ঢাকা ০৮:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
Logo যৌনকর্মীদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি Logo জ্বালানি সংকটের টেকসই সমাধান: বিশেষজ্ঞদের ভাবনা | পর্ব–০২ Logo বই পড়তে পড়তে ডিজে মিউজিক, জাপানে নতুন ট্রেন্ড ‘বুক রেভ’ Logo বকশীগঞ্জে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান, ড্রেজার জব্দ Logo সুখে থাকতে আসলে কী লাগে? Logo পূজার ছুটিতে সাজেক কি খুলবে, যা জানা গেল Logo দুর্গোৎসবের আবাহনে শরৎ, স্মৃতির অলিন্দে চরনারচর Logo চলচ্চিত্রে দ্বিতীয় ইনিংসের প্রস্তুতি ফারুকীর, জানালেন নিজেকে নতুন করে আবিষ্কারের কথা Logo পূজার ছুটিতেই বদলে ফেলুন সকালের অভ্যাস; জেনে নিন, সকালে যা করবেন, যা করবেন না Logo আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেল বাংলাদেশ কালিনারি ফাউন্ডেশন, বিশ্বমঞ্চে বাড়বে দেশীয় শেফদের সুযোগ
প্রতিনিধি নিয়োগঃ
এটি একটি প্রিন্টভার্ষণ পত্রিকার ওয়েবসাইট। সারাদেশে জেলা উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। আগ্রহীদের শুধুমাত্র ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করার জন্য বলা হইলো। -বার্তা সম্পাদক।

পূজার ছুটিতে সাজেক কি খুলবে, যা জানা গেল

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৭:৩১:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় ডেস্ক: রাঙামাটির জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেকে দর্শনার্থীদের যাতায়াতে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা এবং নতুন করে সড়ক অবরোধের ঘোষণায় বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দুর্গাপূজার দীর্ঘ ছুটি সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকেরা পাহাড়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিলেও সার্বিক পরিস্থিতির কারণে এখন তারা বুকিং বাতিল করছেন। এতে হোটেল, রিসোর্ট ও পরিবহন খাতের ব্যবসায়ীরা চরম লোকসানের আশঙ্কা করছেন এবং তাদের মাথায় হাত পড়েছে। পর্যটন মৌসুমের ঠিক এই সময়ে এমন অচলাবস্থার কারণে পাহাড়ের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, পূজার ছুটির দিনগুলোতে স্থানীয় কটেজ ও রিসোর্টগুলোতে শতভাগ বুকিং নিশ্চিত করা হয়েছিল। কিন্তু প্রশাসনের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং আঞ্চলিক সংগঠনের পক্ষ থেকে নতুন করে অবরোধ ডাকার কারণে পর্যটকেরা বুকিং বাতিল করতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেক রিসোর্টের মালিককে ইতোমধ্যে আগাম নেওয়া বুকিংয়ের টাকা ফেরত দিতে হচ্ছে, যার পরিমাণ লাখ লাখ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। সাজেক জুমঘর রিসোর্ট এবং খোয়াল বুক রিসোর্টের ব্যবস্থাপকেরা জানিয়েছেন, ব্যবসার মূল মৌসুমে পর্যটক না থাকায় তাদের বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি গুনতে হচ্ছে।

স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সাময়িকভাবে সাজেকে পর্যটক প্রবেশাধিকার বন্ধ রাখা হয়েছে। এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে আসার সঙ্গে সঙ্গেই পর্যটনকেন্দ্রটি আবার খুলে দেওয়া হবে বলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন নামক দুটি স্থানীয় সংগঠন প্রশাসনের পূর্বের আশ্বাসের বাস্তবায়ন না হওয়ার অভিযোগ এনে নতুন করে সড়ক অবরোধের ডাক দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

এদিকে সাজেক পর্যটনকেন্দ্র দ্রুত খুলে দেওয়া এবং পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে খাগড়াছড়ি শহরে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শ্রমিকেরা। অবিলম্বে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা না হলে আরও কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার হুশিয়ারি দিয়েছেন তারা। সাজেকের পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল দিনমজুর, পরিবহন শ্রমিক এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা দ্রুত এই সংকটের অবসান চান। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রশাসন ও স্থানীয় সংগঠনগুলোর আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত একটি স্থায়ী সমাধান বের করা না হলে পাহাড়ের পর্যটন শিল্প দীর্ঘমেয়াদি বিপর্যয়ের মুখে পড়ব।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

যৌনকর্মীদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি

পূজার ছুটিতে সাজেক কি খুলবে, যা জানা গেল

আপডেট সময় ০৭:৩১:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

জাতীয় ডেস্ক: রাঙামাটির জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেকে দর্শনার্থীদের যাতায়াতে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা এবং নতুন করে সড়ক অবরোধের ঘোষণায় বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দুর্গাপূজার দীর্ঘ ছুটি সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকেরা পাহাড়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিলেও সার্বিক পরিস্থিতির কারণে এখন তারা বুকিং বাতিল করছেন। এতে হোটেল, রিসোর্ট ও পরিবহন খাতের ব্যবসায়ীরা চরম লোকসানের আশঙ্কা করছেন এবং তাদের মাথায় হাত পড়েছে। পর্যটন মৌসুমের ঠিক এই সময়ে এমন অচলাবস্থার কারণে পাহাড়ের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, পূজার ছুটির দিনগুলোতে স্থানীয় কটেজ ও রিসোর্টগুলোতে শতভাগ বুকিং নিশ্চিত করা হয়েছিল। কিন্তু প্রশাসনের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং আঞ্চলিক সংগঠনের পক্ষ থেকে নতুন করে অবরোধ ডাকার কারণে পর্যটকেরা বুকিং বাতিল করতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেক রিসোর্টের মালিককে ইতোমধ্যে আগাম নেওয়া বুকিংয়ের টাকা ফেরত দিতে হচ্ছে, যার পরিমাণ লাখ লাখ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। সাজেক জুমঘর রিসোর্ট এবং খোয়াল বুক রিসোর্টের ব্যবস্থাপকেরা জানিয়েছেন, ব্যবসার মূল মৌসুমে পর্যটক না থাকায় তাদের বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি গুনতে হচ্ছে।

স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সাময়িকভাবে সাজেকে পর্যটক প্রবেশাধিকার বন্ধ রাখা হয়েছে। এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে আসার সঙ্গে সঙ্গেই পর্যটনকেন্দ্রটি আবার খুলে দেওয়া হবে বলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন নামক দুটি স্থানীয় সংগঠন প্রশাসনের পূর্বের আশ্বাসের বাস্তবায়ন না হওয়ার অভিযোগ এনে নতুন করে সড়ক অবরোধের ডাক দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

এদিকে সাজেক পর্যটনকেন্দ্র দ্রুত খুলে দেওয়া এবং পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে খাগড়াছড়ি শহরে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শ্রমিকেরা। অবিলম্বে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা না হলে আরও কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার হুশিয়ারি দিয়েছেন তারা। সাজেকের পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল দিনমজুর, পরিবহন শ্রমিক এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা দ্রুত এই সংকটের অবসান চান। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রশাসন ও স্থানীয় সংগঠনগুলোর আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত একটি স্থায়ী সমাধান বের করা না হলে পাহাড়ের পর্যটন শিল্প দীর্ঘমেয়াদি বিপর্যয়ের মুখে পড়ব।