ঢাকা ১০:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
Logo রোডস: সমুদ্র, ইতিহাস আর কিছু জীবন্ত স্মৃতি Logo ৮০ কেজি প্লাস্টিক বর্জ্য পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণে পাঠাল ড্যাফোডিল বন্ধুসভা Logo মিট বাংলাদেশি সায়েন্টিস্ট অনুষ্ঠানে বিজ্ঞানী জেবা ইসলাম সেরাজ Logo সরকার নির্ধারিত দামে এলপিজি পাওয়া যাচ্ছে না কেন, কী বলছেন ব্যবসায়ীরা Logo কাল থেকে শুরু ‘ঐতিহ্য বুক কার্নিভাল ২০২৬’ Logo পর্যাপ্ত ঘুমের পরও সকালে ক্লান্তি লাগে কেন Logo অ্যান কারসনের নোবেল বিজয়: ধ্রুপদি ঐতিহ্যের সমকালীন রূপকার Logo পবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি সফিকুল, সা. সম্পাদক মুশতাক Logo যৌনকর্মীদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি Logo জ্বালানি সংকটের টেকসই সমাধান: বিশেষজ্ঞদের ভাবনা | পর্ব–০২
প্রতিনিধি নিয়োগঃ
এটি একটি প্রিন্টভার্ষণ পত্রিকার ওয়েবসাইট। সারাদেশে জেলা উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। আগ্রহীদের শুধুমাত্র ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করার জন্য বলা হইলো। -বার্তা সম্পাদক।

যৌনকর্মীদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৮:৪৫:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় ডেস্ক: যৌনকর্ম, মানবপাচার এবং যৌন শোষণ এই বিষয়গুলোর মধ্যে স্পষ্ট ফারাক থাকা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। সম্প্রতি রাজধানী ঢাকার ধানমন্ডিতে নারীপক্ষের কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় বক্তারা এই অভিমত ব্যক্ত করেন। নারীপক্ষের উদ্যোগে আয়োজিত ‘যৌনকর্মকে অপরাধমুক্তকরণ ও সংবেদনশীল সংবাদ পরিবেশনের নির্দেশিকার প্রয়োগ’ শীর্ষক এই সভায় দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধি ও অধিকারকর্মীরা অংশ নেন। তাঁরা মনে করেন, যৌনকর্মকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে এর সঠিক আইনি ও সামাজিক সংজ্ঞা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

সভায় সেক্স ওয়ার্কার্স অ্যান্ড অ্যালাইস সাউথ এশিয়ার আঞ্চলিক সমন্বয়কারী জান্নাত হুসনা তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, যৌনকর্মকে অপরাধমুক্ত করা বা শ্রমিক হিসেবে এর স্বীকৃতি দেওয়ার সঙ্গে মানবপাচারের কোনো নেতিবাচক সম্পর্ক নেই। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্ক দুই ব্যক্তির পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে যৌনসেবা বিনিময়ের পেশাকেই মূলত যৌনকর্ম বলা হয়ে থাকে। কিন্তু এর ব্যতিক্রম ঘটে যখন জোরপূর্বক কাউকে এই পেশায় নামানো হয়, যা স্পষ্টতই মানবপাচার এবং যৌন শোষণের আওতাভুক্ত। তাই বিভিন্ন পরিস্থিতিতে এই পেশাকে বেছে নেওয়া নারীদের কাজের নিরাপত্তা বিধান করা এবং তাঁদের মৌলিক মানবাধিকার রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

নারীপক্ষের সংহতি প্রকল্পের সমন্বয়কারী জাহানারা খাতুন সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখতে গিয়ে জানান যে, নাগরিক হিসেবে সাধারণ নারী এবং একজন যৌনকর্মী নারীর আইনি অধিকারের ক্ষেত্রে কোনো তফাত নেই। অথচ সমাজের প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, যৌনকর্মীদের নানা ধরনের সামাজিক কলঙ্ক ও অপরাধপ্রবণতার ট্যাগ পরিয়ে রাখা হয়। বড় বড় সামাজিক অপরাধের ক্ষেত্রে যতটা না আলোচনা হয়, তার চেয়ে অনেক বেশি নেতিবাচক অপবাদ এই প্রান্তিক নারীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়। এই সংকীর্ণ মানসিকতা দূর করে তাঁদের প্রতি সংবেদনশীল দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

আলোচকেরা আরও বলেন যে, ১৮ বছরের কম বয়সী কোনো শিশুকে এই পেশায় যুক্ত করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ এবং তা আইনের চোখে গুরুতর অপরাধ। মানবপাচার কিংবা যৌন নিপীড়নের ক্ষেত্রে জবরদস্তি এবং সম্মতির অনুপস্থিতি মূল নিয়ামক হিসেবে কাজ করে, যা যৌনকর্ম থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। সংবাদমাধ্যমসহ সব ক্ষেত্রে এই পার্থক্যগুলো সঠিকভাবে অনুধাবন করে তবেই প্রতিবেদন বা মত প্রকাশ করা উচিত। পরিশেষে, যৌনকর্মীদের আইনি সুরক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের সমাজে মাথা উঁচু করে বাঁচার পরিবেশ তৈরি করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর জোর দেওয়া হয়।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

রোডস: সমুদ্র, ইতিহাস আর কিছু জীবন্ত স্মৃতি

যৌনকর্মীদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি

আপডেট সময় ০৮:৪৫:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

জাতীয় ডেস্ক: যৌনকর্ম, মানবপাচার এবং যৌন শোষণ এই বিষয়গুলোর মধ্যে স্পষ্ট ফারাক থাকা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। সম্প্রতি রাজধানী ঢাকার ধানমন্ডিতে নারীপক্ষের কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় বক্তারা এই অভিমত ব্যক্ত করেন। নারীপক্ষের উদ্যোগে আয়োজিত ‘যৌনকর্মকে অপরাধমুক্তকরণ ও সংবেদনশীল সংবাদ পরিবেশনের নির্দেশিকার প্রয়োগ’ শীর্ষক এই সভায় দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধি ও অধিকারকর্মীরা অংশ নেন। তাঁরা মনে করেন, যৌনকর্মকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে এর সঠিক আইনি ও সামাজিক সংজ্ঞা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

সভায় সেক্স ওয়ার্কার্স অ্যান্ড অ্যালাইস সাউথ এশিয়ার আঞ্চলিক সমন্বয়কারী জান্নাত হুসনা তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, যৌনকর্মকে অপরাধমুক্ত করা বা শ্রমিক হিসেবে এর স্বীকৃতি দেওয়ার সঙ্গে মানবপাচারের কোনো নেতিবাচক সম্পর্ক নেই। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্ক দুই ব্যক্তির পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে যৌনসেবা বিনিময়ের পেশাকেই মূলত যৌনকর্ম বলা হয়ে থাকে। কিন্তু এর ব্যতিক্রম ঘটে যখন জোরপূর্বক কাউকে এই পেশায় নামানো হয়, যা স্পষ্টতই মানবপাচার এবং যৌন শোষণের আওতাভুক্ত। তাই বিভিন্ন পরিস্থিতিতে এই পেশাকে বেছে নেওয়া নারীদের কাজের নিরাপত্তা বিধান করা এবং তাঁদের মৌলিক মানবাধিকার রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

নারীপক্ষের সংহতি প্রকল্পের সমন্বয়কারী জাহানারা খাতুন সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখতে গিয়ে জানান যে, নাগরিক হিসেবে সাধারণ নারী এবং একজন যৌনকর্মী নারীর আইনি অধিকারের ক্ষেত্রে কোনো তফাত নেই। অথচ সমাজের প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, যৌনকর্মীদের নানা ধরনের সামাজিক কলঙ্ক ও অপরাধপ্রবণতার ট্যাগ পরিয়ে রাখা হয়। বড় বড় সামাজিক অপরাধের ক্ষেত্রে যতটা না আলোচনা হয়, তার চেয়ে অনেক বেশি নেতিবাচক অপবাদ এই প্রান্তিক নারীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়। এই সংকীর্ণ মানসিকতা দূর করে তাঁদের প্রতি সংবেদনশীল দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

আলোচকেরা আরও বলেন যে, ১৮ বছরের কম বয়সী কোনো শিশুকে এই পেশায় যুক্ত করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ এবং তা আইনের চোখে গুরুতর অপরাধ। মানবপাচার কিংবা যৌন নিপীড়নের ক্ষেত্রে জবরদস্তি এবং সম্মতির অনুপস্থিতি মূল নিয়ামক হিসেবে কাজ করে, যা যৌনকর্ম থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। সংবাদমাধ্যমসহ সব ক্ষেত্রে এই পার্থক্যগুলো সঠিকভাবে অনুধাবন করে তবেই প্রতিবেদন বা মত প্রকাশ করা উচিত। পরিশেষে, যৌনকর্মীদের আইনি সুরক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের সমাজে মাথা উঁচু করে বাঁচার পরিবেশ তৈরি করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর জোর দেওয়া হয়।