আপডেট সময়
০৫:৩১:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
১
বার পড়া হয়েছে
তাঁবু-আউটডোর পণ্যে রপ্তানির নতুন সম্ভাবনা বাংলাদেশের
অর্থনীতি ডেস্ক: ঐতিহ্যবাহী তৈরি পোশাক খাতের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে তাঁবু ও আউটডোর সরঞ্জাম শিল্প। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপের দেশগুলোতে ক্যাম্পিং এবং আউটডোর বিনোদন সামগ্রীর চাহিদা ক্রমাগত বাড়ার ফলে বাংলাদেশে এই খাতের উৎপাদন সক্ষমতা ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান ও হংকংয়ের মতো বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা বর্তমানে বাংলাদেশকে এসব পণ্য উৎপাদনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে বেছে নিচ্ছেন। বিশ্ববাজারে তাঁবু ও ক্যাম্পিং সরঞ্জাম রপ্তানির ক্ষেত্রে চীনের পরেই বাংলাদেশের অবস্থান এবং প্রতিযোগিতায় ভিয়েতনামের মতো দেশগুলোও পেছনে পড়ে গেছে। বৈশ্বিক এই ক্রমবর্ধমান চাহিদা কাজে লাগিয়ে দেশের রপ্তানি পণ্য বহুমুখীকরণের ধারাকে আরও সুদৃঢ় করার দারুণ সুযোগ তৈরি হয়েছে।রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো এবং জাতিসংঘ কমট্রেডের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে তাঁবু ও ক্যাম্পিং সামগ্রী রপ্তানি করে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন অর্থবছরে কোটি কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে এবং বর্তমানে বিশ্বের ৪৯টি দেশে এই বাংলাদেশি পণ্যগুলো পাঠানো হচ্ছে। বিশেষ করে সিনথেটিক ফাইবারের তৈরি তাঁবুর পাশাপাশি ক্যাম্পিং সরঞ্জাম, তারপলিন ও বিভিন্ন ধরনের ছাউনি রপ্তানির পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে। বাংলাদেশের উৎপাদিত এসব পণ্যের সবচেয়ে বড় গন্তব্য হলো যুক্তরাষ্ট্র, এছাড়া ফ্রান্স, কানাডা, স্পেন ও যুক্তরাজ্যেও বিপুল পরিমাণে তাঁবু ও আউটডোর সরঞ্জাম রপ্তানি করা হচ্ছে। মহামারী পরবর্তী সময়ে বিশ্ববাজারে চাহিদা পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে এই খাতটি এখন দেশের অর্থনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।এই খাতের এই অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে দেশের রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলগুলোতে বিদেশি বিনিয়োগের জোয়ার বড় ভূমিকা রেখেছে। বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষের অধীনে বর্তমানে ১৪টি সক্রিয় কারখানা এই শিল্পে পণ্য উৎপাদন করছে এবং বিগত কয়েক বছরে বেশ কিছু নতুন বিনিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া, হংকং, তাইওয়ান ও ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডসভিত্তিক বিভিন্ন বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রামে ও বিভিন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চলে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করে কারখানা স্থাপন ও সম্প্রসারণ করছে। এইচকেডি ইন্টারন্যাশনাল, ক্যাম্পভ্যালি গ্লোবাল লিমিটেডের মতো শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো লক্ষ লক্ষ তাঁবু, স্লিপিং ব্যাগ, ক্যাম্পিং চেয়ার ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম তৈরি করে বিশ্বজুড়ে রপ্তানি করছে। বিনিয়োগকারীদের মতে, বাংলাদেশের অনুকূল পরিবেশ এবং যথাযথ প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা এই খাতের বৈশ্বিক সম্প্রসারণকে আরও ত্বরান্বিত করেছে।তবে এতসব সম্ভাবনার মধ্যেও এই শিল্পের টেকসই বিকাশের ক্ষেত্রে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে কাঁচামালের আমদানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা। তাঁবু তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিশেষায়িত ফেব্রিক, কাঠামোগত পোল, জিপার এবং অন্যান্য ফিটিংসের বড় একটি অংশ বিদেশ থেকে আনতে হয়, যা উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দেয়। খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, স্থানীয় পর্যায়ে কাঁচামালের উৎপাদন বৃদ্ধি, প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ আরও সুনিশ্চিত করা গেলে এই শিল্প আরও বহুদূর এগিয়ে যাবে। অদূর ভবিষ্যতে তাঁবু ও আউটডোর সরঞ্জাম শিল্প কেবল রপ্তানি আয় বৃদ্ধিই নয়, বরং দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রেও একটি অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠবে।
অর্থনীতি ডেস্ক: ঐতিহ্যবাহী তৈরি পোশাক খাতের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে তাঁবু ও আউটডোর সরঞ্জাম শিল্প। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপের দেশগুলোতে ক্যাম্পিং এবং আউটডোর বিনোদন সামগ্রীর চাহিদা ক্রমাগত বাড়ার ফলে বাংলাদেশে এই খাতের উৎপাদন সক্ষমতা ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান ও হংকংয়ের মতো বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা বর্তমানে বাংলাদেশকে এসব পণ্য উৎপাদনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে বেছে নিচ্ছেন। বিশ্ববাজারে তাঁবু ও ক্যাম্পিং সরঞ্জাম রপ্তানির ক্ষেত্রে চীনের পরেই বাংলাদেশের অবস্থান এবং প্রতিযোগিতায় ভিয়েতনামের মতো দেশগুলোও পেছনে পড়ে গেছে। বৈশ্বিক এই ক্রমবর্ধমান চাহিদা কাজে লাগিয়ে দেশের রপ্তানি পণ্য বহুমুখীকরণের ধারাকে আরও সুদৃঢ় করার দারুণ সুযোগ তৈরি হয়েছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো এবং জাতিসংঘ কমট্রেডের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে তাঁবু ও ক্যাম্পিং সামগ্রী রপ্তানি করে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন অর্থবছরে কোটি কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে এবং বর্তমানে বিশ্বের ৪৯টি দেশে এই বাংলাদেশি পণ্যগুলো পাঠানো হচ্ছে। বিশেষ করে সিনথেটিক ফাইবারের তৈরি তাঁবুর পাশাপাশি ক্যাম্পিং সরঞ্জাম, তারপলিন ও বিভিন্ন ধরনের ছাউনি রপ্তানির পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে। বাংলাদেশের উৎপাদিত এসব পণ্যের সবচেয়ে বড় গন্তব্য হলো যুক্তরাষ্ট্র, এছাড়া ফ্রান্স, কানাডা, স্পেন ও যুক্তরাজ্যেও বিপুল পরিমাণে তাঁবু ও আউটডোর সরঞ্জাম রপ্তানি করা হচ্ছে। মহামারী পরবর্তী সময়ে বিশ্ববাজারে চাহিদা পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে এই খাতটি এখন দেশের অর্থনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
এই খাতের এই অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে দেশের রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলগুলোতে বিদেশি বিনিয়োগের জোয়ার বড় ভূমিকা রেখেছে। বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষের অধীনে বর্তমানে ১৪টি সক্রিয় কারখানা এই শিল্পে পণ্য উৎপাদন করছে এবং বিগত কয়েক বছরে বেশ কিছু নতুন বিনিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া, হংকং, তাইওয়ান ও ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডসভিত্তিক বিভিন্ন বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রামে ও বিভিন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চলে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করে কারখানা স্থাপন ও সম্প্রসারণ করছে। এইচকেডি ইন্টারন্যাশনাল, ক্যাম্পভ্যালি গ্লোবাল লিমিটেডের মতো শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো লক্ষ লক্ষ তাঁবু, স্লিপিং ব্যাগ, ক্যাম্পিং চেয়ার ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম তৈরি করে বিশ্বজুড়ে রপ্তানি করছে। বিনিয়োগকারীদের মতে, বাংলাদেশের অনুকূল পরিবেশ এবং যথাযথ প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা এই খাতের বৈশ্বিক সম্প্রসারণকে আরও ত্বরান্বিত করেছে।
তবে এতসব সম্ভাবনার মধ্যেও এই শিল্পের টেকসই বিকাশের ক্ষেত্রে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে কাঁচামালের আমদানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা। তাঁবু তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিশেষায়িত ফেব্রিক, কাঠামোগত পোল, জিপার এবং অন্যান্য ফিটিংসের বড় একটি অংশ বিদেশ থেকে আনতে হয়, যা উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দেয়। খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, স্থানীয় পর্যায়ে কাঁচামালের উৎপাদন বৃদ্ধি, প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ আরও সুনিশ্চিত করা গেলে এই শিল্প আরও বহুদূর এগিয়ে যাবে। অদূর ভবিষ্যতে তাঁবু ও আউটডোর সরঞ্জাম শিল্প কেবল রপ্তানি আয় বৃদ্ধিই নয়, বরং দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রেও একটি অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠবে।