ঢাকা ০১:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
Logo আনন্দ–বিষাদে দেবী দুর্গাকে বিদায়, বিসর্জন দেখতে কক্সবাজার সৈকতে লাখো মানুষের ঢল Logo ভারত সফরে রুবিও, কেন জামনগরে নজর যুক্তরাষ্ট্রের Logo রাজশাহীতে আখচাষিদের প্রণোদনা তালিকায় বিএনপির এমপি চাঁদের নাম, বিতর্ক তুঙ্গে Logo ‘নজিরবিহীন নিরাপত্তা ঝুঁকি থেকেই বদর প্রতিরক্ষা চুক্তি’ Logo চট্টগ্রাম বন্দর: ইজারার চুক্তি সংসদে আলোচিত হলো না কেন Logo ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ২০১৩ সালের গণআন্দোলনের ইতিহাস সংকলনের উদ্যোগ Logo দাম্মাম রুটে বিমানের ফ্লাইট চালু, ২৫ অক্টোবর থেকে রিয়াদে Logo আসামে মুসলিমদের ১১০০ ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার নিন্দা নাহিদ ইসলামের Logo ‘তারেক রহমান প্রতিশ্রুতি দিলে বাস্তবায়ন করেন, দুর্গাপূজার নিরাপত্তা তার প্রমাণ’ Logo শৈশবের দুর্গাপূজা: আনন্দের এক অন্য জগৎ
প্রতিনিধি নিয়োগঃ
এটি একটি প্রিন্টভার্ষণ পত্রিকার ওয়েবসাইট। সারাদেশে জেলা উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। আগ্রহীদের শুধুমাত্র ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করার জন্য বলা হইলো। -বার্তা সম্পাদক।

আসামে মুসলিমদের ১১০০ ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার নিন্দা নাহিদ ইসলামের

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১১:৩০:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের আসাম রাজ্যে সাম্প্রতিক উচ্ছেদ অভিযانের নামে বাঙালি মুসলিমদের এক হাজার একশটিরও বেশি ঘরবাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। সম্প্রতি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি এই অমানবিক ঘটনার প্রতিবাদ জানান এবং মুসলিমরা যে ভারতেরই বৈধ নাগরিক, সেই বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, সরকারিভাবে বনভূমি ও সরকারি জমি উদ্ধারের অজুহাত দেখানো হলেও মূলত একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করেই এই ধরনের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে।

নাহিদ ইসলামের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই উচ্ছেদ অভিযানে কেবল বসতভিটেই ধ্বংস করা হয়নি, বরং এর পাশাপাশি দশটিরও বেশি মসজিদও ভেঙে ফেলা হয়েছে যার মধ্যে বেশ কয়েকটি অন্তত পঞ্চাশ বছরেরও বেশি পুরনো ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাসমূহ। ভারতীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে তিনি জানান যে, ক্ষতিগ্রস্ত বহু পরিবারের এই অঞ্চলের সঙ্গে বহু দশকের পুরনো নাড়ির টান রয়েছে এবং তারা দেশটির স্বাধীনতার পূর্ববর্তী সময় থেকেই সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করে আসছেন। অথচ কোনো ধরনের যথাযথ পুনর্বাসন কিংবা বিকল্প আশ্রয়ের ব্যবস্থা না করেই এসব অসহায় মানুষকে হঠাৎ করে গৃহহীন করে দেওয়া হয়েছে এবং অনেককে জোরপূর্বক আটককেন্দ্রেও নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, ভারতে বাঙালি মুসলিমদের ওপর যে ধারাবাহিক বৈষম্য ও নিপীড়নের ঘটনা ঘটছে, আসামের এই উচ্ছেদ অভিযান তারই একটি অংশমাত্র এবং হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির প্রভাবে সেখানকার পরিস্থিতি দিন দিন আরও বেশি আশঙ্কাজনক হয়ে উঠছে। বিগত এক দশকে দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে প্রায় উনিশ হাজার পরিবারকে এভাবেই জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করা হয়েছে বলে তিনি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন। বছরের পর বছর ধরে এই জনগোষ্ঠীর মানুষ রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন, জোর করে সীমান্ত পেরিয়ে অন্যত্রে ঠেলে দেওয়া এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম কেটে দেওয়ার মতো নানা ষড়যন্ত্রমূলক ঘটনার শিকার হয়ে আসছেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

আসামের এই ধ্বংসযজ্ঞের সঙ্গে ১৯৯২ সালের ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ভাঙার ঘটনার তুলনা টেনে তিনি বলেন যে, এই ধরনের উগ্র কর্মকাণ্ড ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা এবং সাম্প্রদায়িক বিভাজনের পথকে আরও প্রশস্ত করছে। বর্তমান হিন্দুত্ববাদী প্রশাসনের অধীনে কেবল মুসলিমরাই নয়, বরং খ্রিষ্টান ও শিখসহ অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং দলিত বা নিম্নবর্ণের হিন্দুরাও চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং রাষ্ট্র তাদের সুরক্ষা দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানবাধিকার রক্ষা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

পরিশেষে নাহিদ ইসলাম জোর দিয়ে বলেন যে, জাতি, ধর্ম, বর্ণ কিংবা সাংস্কৃতিক পরিচয় যা-ই হোক না কেন, ভারতের প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার ও ন্যায়বিচার পাওয়ার পূর্ণ আইনি অধিকার রয়েছে। ভারত সরকারকে এই গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার জন্য আন্তর্জাতিক মহলের কাছে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে বলে তিনি দাবি জানান। সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত তথ্য এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোর উদ্বেগকে সামনে রেখে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ভারতের মাটিতে বসবাসরত মুসলিমরাও ওই দেশের সমান অংশীদার এবং তাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

ট্যাগস :

আনন্দ–বিষাদে দেবী দুর্গাকে বিদায়, বিসর্জন দেখতে কক্সবাজার সৈকতে লাখো মানুষের ঢল

আসামে মুসলিমদের ১১০০ ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার নিন্দা নাহিদ ইসলামের

আপডেট সময় ১১:৩০:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের আসাম রাজ্যে সাম্প্রতিক উচ্ছেদ অভিযانের নামে বাঙালি মুসলিমদের এক হাজার একশটিরও বেশি ঘরবাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। সম্প্রতি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি এই অমানবিক ঘটনার প্রতিবাদ জানান এবং মুসলিমরা যে ভারতেরই বৈধ নাগরিক, সেই বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, সরকারিভাবে বনভূমি ও সরকারি জমি উদ্ধারের অজুহাত দেখানো হলেও মূলত একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করেই এই ধরনের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে।

নাহিদ ইসলামের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই উচ্ছেদ অভিযানে কেবল বসতভিটেই ধ্বংস করা হয়নি, বরং এর পাশাপাশি দশটিরও বেশি মসজিদও ভেঙে ফেলা হয়েছে যার মধ্যে বেশ কয়েকটি অন্তত পঞ্চাশ বছরেরও বেশি পুরনো ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাসমূহ। ভারতীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে তিনি জানান যে, ক্ষতিগ্রস্ত বহু পরিবারের এই অঞ্চলের সঙ্গে বহু দশকের পুরনো নাড়ির টান রয়েছে এবং তারা দেশটির স্বাধীনতার পূর্ববর্তী সময় থেকেই সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করে আসছেন। অথচ কোনো ধরনের যথাযথ পুনর্বাসন কিংবা বিকল্প আশ্রয়ের ব্যবস্থা না করেই এসব অসহায় মানুষকে হঠাৎ করে গৃহহীন করে দেওয়া হয়েছে এবং অনেককে জোরপূর্বক আটককেন্দ্রেও নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, ভারতে বাঙালি মুসলিমদের ওপর যে ধারাবাহিক বৈষম্য ও নিপীড়নের ঘটনা ঘটছে, আসামের এই উচ্ছেদ অভিযান তারই একটি অংশমাত্র এবং হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির প্রভাবে সেখানকার পরিস্থিতি দিন দিন আরও বেশি আশঙ্কাজনক হয়ে উঠছে। বিগত এক দশকে দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে প্রায় উনিশ হাজার পরিবারকে এভাবেই জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করা হয়েছে বলে তিনি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন। বছরের পর বছর ধরে এই জনগোষ্ঠীর মানুষ রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন, জোর করে সীমান্ত পেরিয়ে অন্যত্রে ঠেলে দেওয়া এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম কেটে দেওয়ার মতো নানা ষড়যন্ত্রমূলক ঘটনার শিকার হয়ে আসছেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

আসামের এই ধ্বংসযজ্ঞের সঙ্গে ১৯৯২ সালের ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ভাঙার ঘটনার তুলনা টেনে তিনি বলেন যে, এই ধরনের উগ্র কর্মকাণ্ড ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা এবং সাম্প্রদায়িক বিভাজনের পথকে আরও প্রশস্ত করছে। বর্তমান হিন্দুত্ববাদী প্রশাসনের অধীনে কেবল মুসলিমরাই নয়, বরং খ্রিষ্টান ও শিখসহ অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং দলিত বা নিম্নবর্ণের হিন্দুরাও চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং রাষ্ট্র তাদের সুরক্ষা দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানবাধিকার রক্ষা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

পরিশেষে নাহিদ ইসলাম জোর দিয়ে বলেন যে, জাতি, ধর্ম, বর্ণ কিংবা সাংস্কৃতিক পরিচয় যা-ই হোক না কেন, ভারতের প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার ও ন্যায়বিচার পাওয়ার পূর্ণ আইনি অধিকার রয়েছে। ভারত সরকারকে এই গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার জন্য আন্তর্জাতিক মহলের কাছে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে বলে তিনি দাবি জানান। সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত তথ্য এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোর উদ্বেগকে সামনে রেখে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ভারতের মাটিতে বসবাসরত মুসলিমরাও ওই দেশের সমান অংশীদার এবং তাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।