ঢাকা ০৩:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
Logo চরফ্যাশনে ৪৫৫ একর জমি নিয়ে বিপাকে ২৩০ ভূমিহীন পরিবার, এমপির কাছে আবেদন Logo ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল থেকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা আটক Logo কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীসহ আটক-গ্রেপ্তার ৪৯ জন Logo অবিশ্বাস্য কম মূল্যে বারডেমে ক্যানসার পরীক্ষা, জানা যাচ্ছে চিকিৎসার ধরনও Logo দুই হাত নেই, পা দিয়ে লিখে এসএসসি-এইচএসসিতে জিপিএ-৫ Logo পায়রা বন্দরে বিদেশি জাহাজ আসা কমছে Logo ভারতের মধ্যে প্রথম কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত হবে ম্যাজিক ইনস্টিটিউট Logo উড়োজাহাজ কেনার চুক্তির আগে সম্ভাব্যতা যাচাই হয়েছে কি না, সংসদীয় কমিটিতে প্রশ্ন Logo ‘ট্রাইব্যুনালে শুধু পলাতক আসামিদের বিচার হয়’—জামায়াত নেতার এমন বক্তব্য অসত্য: প্রসিকিউটর Logo ১৪ বছর পর অ্যানফিল্ড জয় করে শীর্ষে আর্সেনাল
প্রতিনিধি নিয়োগঃ
এটি একটি প্রিন্টভার্ষণ পত্রিকার ওয়েবসাইট। সারাদেশে জেলা উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। আগ্রহীদের শুধুমাত্র ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করার জন্য বলা হইলো। -বার্তা সম্পাদক।

চরফ্যাশনে ৪৫৫ একর জমি নিয়ে বিপাকে ২৩০ ভূমিহীন পরিবার, এমপির কাছে আবেদন

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৩:৩০:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
  • ০ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় ডেস্ক: ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার দক্ষিণ আইচা এলাকায় সরকারের পক্ষ থেকে বন্দোবস্ত পাওয়া প্রায় সাড়ে চার শ একর জমি একটি প্রভাবশালী মহলের কব্জায় চলে গেছে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে ওই জমিতে চাষাবাদ করতে না পেরে চরম অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন অন্তত দুই শ ত্রিশটি ভূমিহীন পরিবার। সরকারের নিয়ম অনুযায়ী বৈধ কাগজপত্র পাওয়ার পরও প্রভাবশালী চক্রের কারসাজিতে নিজেদের জমি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন এসব অসহায় মানুষ। জমির আইনগত অধিকার ও জীবনের নিরাপত্তা ফিরে পেতে অবশেষে স্থানীয় সংসদ সদস্যের দ্বারস্থ হয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দুই হাজার চার থেকে দুই হাজার পাঁচ অর্থবছরে সরকারি নিয়মনীতি অনুসরণ করে চরফ্যাশন উপজেলার ১০১ নম্বর চর আইচা মৌজার সংশ্লিষ্ট শিটে দুই শ ত্রিশ জন ভূমিহীন ব্যক্তির নামে প্রায় চার শ পঞ্চান্ন একর জমি বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছিল। বৈধভাবে এই সম্পত্তি পাওয়ার পর থেকে দরিদ্র প্রজারা নিয়মিত সরকারি কোষাগারে খাজনা পরিশোধ করে শান্তিপূর্ণভাবে চাষাবাদ ও বসবাস করে আসছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী ও বিত্তশালী মহল ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে জবরদখলের মাধ্যমে এই বিশাল পরিমাণ জমি নিজেদের আয়ত্তে নিয়ে নেয়।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন যে জমি আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে অভিযুক্তরা নামে-বেনামে নানা জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন এবং অসহায় পরিবারগুলোর জীবিকা হুমকির মুখে ফেলেছেন। স্থানীয়ভাবে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে একাধিকবার সালিশি বৈঠক ও মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও প্রভাবশালীরা কোনো তোয়াক্কা করেননি। উল্টো তাঁরা জমির প্রকৃত মালিকদের নানা ধরনের হুমকি দিয়ে এলাকাছাড়া করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এই চক্রের নেতৃত্বে গ্রাম পুলিশসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত রয়েছেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

এদিকে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে তাঁরা যে জমিতে চাষাবাদ করছেন, তা অভিযোগকারীদের নয় বরং ভিন্ন মৌজার সম্পত্তি। অন্যদিকে দক্ষিণ আইচা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে সংসদ সদস্যের নির্দেশক্রমে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং উভয় পক্ষকে থানায় ডেকে কাগজপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই দীর্ঘদিনের বিরোধের অবসান ঘটিয়ে দ্রুত প্রকৃত ভূমিহীনদের হাতে তাঁদের জমি বুঝিয়ে দেওয়া হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

চরফ্যাশনে ৪৫৫ একর জমি নিয়ে বিপাকে ২৩০ ভূমিহীন পরিবার, এমপির কাছে আবেদন

চরফ্যাশনে ৪৫৫ একর জমি নিয়ে বিপাকে ২৩০ ভূমিহীন পরিবার, এমপির কাছে আবেদন

আপডেট সময় ০৩:৩০:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

জাতীয় ডেস্ক: ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার দক্ষিণ আইচা এলাকায় সরকারের পক্ষ থেকে বন্দোবস্ত পাওয়া প্রায় সাড়ে চার শ একর জমি একটি প্রভাবশালী মহলের কব্জায় চলে গেছে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে ওই জমিতে চাষাবাদ করতে না পেরে চরম অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন অন্তত দুই শ ত্রিশটি ভূমিহীন পরিবার। সরকারের নিয়ম অনুযায়ী বৈধ কাগজপত্র পাওয়ার পরও প্রভাবশালী চক্রের কারসাজিতে নিজেদের জমি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন এসব অসহায় মানুষ। জমির আইনগত অধিকার ও জীবনের নিরাপত্তা ফিরে পেতে অবশেষে স্থানীয় সংসদ সদস্যের দ্বারস্থ হয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দুই হাজার চার থেকে দুই হাজার পাঁচ অর্থবছরে সরকারি নিয়মনীতি অনুসরণ করে চরফ্যাশন উপজেলার ১০১ নম্বর চর আইচা মৌজার সংশ্লিষ্ট শিটে দুই শ ত্রিশ জন ভূমিহীন ব্যক্তির নামে প্রায় চার শ পঞ্চান্ন একর জমি বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছিল। বৈধভাবে এই সম্পত্তি পাওয়ার পর থেকে দরিদ্র প্রজারা নিয়মিত সরকারি কোষাগারে খাজনা পরিশোধ করে শান্তিপূর্ণভাবে চাষাবাদ ও বসবাস করে আসছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী ও বিত্তশালী মহল ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে জবরদখলের মাধ্যমে এই বিশাল পরিমাণ জমি নিজেদের আয়ত্তে নিয়ে নেয়।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন যে জমি আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে অভিযুক্তরা নামে-বেনামে নানা জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন এবং অসহায় পরিবারগুলোর জীবিকা হুমকির মুখে ফেলেছেন। স্থানীয়ভাবে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে একাধিকবার সালিশি বৈঠক ও মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও প্রভাবশালীরা কোনো তোয়াক্কা করেননি। উল্টো তাঁরা জমির প্রকৃত মালিকদের নানা ধরনের হুমকি দিয়ে এলাকাছাড়া করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এই চক্রের নেতৃত্বে গ্রাম পুলিশসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত রয়েছেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

এদিকে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে তাঁরা যে জমিতে চাষাবাদ করছেন, তা অভিযোগকারীদের নয় বরং ভিন্ন মৌজার সম্পত্তি। অন্যদিকে দক্ষিণ আইচা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে সংসদ সদস্যের নির্দেশক্রমে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং উভয় পক্ষকে থানায় ডেকে কাগজপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই দীর্ঘদিনের বিরোধের অবসান ঘটিয়ে দ্রুত প্রকৃত ভূমিহীনদের হাতে তাঁদের জমি বুঝিয়ে দেওয়া হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।