ঢাকা ০৯:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
Logo সংস্কার লংমার্চে নয়, সংবিধান সংশোধন কমিটিতে আসতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo দীর্ঘ বিরতির পর আবার পড়াশোনা, ৫২ বছরে শেফালীর এইচএসসি জয় Logo ভবিষ্যৎ ফ্যাসিবাদ রোধে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo গ্রাম ছেড়ে ঢাকায় মায়ের সংগ্রাম, নটর ডেম থেকে ছেলের জিপিএ–৫ Logo এবার আপনিও হতে পারেন ফ্যাশন হাউসের মডেল, পাবেন মাসিক বেতন Logo সংবিধান না মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি গায়ের জোরের শামিল: রিজভী Logo কামিন্দুর সেঞ্চুরিতে শ্রীলঙ্কার বড় পুঁজি, পাকিস্তানের লক্ষ্য ৩২৬ Logo জামায়াত–কওমির বিরোধ কেন, কোথা থেকে এর শুরু Logo জনগণ শুধু ভোটার নয়, রাষ্ট্র পরিচালনার কার্যকর অংশীদার: জেএসডি Logo অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের করা জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
প্রতিনিধি নিয়োগঃ
এটি একটি প্রিন্টভার্ষণ পত্রিকার ওয়েবসাইট। সারাদেশে জেলা উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। আগ্রহীদের শুধুমাত্র ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করার জন্য বলা হইলো। -বার্তা সম্পাদক।

ভবিষ্যৎ ফ্যাসিবাদ রোধে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৮:১৫:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় ডেস্ক: ভবিষ্যতে বাংলাদেশে আর কোনো স্বৈরশাসক বা ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থার উত্থান রোধ করতে প্রাতিষ্ঠানিক ভারসাম্য নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। এই লক্ষ্যে দেশের সংবিধান সংশোধনের কাজটি ব্যাপক রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে সম্পন্ন করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি উল্লেখ করেন যে, গণতন্ত্রকে সুরক্ষার জন্য বিচার বিভাগের প্রকৃত স্বাধীনতা, একটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার স্থায়ী আইনি রূপ এবং গণমাধ্যমের স্বাধীন সত্তা অপরিহার্য। একই সঙ্গে রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে কার্যকর সব তদারকি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কথা বলেন তিনি।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মনসুন থিয়েটারে আয়োজিত গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা সেমিনার সিরিজের উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মতামত তুলে ধরেন। স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের সাংবিধানিক সংকট ও বাকশাল শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর। জাদুঘরের মহাপরিচালক এহসান মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সেমিনারে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। এছাড়া আলোচনায় অংশ নেন সংবিধান সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য ফিরোজ আহমেদ এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হাবিবুর রহমান।

আলোচনায় অতীতের বিভিন্ন রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের নেতিবাচক প্রভাব তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন যে, স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনার সুনির্দিষ্ট বিধান থাকার পরও ১৯৭৫ সালে বাকশাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একদলীয় শাসনব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এর মাধ্যমেই মূলত দেশে সাংবিধানিক সংকট এবং স্বৈরতন্ত্রের বীজ রোপিত হয়েছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন। পরবর্তীতে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করার প্রক্রিয়াটিকেও তিনি গণতন্ত্র ধ্বংসের একটি বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন, যা শেষ পর্যন্ত চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের পথ প্রশস্ত করেছিল।

ভবিষ্যতের রাষ্ট্র কাঠামো নিয়ে রূপরেখা তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ জানান যে, নতুন রাজনৈতিক ধারায় জনগণের প্রকৃত ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে হবে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিচারকদের জবাবদিহিও সুনির্দিষ্ট আইনের আওতায় আনতে হবে যাতে কোনো একক প্রতিষ্ঠান অনিয়ন্ত্রিত ক্ষমতার অধিকারী হতে না পারে। এছাড়া উচ্চকক্ষ চালুর বিষয়টি ছাড়াও নির্বাচন ব্যবস্থায় সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব এবং গণভোটের বিধান চালুর ক্ষেত্রে বিরোধী দলসহ সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছানোর তাগিদ দেন তিনি।

বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন যে প্রশাসন কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কিংবা বিভাজনের পক্ষে নয়। জুলাই অভ্যুত্থানের মূল চেতনা এবং তরুণ সমাজের প্রত্যাশাকে পুরোপুরি ধারণ করে একটি গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠনে সব রাজনৈতিক দলসহ আপামর জনসাধারণের পারস্পরিক ঐক্য একান্ত প্রয়োজন। আলাপ-আলোচনা ও রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমেই কেবল একটি টেকসই ও জনবান্ধব রাষ্ট্রব্যবস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

ট্যাগস :

সংস্কার লংমার্চে নয়, সংবিধান সংশোধন কমিটিতে আসতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ভবিষ্যৎ ফ্যাসিবাদ রোধে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৮:১৫:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

জাতীয় ডেস্ক: ভবিষ্যতে বাংলাদেশে আর কোনো স্বৈরশাসক বা ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থার উত্থান রোধ করতে প্রাতিষ্ঠানিক ভারসাম্য নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। এই লক্ষ্যে দেশের সংবিধান সংশোধনের কাজটি ব্যাপক রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে সম্পন্ন করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি উল্লেখ করেন যে, গণতন্ত্রকে সুরক্ষার জন্য বিচার বিভাগের প্রকৃত স্বাধীনতা, একটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার স্থায়ী আইনি রূপ এবং গণমাধ্যমের স্বাধীন সত্তা অপরিহার্য। একই সঙ্গে রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে কার্যকর সব তদারকি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কথা বলেন তিনি।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মনসুন থিয়েটারে আয়োজিত গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা সেমিনার সিরিজের উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মতামত তুলে ধরেন। স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের সাংবিধানিক সংকট ও বাকশাল শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর। জাদুঘরের মহাপরিচালক এহসান মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সেমিনারে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। এছাড়া আলোচনায় অংশ নেন সংবিধান সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য ফিরোজ আহমেদ এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হাবিবুর রহমান।

আলোচনায় অতীতের বিভিন্ন রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের নেতিবাচক প্রভাব তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন যে, স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনার সুনির্দিষ্ট বিধান থাকার পরও ১৯৭৫ সালে বাকশাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একদলীয় শাসনব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এর মাধ্যমেই মূলত দেশে সাংবিধানিক সংকট এবং স্বৈরতন্ত্রের বীজ রোপিত হয়েছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন। পরবর্তীতে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করার প্রক্রিয়াটিকেও তিনি গণতন্ত্র ধ্বংসের একটি বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন, যা শেষ পর্যন্ত চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের পথ প্রশস্ত করেছিল।

ভবিষ্যতের রাষ্ট্র কাঠামো নিয়ে রূপরেখা তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ জানান যে, নতুন রাজনৈতিক ধারায় জনগণের প্রকৃত ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে হবে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিচারকদের জবাবদিহিও সুনির্দিষ্ট আইনের আওতায় আনতে হবে যাতে কোনো একক প্রতিষ্ঠান অনিয়ন্ত্রিত ক্ষমতার অধিকারী হতে না পারে। এছাড়া উচ্চকক্ষ চালুর বিষয়টি ছাড়াও নির্বাচন ব্যবস্থায় সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব এবং গণভোটের বিধান চালুর ক্ষেত্রে বিরোধী দলসহ সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছানোর তাগিদ দেন তিনি।

বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন যে প্রশাসন কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কিংবা বিভাজনের পক্ষে নয়। জুলাই অভ্যুত্থানের মূল চেতনা এবং তরুণ সমাজের প্রত্যাশাকে পুরোপুরি ধারণ করে একটি গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠনে সব রাজনৈতিক দলসহ আপামর জনসাধারণের পারস্পরিক ঐক্য একান্ত প্রয়োজন। আলাপ-আলোচনা ও রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমেই কেবল একটি টেকসই ও জনবান্ধব রাষ্ট্রব্যবস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।