ঢাকা ০৯:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগঃ
এটি একটি প্রিন্টভার্ষণ পত্রিকার ওয়েবসাইট। সারাদেশে জেলা উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। আগ্রহীদের শুধুমাত্র ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করার জন্য বলা হইলো। -বার্তা সম্পাদক।

৪টি লাউ বিক্রি ১ টাকায়!

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৭:৩০:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

অর্থনীতি ডেস্ক: পঞ্চগড় জেলায় লাউয়ের বাম্পার ফলন হলেও কৃষকদের মুখে হাসি নেই, বরং বাজারে আশঙ্কাজনক দরপতনের কারণে তাঁদের মাথায় হাত উঠেছে। জেলার আটোয়ারী উপজেলার বিভিন্ন বাজারে বর্তমানে অবিশ্বাস্য মূল্যে শাকসবজিটি বিক্রি হচ্ছে, যেখানে মাত্র এক টাকায় মিলছে চারটি লাউ। ফলন ভালো হওয়া সত্ত্বেও দাম না পাওয়ায় চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন এই অঞ্চলের কৃষকরা। স্থানীয় উৎপাদকরা জানান, বাজারে লাউ বিক্রি করতে এসে উৎপাদন খরচ তো দূরের কথা, যাতায়াত ভাড়াও উঠছে না।

আটোয়ারী উপজেলার তোরেয়া এলাকার কৃষক আবদুল কাদেরের অভিজ্ঞতা থেকে এই করুণ চিত্র আরও স্পষ্ট হয়। তিনি সম্প্রতি ১০০ টাকা অটোরিকশা ভাড়া দিয়ে বাজারে লাউ নিয়ে গিয়ে মাত্র ১২০ টাকায় বিক্রি করতে পেরেছেন। অর্থাৎ সারাদিনের পরিশ্রম ও পরিবহন খরচ বাদ দিয়ে তাঁর হাতে মোটে ২০ টাকা লাভ থাকে। এমন পরিস্থিতির মুখে পড়ে অনেক চাষি এখন আর ক্ষেত থেকে লাউ তুলছেন না কিংবা ফসলের বাড়তি পরিচর্যা করাও বন্ধ করে দিয়েছেন।

সবজির এই অস্বাভাবিক দাম পতনের পেছনে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকেও একই ধরনের উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছে। আটোয়ারীর লাউ ব্যবসায়ী সাজ্জাত হোসেন বলেন, পঞ্চগড় থেকে সবজি সংগ্রহ করে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হলেও সেখানেও দাম অনেক কম। সারা দেশ থেকেই পর্যাপ্ত লাউ আসায় রাজধানীতে এর চাহিদা ও দাম দুটোই কমে গেছে। ফলে সংগ্রহ খরচ, শ্রমিক ও পরিবহন ব্যয় মেটানোর পর ব্যবসায়ীদের পক্ষেও লাভ করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এক বিঘা জমিতে লাউ চাষ করতে জমি প্রস্তুত, বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের মজুরি বাবদ ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়। অথচ বর্তমান বাজারে এক বিঘা জমির উৎপাদিত লাউ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৩ থেকে ৫ হাজার টাকায়। আগের বছরগুলোতে একই পরিমাণ জমির ফসল ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করা গেলেও এবার পুঁজি হারানোর আশঙ্কায় কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এমতাবস্থায় কৃষকদের বাঁচাতে ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা।

ট্যাগস :

৪টি লাউ বিক্রি ১ টাকায়!

আপডেট সময় ০৭:৩০:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

অর্থনীতি ডেস্ক: পঞ্চগড় জেলায় লাউয়ের বাম্পার ফলন হলেও কৃষকদের মুখে হাসি নেই, বরং বাজারে আশঙ্কাজনক দরপতনের কারণে তাঁদের মাথায় হাত উঠেছে। জেলার আটোয়ারী উপজেলার বিভিন্ন বাজারে বর্তমানে অবিশ্বাস্য মূল্যে শাকসবজিটি বিক্রি হচ্ছে, যেখানে মাত্র এক টাকায় মিলছে চারটি লাউ। ফলন ভালো হওয়া সত্ত্বেও দাম না পাওয়ায় চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন এই অঞ্চলের কৃষকরা। স্থানীয় উৎপাদকরা জানান, বাজারে লাউ বিক্রি করতে এসে উৎপাদন খরচ তো দূরের কথা, যাতায়াত ভাড়াও উঠছে না।

আটোয়ারী উপজেলার তোরেয়া এলাকার কৃষক আবদুল কাদেরের অভিজ্ঞতা থেকে এই করুণ চিত্র আরও স্পষ্ট হয়। তিনি সম্প্রতি ১০০ টাকা অটোরিকশা ভাড়া দিয়ে বাজারে লাউ নিয়ে গিয়ে মাত্র ১২০ টাকায় বিক্রি করতে পেরেছেন। অর্থাৎ সারাদিনের পরিশ্রম ও পরিবহন খরচ বাদ দিয়ে তাঁর হাতে মোটে ২০ টাকা লাভ থাকে। এমন পরিস্থিতির মুখে পড়ে অনেক চাষি এখন আর ক্ষেত থেকে লাউ তুলছেন না কিংবা ফসলের বাড়তি পরিচর্যা করাও বন্ধ করে দিয়েছেন।

সবজির এই অস্বাভাবিক দাম পতনের পেছনে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকেও একই ধরনের উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছে। আটোয়ারীর লাউ ব্যবসায়ী সাজ্জাত হোসেন বলেন, পঞ্চগড় থেকে সবজি সংগ্রহ করে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হলেও সেখানেও দাম অনেক কম। সারা দেশ থেকেই পর্যাপ্ত লাউ আসায় রাজধানীতে এর চাহিদা ও দাম দুটোই কমে গেছে। ফলে সংগ্রহ খরচ, শ্রমিক ও পরিবহন ব্যয় মেটানোর পর ব্যবসায়ীদের পক্ষেও লাভ করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এক বিঘা জমিতে লাউ চাষ করতে জমি প্রস্তুত, বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের মজুরি বাবদ ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়। অথচ বর্তমান বাজারে এক বিঘা জমির উৎপাদিত লাউ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৩ থেকে ৫ হাজার টাকায়। আগের বছরগুলোতে একই পরিমাণ জমির ফসল ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করা গেলেও এবার পুঁজি হারানোর আশঙ্কায় কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এমতাবস্থায় কৃষকদের বাঁচাতে ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা।