ঢাকা ০১:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
Logo এমন ব্যাটিং করে কী আর ফাইনালে যাওয়া যায় Logo আনন্দ–বিষাদে দেবী দুর্গাকে বিদায়, বিসর্জন দেখতে কক্সবাজার সৈকতে লাখো মানুষের ঢল Logo ভারত সফরে রুবিও, কেন জামনগরে নজর যুক্তরাষ্ট্রের Logo রাজশাহীতে আখচাষিদের প্রণোদনা তালিকায় বিএনপির এমপি চাঁদের নাম, বিতর্ক তুঙ্গে Logo ‘নজিরবিহীন নিরাপত্তা ঝুঁকি থেকেই বদর প্রতিরক্ষা চুক্তি’ Logo চট্টগ্রাম বন্দর: ইজারার চুক্তি সংসদে আলোচিত হলো না কেন Logo ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ২০১৩ সালের গণআন্দোলনের ইতিহাস সংকলনের উদ্যোগ Logo দাম্মাম রুটে বিমানের ফ্লাইট চালু, ২৫ অক্টোবর থেকে রিয়াদে Logo আসামে মুসলিমদের ১১০০ ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার নিন্দা নাহিদ ইসলামের Logo ‘তারেক রহমান প্রতিশ্রুতি দিলে বাস্তবায়ন করেন, দুর্গাপূজার নিরাপত্তা তার প্রমাণ’
প্রতিনিধি নিয়োগঃ
এটি একটি প্রিন্টভার্ষণ পত্রিকার ওয়েবসাইট। সারাদেশে জেলা উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। আগ্রহীদের শুধুমাত্র ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করার জন্য বলা হইলো। -বার্তা সম্পাদক।

শৈশবের দুর্গাপূজা: আনন্দের এক অন্য জগৎ

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১১:০০:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

ফিচার ডেস্ক: ছোটবেলার দুর্গাপূজা মানেই ছিল আনন্দ, উচ্ছ্বাস আর গভীর আবেগের এক অনন্য উৎসবের আমেজ। সিরাজগঞ্জ শহরের পরিচিত পথঘাট, পূজামণ্ডপের রঙিন আলোকসজ্জা এবং নতুন পোশাক পরার প্রতীক্ষায় কেটে যেত পুরো বছর। হাতে তখন হয়তো অনেক কিছু ছিল না, কিন্তু মন ভরা ছিল অফুরন্ত কৌতূহল ও সরল স্বপ্নে। সামান্য একটি নতুন জামা কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে মেলার মাঠে ঘুরে বেড়ানোই ছিল জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

স্কুল ছুটির পর মা দুর্গার প্রতিমা তৈরির কাজ দেখতে ছুটে যাওয়া ছিল এক বিস্ময়কর অভিজ্ঞতা। বাঁশের কাঠামো থেকে শুরু করে খড়, মাটি আর সূক্ষ্ম শিল্পকর্মের মাধ্যমে দেবীকে রূপ দেওয়ার প্রতিটি ধাপ মুগ্ধতা ছড়াত শিশু মনে। মৃৎশিল্পীর হাতের ছোঁয়ায় মাটির শরীরে ধীরে ধীরে প্রাণ প্রতিষ্ঠার সেই দৃশ্যগুলো উৎসবের আমেজ শুরু করে দিত অনেক আগেই। সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন মণ্ডপে বন্ধুদের সঙ্গে দল বেঁধে ঘুরে বেড়ানো এবং আলোকসজ্জার প্রতিযোগিতা সেই দিনগুলোকে আরও রঙিন করে তুলেছিল।

যমুনার পাড়ের বিসর্জনের মেলা এবং আসবাবপত্রের বড় বাজার এই উৎসবের আনন্দকে অন্য মাত্রা দিত। নদীর ঘাটের কোলাহল, নানা দোকানপাটের সমাহার এবং মানুষের উপচে পড়া ভিড় শিশু-কিশোরদের মনে দারুণ রোমাঞ্চ তৈরি করত। সময়ের সঙ্গে জীবনের তাগিদে সবকিছু বদলালেও, যমুনার পাড়ের সেই মেলার স্মৃতি আজও অমূল্য হয়ে আছে। নানা প্রজন্মের হৃদয়ে এই উৎসব কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং এটি নিখাদ আনন্দ ও স্মৃতির এক জীবন্ত দলিল।

উৎসবের শেষ দিনগুলোতে বিজয়া দশমীর বিষণ্নতা ভর করলেও তা নতুন করে পথ চলার অনুপ্রেরণা জোগায়। দেবী দুর্গার বিসর্জনের মধ্য দিয়ে বছর ঘুরে আবারও সেই সোনালি দিনগুলোর জন্য অপেক্ষা শুরু হয়। সিরাজগঞ্জের চেনা পথঘাট, মণ্ডপের আলো আর শৈশবের সেই নস্টালজিয়া আজও হৃদয়ের খুব গভীরে আলোড়ন তোলে। সময়ের পালাবদলে পূজার রূপ বদলালেও এর অন্তর্নিহিত ভালোবাসা, সম্প্রীতি ও মিলনের বার্তা চিরকাল মানুষের মনে বেঁচে থাকে।

ট্যাগস :

এমন ব্যাটিং করে কী আর ফাইনালে যাওয়া যায়

শৈশবের দুর্গাপূজা: আনন্দের এক অন্য জগৎ

আপডেট সময় ১১:০০:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

ফিচার ডেস্ক: ছোটবেলার দুর্গাপূজা মানেই ছিল আনন্দ, উচ্ছ্বাস আর গভীর আবেগের এক অনন্য উৎসবের আমেজ। সিরাজগঞ্জ শহরের পরিচিত পথঘাট, পূজামণ্ডপের রঙিন আলোকসজ্জা এবং নতুন পোশাক পরার প্রতীক্ষায় কেটে যেত পুরো বছর। হাতে তখন হয়তো অনেক কিছু ছিল না, কিন্তু মন ভরা ছিল অফুরন্ত কৌতূহল ও সরল স্বপ্নে। সামান্য একটি নতুন জামা কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে মেলার মাঠে ঘুরে বেড়ানোই ছিল জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

স্কুল ছুটির পর মা দুর্গার প্রতিমা তৈরির কাজ দেখতে ছুটে যাওয়া ছিল এক বিস্ময়কর অভিজ্ঞতা। বাঁশের কাঠামো থেকে শুরু করে খড়, মাটি আর সূক্ষ্ম শিল্পকর্মের মাধ্যমে দেবীকে রূপ দেওয়ার প্রতিটি ধাপ মুগ্ধতা ছড়াত শিশু মনে। মৃৎশিল্পীর হাতের ছোঁয়ায় মাটির শরীরে ধীরে ধীরে প্রাণ প্রতিষ্ঠার সেই দৃশ্যগুলো উৎসবের আমেজ শুরু করে দিত অনেক আগেই। সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন মণ্ডপে বন্ধুদের সঙ্গে দল বেঁধে ঘুরে বেড়ানো এবং আলোকসজ্জার প্রতিযোগিতা সেই দিনগুলোকে আরও রঙিন করে তুলেছিল।

যমুনার পাড়ের বিসর্জনের মেলা এবং আসবাবপত্রের বড় বাজার এই উৎসবের আনন্দকে অন্য মাত্রা দিত। নদীর ঘাটের কোলাহল, নানা দোকানপাটের সমাহার এবং মানুষের উপচে পড়া ভিড় শিশু-কিশোরদের মনে দারুণ রোমাঞ্চ তৈরি করত। সময়ের সঙ্গে জীবনের তাগিদে সবকিছু বদলালেও, যমুনার পাড়ের সেই মেলার স্মৃতি আজও অমূল্য হয়ে আছে। নানা প্রজন্মের হৃদয়ে এই উৎসব কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং এটি নিখাদ আনন্দ ও স্মৃতির এক জীবন্ত দলিল।

উৎসবের শেষ দিনগুলোতে বিজয়া দশমীর বিষণ্নতা ভর করলেও তা নতুন করে পথ চলার অনুপ্রেরণা জোগায়। দেবী দুর্গার বিসর্জনের মধ্য দিয়ে বছর ঘুরে আবারও সেই সোনালি দিনগুলোর জন্য অপেক্ষা শুরু হয়। সিরাজগঞ্জের চেনা পথঘাট, মণ্ডপের আলো আর শৈশবের সেই নস্টালজিয়া আজও হৃদয়ের খুব গভীরে আলোড়ন তোলে। সময়ের পালাবদলে পূজার রূপ বদলালেও এর অন্তর্নিহিত ভালোবাসা, সম্প্রীতি ও মিলনের বার্তা চিরকাল মানুষের মনে বেঁচে থাকে।