ঢাকা ০৮:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
Logo এখনই কেন দূরে তাকাচ্ছেন না নাজমুল Logo হাতে ব্যালন ডি’অর, মাথায় ব্যবসার বুদ্ধি—যেভাবে দুই ভুবনের ‘রাজা’ কেইন Logo হার্ভার্ডে সম্পূর্ণ অর্থায়নে ফেলোশিপের সুযোগ Logo এআইয়ের সঙ্গে করা চ্যাট ডিলিট করলেও সব ডিলিট হয় না Logo এআইয়ের পানি ব্যবহার নিয়ে স্যাম অল্টম্যানের দাবি কতটা সত্য Logo জীববৈচিত্র্য: প্লাস্টিক বর্জ্যে সয়লাব সুন্দরবন Logo পোশাক রপ্তানি বেড়েছে, পিছিয়ে উচ্চমূল্যের পণ্য Logo বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া আলোচনা: মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির পথে দুই দেশ Logo সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে না নেতানিয়াহু বা বিরোধী জোট, রেকর্ড সংখ্যক আসন পাচ্ছে আরব দলগুলো Logo প্রার্থী বাছাইয়ে এমপিদের নিয়ে চিন্তায় বিএনপি
প্রতিনিধি নিয়োগঃ
এটি একটি প্রিন্টভার্ষণ পত্রিকার ওয়েবসাইট। সারাদেশে জেলা উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। আগ্রহীদের শুধুমাত্র ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করার জন্য বলা হইলো। -বার্তা সম্পাদক।

সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে না নেতানিয়াহু বা বিরোধী জোট, রেকর্ড সংখ্যক আসন পাচ্ছে আরব দলগুলো

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৬:১৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচনে কোনো পক্ষই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি যা দেশটিতে নতুন রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত বিভিন্ন বুথফেরত জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট কিংবা তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ইচ্ছুক বিরোধী শিবির—কেউই সরকার গঠনের জাদুকরি সংখ্যা অর্জন করতে সক্ষম হয়নি। দেশটির প্রভাবশালী গণমাধ্যম দ্য জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, পার্লামেন্ট বা নেসেটে এককভাবে সরকার গঠন করতে হলে কমপক্ষে একষট্টিটি আসনের প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু প্রধান কোনো জোটই এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সফল হয়নি, যার ফলে ইসরাইলের রাজনীতিতে আবারও অচলাবস্থা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

জরিপগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট বড়জোর পঞ্চাশটি আসন পেতে পারে এবং বিরোধী জোটের আসনসংখ্যাও পঞ্চাশ থেকে বাহান্নটির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। তবে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি এককভাবে চব্বিশ থেকে পঁচিশটি আসন পেয়ে পরবর্তী পার্লামেন্টের সবচেয়ে বড় দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোটের দল একুশ থেকে তেইশটি আসন পেতে পারে। এই নির্বাচনে সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছে আরব দলগুলো, যারা সম্মিলিতভাবে রেকর্ড সতেরো থেকে আঠারোটি আসন পেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ফলে আগামী দিনে সরকার গঠনে এই আরব দলগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশের পরপরই বিরোধী শিবিরের নেতারা একে নিজেদের নৈতিক বিজয় হিসেবে দাবি করেছেন এবং নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে জনগণের অনাস্থার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন। বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোট এবং ইয়াইর লাপিদ উভয়েই মন্তব্য করেছেন যে, সাধারণ মানুষ বর্তমান সরকারের ওপর থেকে নিজেদের আস্থা সম্পূর্ণ হারিয়ে ফেলেছে। ডেমোক্র্যাটস পার্টির প্রধান ইয়াইর গোলান দেশটিতে একটি পরিবর্তন আনার ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন। তবে বিরোধী জোটের অনেক নেতাই আরব দলগুলোর সঙ্গে মিলে সরকার গঠনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়ায় বিকল্প প্রশাসন গঠন করা বেশ কঠিন হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে নেতানিয়াহুর জোটের শরিক অতি-গোঁড়া ইহুদি দল এবং উগ্র ডানপন্থী দলগুলো তাদের আগের অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা করছে। অতীতেও বুথফেরত জরিপের সঙ্গে চূড়ান্ত ফলাফলে বেশ কিছু অমিল দেখা গেছে, তাই সব ভোটের হিসাব চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। বিশ্লেষকদের মতে, দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতা না হলে ইসরায়েলে রাজনৈতিক সংকটের অবসান ঘটাতে শেষ পর্যন্ত আরেকটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রয়োজন হতে পারে। ২০২৩ সালের অক্টোবরের সংঘাতের পর থেকে দেশটিতে নেতানিয়াহুর জবাবদিহিতা ও নিরাপত্তা ব্যর্থতা নিয়ে তীব্র বিতর্ক চলছে, যা এই নির্বাচনের ফলাফলেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে।

ট্যাগস :

এখনই কেন দূরে তাকাচ্ছেন না নাজমুল

সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে না নেতানিয়াহু বা বিরোধী জোট, রেকর্ড সংখ্যক আসন পাচ্ছে আরব দলগুলো

আপডেট সময় ০৬:১৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচনে কোনো পক্ষই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি যা দেশটিতে নতুন রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত বিভিন্ন বুথফেরত জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট কিংবা তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ইচ্ছুক বিরোধী শিবির—কেউই সরকার গঠনের জাদুকরি সংখ্যা অর্জন করতে সক্ষম হয়নি। দেশটির প্রভাবশালী গণমাধ্যম দ্য জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, পার্লামেন্ট বা নেসেটে এককভাবে সরকার গঠন করতে হলে কমপক্ষে একষট্টিটি আসনের প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু প্রধান কোনো জোটই এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সফল হয়নি, যার ফলে ইসরাইলের রাজনীতিতে আবারও অচলাবস্থা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

জরিপগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট বড়জোর পঞ্চাশটি আসন পেতে পারে এবং বিরোধী জোটের আসনসংখ্যাও পঞ্চাশ থেকে বাহান্নটির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। তবে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি এককভাবে চব্বিশ থেকে পঁচিশটি আসন পেয়ে পরবর্তী পার্লামেন্টের সবচেয়ে বড় দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোটের দল একুশ থেকে তেইশটি আসন পেতে পারে। এই নির্বাচনে সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছে আরব দলগুলো, যারা সম্মিলিতভাবে রেকর্ড সতেরো থেকে আঠারোটি আসন পেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ফলে আগামী দিনে সরকার গঠনে এই আরব দলগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশের পরপরই বিরোধী শিবিরের নেতারা একে নিজেদের নৈতিক বিজয় হিসেবে দাবি করেছেন এবং নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে জনগণের অনাস্থার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন। বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোট এবং ইয়াইর লাপিদ উভয়েই মন্তব্য করেছেন যে, সাধারণ মানুষ বর্তমান সরকারের ওপর থেকে নিজেদের আস্থা সম্পূর্ণ হারিয়ে ফেলেছে। ডেমোক্র্যাটস পার্টির প্রধান ইয়াইর গোলান দেশটিতে একটি পরিবর্তন আনার ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন। তবে বিরোধী জোটের অনেক নেতাই আরব দলগুলোর সঙ্গে মিলে সরকার গঠনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়ায় বিকল্প প্রশাসন গঠন করা বেশ কঠিন হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে নেতানিয়াহুর জোটের শরিক অতি-গোঁড়া ইহুদি দল এবং উগ্র ডানপন্থী দলগুলো তাদের আগের অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা করছে। অতীতেও বুথফেরত জরিপের সঙ্গে চূড়ান্ত ফলাফলে বেশ কিছু অমিল দেখা গেছে, তাই সব ভোটের হিসাব চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। বিশ্লেষকদের মতে, দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতা না হলে ইসরায়েলে রাজনৈতিক সংকটের অবসান ঘটাতে শেষ পর্যন্ত আরেকটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রয়োজন হতে পারে। ২০২৩ সালের অক্টোবরের সংঘাতের পর থেকে দেশটিতে নেতানিয়াহুর জবাবদিহিতা ও নিরাপত্তা ব্যর্থতা নিয়ে তীব্র বিতর্ক চলছে, যা এই নির্বাচনের ফলাফলেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে।