ঢাকা ০২:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
Logo স্বাধীনতার কথা বলে দিল্লির কৃতদাসত্ব করেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকার: রুহুল কবির রিজভী Logo ৫৮ বছর পর রিয়ালের কীর্তি ছুঁয়ে বার্সেলোনার ‘নয়ে নয়’ Logo এবার জমবে কি পার্থ–নীহার রসায়ন Logo বিএনপি নিজেদের ঘোষিত সংস্কার কর্মসূচির সঙ্গে প্রতারণা করছে: সারোয়ার তুষার Logo প্রার্থনা আর পুষ্পাঞ্জলিতে মহাসপ্তমী Logo ‘লালনের জীবনদর্শন ছড়িয়ে পড়ুক সারা দেশে’ Logo লাগামছাড়া দ্রব্যমূল্যের ক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স Logo অস্ত্র নিয়ে কাউকে ভয় দেখাইনি, সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলছি: ইশরাক Logo প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর দুই দেশের সম্পর্ক উচ্চতর পর্যায়ে উন্নীত করবে: জহির উদ্দিন স্বপন Logo ইইউতে পোশাক রপ্তানি কমেছে বাংলাদেশের, বেড়েছে চীনের
প্রতিনিধি নিয়োগঃ
এটি একটি প্রিন্টভার্ষণ পত্রিকার ওয়েবসাইট। সারাদেশে জেলা উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। আগ্রহীদের শুধুমাত্র ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করার জন্য বলা হইলো। -বার্তা সম্পাদক।

লাগামছাড়া দ্রব্যমূল্যের ক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১২:৩১:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে চলা দীর্ঘ আন্দোলনের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার লাগামহীন পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণের দাবিতে রাজপথে নেমেছে ফরাসি জনগণ। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের আকাশচুম্বী মূল্যের প্রতিবাদে সম্প্রতি দেশটির বিভিন্ন শহরে প্রায় ৩২ হাজার মানুষ বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন। সরকারের ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির এই কর্মসূচিতে সাধারণ নাগরিকদের পাশাপাশি বিভিন্ন পেশার মানুষও যোগ দেন। তবে এই আন্দোলন ঘিরে বেশ কিছু স্থানে তীব্র অসন্তোষ ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়, যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্রান্সের প্রায় ১৪০টি পৃথক স্থানে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। রাজধানী প্যারিসের রাজপথে মুখোশধারী কিছু বিক্ষোভকারী ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের চেষ্টা চালালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও জলকামান নিক্ষেপ করে। এছাড়া দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মার্সেইয়ের টাউন হলের মূল দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন আন্দোলনকারীরা। পরবর্তীতে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে অন্তত ১৬০ জনকে আটক করে।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষ তাদের চরম অর্থনৈতিক সংকটের কথা তুলে ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ফরাসি নাগরিক জানান, জিনিসপত্রের দাম যেভাবে বাড়ছে সেই তুলনায় আয়ের পরিমাণ একই রয়ে গেছে, যার ফলে মাসের মাঝামাঝি আসতেই সবার পকেট শূন্য হয়ে পড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই মূল্যস্ফীতির কারণে তাদের জীবনযাত্রা প্রায় থমকে গেছে। চলতি বছর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য অস্থিতিশীল হয়ে ওঠায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বহুলাংশে বেড়ে গেছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, ফ্রান্সের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাসের পেছনে বহুমুখী সংকট কাজ করছে। বিশেষ করে চলতি বছর আন্তর্জাতিক পরিসরে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার ফলে জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। একই সঙ্গে দেশটির ওপর সরকারি ঋণের বোঝা দিন দিন ভারী হচ্ছে এবং আগামী বছর নাগাদ এই ঋণের পরিমাণ মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১২০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের অর্থনীতিকে এই সংকট থেকে বাঁচাতে হলে ব্যাপকভিত্তিক কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।

ধারাবাহিক এসব বিক্ষোভ ও জনরোষ ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর সরকারের ওপর বড় ধরনের রাজনৈতিক চাপ তৈরি করেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের সব পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। শান্তিপূর্ণ উপায়ে প্রতিবাদ জানানো প্রতিটি নাগরিকের গণতান্ত্রিক অধিকার হলেও জননিরাপত্তা এবং রাষ্ট্রীয় বা ব্যক্তিগত সম্পত্তি সুরক্ষার বিষয়টি মাথায় রাখার তাগিদ দিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট। তবে সরকারের পক্ষ থেকে উল্লেখযোগ্য কোনো অর্থনৈতিক স্বস্তি না মিললে এই আন্দোলন আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

ট্যাগস :

স্বাধীনতার কথা বলে দিল্লির কৃতদাসত্ব করেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকার: রুহুল কবির রিজভী

লাগামছাড়া দ্রব্যমূল্যের ক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স

আপডেট সময় ১২:৩১:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে চলা দীর্ঘ আন্দোলনের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার লাগামহীন পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণের দাবিতে রাজপথে নেমেছে ফরাসি জনগণ। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের আকাশচুম্বী মূল্যের প্রতিবাদে সম্প্রতি দেশটির বিভিন্ন শহরে প্রায় ৩২ হাজার মানুষ বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন। সরকারের ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির এই কর্মসূচিতে সাধারণ নাগরিকদের পাশাপাশি বিভিন্ন পেশার মানুষও যোগ দেন। তবে এই আন্দোলন ঘিরে বেশ কিছু স্থানে তীব্র অসন্তোষ ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়, যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্রান্সের প্রায় ১৪০টি পৃথক স্থানে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। রাজধানী প্যারিসের রাজপথে মুখোশধারী কিছু বিক্ষোভকারী ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের চেষ্টা চালালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও জলকামান নিক্ষেপ করে। এছাড়া দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মার্সেইয়ের টাউন হলের মূল দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন আন্দোলনকারীরা। পরবর্তীতে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে অন্তত ১৬০ জনকে আটক করে।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষ তাদের চরম অর্থনৈতিক সংকটের কথা তুলে ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ফরাসি নাগরিক জানান, জিনিসপত্রের দাম যেভাবে বাড়ছে সেই তুলনায় আয়ের পরিমাণ একই রয়ে গেছে, যার ফলে মাসের মাঝামাঝি আসতেই সবার পকেট শূন্য হয়ে পড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই মূল্যস্ফীতির কারণে তাদের জীবনযাত্রা প্রায় থমকে গেছে। চলতি বছর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য অস্থিতিশীল হয়ে ওঠায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বহুলাংশে বেড়ে গেছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, ফ্রান্সের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাসের পেছনে বহুমুখী সংকট কাজ করছে। বিশেষ করে চলতি বছর আন্তর্জাতিক পরিসরে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার ফলে জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। একই সঙ্গে দেশটির ওপর সরকারি ঋণের বোঝা দিন দিন ভারী হচ্ছে এবং আগামী বছর নাগাদ এই ঋণের পরিমাণ মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১২০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের অর্থনীতিকে এই সংকট থেকে বাঁচাতে হলে ব্যাপকভিত্তিক কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।

ধারাবাহিক এসব বিক্ষোভ ও জনরোষ ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর সরকারের ওপর বড় ধরনের রাজনৈতিক চাপ তৈরি করেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের সব পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। শান্তিপূর্ণ উপায়ে প্রতিবাদ জানানো প্রতিটি নাগরিকের গণতান্ত্রিক অধিকার হলেও জননিরাপত্তা এবং রাষ্ট্রীয় বা ব্যক্তিগত সম্পত্তি সুরক্ষার বিষয়টি মাথায় রাখার তাগিদ দিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট। তবে সরকারের পক্ষ থেকে উল্লেখযোগ্য কোনো অর্থনৈতিক স্বস্তি না মিললে এই আন্দোলন আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।