েছেন, ফলাফলের এই নিম্নগতির পেছনে একাধিক জটিল কারণ ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে পাহাড়ি জেলাগুলোতে শিক্ষাগত পিছিয়ে পড়া অবস্থা এবং ইংরেজি বিষয়ের মতো জনবহুল বিষয়ে কম পাসের হারই চট্টগ্রাম বোর্ডের সামগ্রিক ফলাফলকে তলানিতে নিয়ে গেছে বলে মনে করছেন এই শিক্ষা কর্মকর্তা।