ঢাকা ০৫:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
Logo মায়ের গর্ভে ভ্রূণের বিকাশ: কোরআনের বিস্ময়কর বর্ণনা Logo রাজশাহীতে ৪ দিনব্যাপী বনসাই প্রদর্শনী শুরু Logo নেতানিয়াহু নন, ইসরায়েলে নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব পেলেন আইজেনকট Logo ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস করল হ্যাকারেরা, অভিযোগ রাশিয়ার দিকে Logo এআইয়ের সহায়তায় সিইও সেজে ১৩ লাখ ডলার জালিয়াতি, ইসরায়েলিসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo পুকুর বাঁচাতে জনগণকে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে: কেসিসি প্রশাসক Logo ভুটান হারলেই সেমিফাইনালে বাংলাদেশ Logo সাত ব্যান্ডের মিলনমেলা, জেমস এলেন রাত ১০টায়… Logo পদ্মার পানি আদায়ে ছাড় নয়, প্রয়োজনে আবারও লংমার্চ: আখতার Logo সামিরা খান মাহি হলেন মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ ২০২৬, মুকুট পরালেন তানজিয়া মিথিলা
প্রতিনিধি নিয়োগঃ
এটি একটি প্রিন্টভার্ষণ পত্রিকার ওয়েবসাইট। সারাদেশে জেলা উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। আগ্রহীদের শুধুমাত্র ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করার জন্য বলা হইলো। -বার্তা সম্পাদক।

মায়ের গর্ভে ভ্রূণের বিকাশ: কোরআনের বিস্ময়কর বর্ণনা

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৫:১৫:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

ধর্ম ডেস্ক: আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং উন্নত প্রযুক্তি আসার অনেক আগে থেকেই পবিত্র কোরআনে মাতৃগর্ভে মানবশিশু সৃষ্টির প্রতিটি সূক্ষ্ম ধাপ অত্যন্ত নিখুঁতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। আধুনিক যুগে মাইক্রোস্কোপ ও আলট্রাসাউন্ড আবিষ্কারের মাধ্যমে মানবভ্রূণের বিকাশের স্তরগুলো উন্মোচিত হলেও, পবিত্র ধর্মগ্রন্থে এগুলোর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা বহু আগেই দেওয়া হয়েছিল। সৃষ্টির প্রথম ধাপে পুরুষ ও নারীর কোষের সংমিশ্রণকে কোরআনে মিশ্রিত বীর্য বা নুতফাতুন আমশাজ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা বর্তমান বিজ্ঞানের দ্বারাসম্পূর্ণ প্রমাণিত।

গর্ভধারণের কিছুদিনের মাথায় ভ্রূণটি জরায়ুর দেয়ালে শক্তভাবে আটকে যায় এবং এই স্তরটিকে কোরআনে আলাকাহ বলা হয়েছে। আরবি এই শব্দটির বিভিন্ন অর্থ রয়েছে যার মধ্যে জোঁক এবং ঝুলে থাকা বস্তু অন্যতম। গবেষণায় দেখা গেছে, এই সময়ে ভ্রূণটি দেখতে হুবহু একটি জোঁকের মতো হয় এবং তা মায়ের জরায়ু থেকে রক্ত চুষে নিজের পুষ্টি গ্রহণ করে। এর পরবর্তী ধাপে ভ্রূণটি দাঁতে চিবানো এক টুকরা গোশতপিণ্ডের রূপ নেয়, যাকে কোরআনের পরিভাষায় মুদগাহ বলা হয়েছে এবং এই সময়ে এর পিঠে হাড়ের প্রাথমিক খাঁজ তৈরি হয়।

চিবানো গোশতপিণ্ডের স্তর পেরিয়ে যাওয়ার পর ভ্রূণের ভেতরে প্রথমে কংকাল বা হাড়ের শক্ত কাঠামো তৈরি হয় এবং পরবর্তীতে তা মাংসপেশি দ্বারা আবৃত করা হয়। পবিত্র কোরআনে এই ক্রমবিকাশের কথা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে যেখানে হাড় গঠনের পর পেশিকলা দিয়ে তা ঢেকে দেওয়ার বিষয়টি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। তাফসির গ্রন্থ এবং ইসলামি ঐতিহ্য অনুযায়ী ভ্রূণের এই শারীরিক কাঠামো তৈরির সুনির্দিষ্ট কিছু সময়সীমা রয়েছে যা বিভিন্ন হাদিসেও বর্ণিত হয়েছে।

মায়ের গর্ভে এই পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সুরক্ষিত তিনটি অন্ধকার আবরণের ভেতরে সম্পন্ন হয়ে থাকে যা ভ্রূণকে নিরাপদ রাখে। এই তিনটি পর্দার মধ্যে রয়েছে মায়ের পেটের দেয়াল, জরায়ুর দেয়াল এবং ভ্রূণের নিজস্ব অ্যামনিওটিক থলি। সবশেষে শারীরিক কাঠামো পুরোপুরি গঠিত হওয়ার পর নির্দিষ্ট সময়ে তাতে আত্মা বা রুহ ফুঁকে দেওয়া হয়, যার মাধ্যমে ভ্রূণটি একটি পূর্ণাঙ্গ মানবশিশুর রূপ লাভ করে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

মায়ের গর্ভে ভ্রূণের বিকাশ: কোরআনের বিস্ময়কর বর্ণনা

মায়ের গর্ভে ভ্রূণের বিকাশ: কোরআনের বিস্ময়কর বর্ণনা

আপডেট সময় ০৫:১৫:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

ধর্ম ডেস্ক: আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং উন্নত প্রযুক্তি আসার অনেক আগে থেকেই পবিত্র কোরআনে মাতৃগর্ভে মানবশিশু সৃষ্টির প্রতিটি সূক্ষ্ম ধাপ অত্যন্ত নিখুঁতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। আধুনিক যুগে মাইক্রোস্কোপ ও আলট্রাসাউন্ড আবিষ্কারের মাধ্যমে মানবভ্রূণের বিকাশের স্তরগুলো উন্মোচিত হলেও, পবিত্র ধর্মগ্রন্থে এগুলোর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা বহু আগেই দেওয়া হয়েছিল। সৃষ্টির প্রথম ধাপে পুরুষ ও নারীর কোষের সংমিশ্রণকে কোরআনে মিশ্রিত বীর্য বা নুতফাতুন আমশাজ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা বর্তমান বিজ্ঞানের দ্বারাসম্পূর্ণ প্রমাণিত।

গর্ভধারণের কিছুদিনের মাথায় ভ্রূণটি জরায়ুর দেয়ালে শক্তভাবে আটকে যায় এবং এই স্তরটিকে কোরআনে আলাকাহ বলা হয়েছে। আরবি এই শব্দটির বিভিন্ন অর্থ রয়েছে যার মধ্যে জোঁক এবং ঝুলে থাকা বস্তু অন্যতম। গবেষণায় দেখা গেছে, এই সময়ে ভ্রূণটি দেখতে হুবহু একটি জোঁকের মতো হয় এবং তা মায়ের জরায়ু থেকে রক্ত চুষে নিজের পুষ্টি গ্রহণ করে। এর পরবর্তী ধাপে ভ্রূণটি দাঁতে চিবানো এক টুকরা গোশতপিণ্ডের রূপ নেয়, যাকে কোরআনের পরিভাষায় মুদগাহ বলা হয়েছে এবং এই সময়ে এর পিঠে হাড়ের প্রাথমিক খাঁজ তৈরি হয়।

চিবানো গোশতপিণ্ডের স্তর পেরিয়ে যাওয়ার পর ভ্রূণের ভেতরে প্রথমে কংকাল বা হাড়ের শক্ত কাঠামো তৈরি হয় এবং পরবর্তীতে তা মাংসপেশি দ্বারা আবৃত করা হয়। পবিত্র কোরআনে এই ক্রমবিকাশের কথা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে যেখানে হাড় গঠনের পর পেশিকলা দিয়ে তা ঢেকে দেওয়ার বিষয়টি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। তাফসির গ্রন্থ এবং ইসলামি ঐতিহ্য অনুযায়ী ভ্রূণের এই শারীরিক কাঠামো তৈরির সুনির্দিষ্ট কিছু সময়সীমা রয়েছে যা বিভিন্ন হাদিসেও বর্ণিত হয়েছে।

মায়ের গর্ভে এই পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সুরক্ষিত তিনটি অন্ধকার আবরণের ভেতরে সম্পন্ন হয়ে থাকে যা ভ্রূণকে নিরাপদ রাখে। এই তিনটি পর্দার মধ্যে রয়েছে মায়ের পেটের দেয়াল, জরায়ুর দেয়াল এবং ভ্রূণের নিজস্ব অ্যামনিওটিক থলি। সবশেষে শারীরিক কাঠামো পুরোপুরি গঠিত হওয়ার পর নির্দিষ্ট সময়ে তাতে আত্মা বা রুহ ফুঁকে দেওয়া হয়, যার মাধ্যমে ভ্রূণটি একটি পূর্ণাঙ্গ মানবশিশুর রূপ লাভ করে।