ঢাকা ১১:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
Logo সিংগাইরে জমি জরিপে ঘুষ-বাণিজ্য, কাজ অসমাপ্ত রেখেই চলে গেছেন সার্ভেয়াররা Logo পৃথিবীর ৮টি বিখ্যাত ভুতুড়ে প্রাসাদ, যেখানে আজও ঘুরে বেড়ায় অশরীরীর গল্প Logo বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই হাত হারানো সীতাকুণ্ডের রাব্বি এবারও পেলেন জিপিএ-৫ Logo আমার দেশ ছেঁড়া সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ Logo এইচএসসিতে প্রায় অর্ধেক পরীক্ষার্থী ফেল কী কারণে? Logo পিএসসির নতুন সদস্য ড. শামীমা সুলতানার শপথ আগামীকাল Logo জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯ বিষয়ে কারিকুলাম আধুনিকায়নের কাজ শুরু Logo যে কারণে ১৫ বছরের মধ্যে চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার সর্বনিম্ন Logo সরকার ৮ মাসেই দেশ ধ্বংস করে দিয়েছে: যশোরে গোলাম পরওয়ার Logo সংস্কার লংমার্চে নয়, সংবিধান সংশোধন কমিটিতে আসতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
প্রতিনিধি নিয়োগঃ
এটি একটি প্রিন্টভার্ষণ পত্রিকার ওয়েবসাইট। সারাদেশে জেলা উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। আগ্রহীদের শুধুমাত্র ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করার জন্য বলা হইলো। -বার্তা সম্পাদক।

বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই হাত হারানো সীতাকুণ্ডের রাব্বি এবারও পেলেন জিপিএ-৫

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১০:৪৬:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

শিক্ষা ডেস্ক: অদম্য মনোবল ও কঠোর পরিশ্রমের জোরে উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন রফিকুল ইসলাম রাব্বি। তিনি চট্টগ্রাম সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এই অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছেন। এর আগে একই শিক্ষার্থী পা দিয়ে লিখে মাধ্যমিক পরীক্ষায়ও সর্বোচ্চ জিপিএ-৫ অর্জন করেছিলেন। তার এই ধারাবাহিক সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের বন্যা বইছে। শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে রাব্বির এই জয়যাত্রা এখন অনেকের জন্যই এক বিরাট অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।

রাব্বির এই জীবন সংগ্রাম শুরু হয়েছিল ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে, যখন তিনি পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে ভাটিয়ারী ফুটওভার ব্রিজের ওপর একটি ঝুলন্ত বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে এসে মারাত্মকভাবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন তিনি। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় তার শরীরের দুই হাত মারাত্মকভাবে পুড়ে যায় এবং চিকিৎসকরা তার জীবন বাঁচাতে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে দুটি হাতই কেটে ফেলতে বাধ্য হন। এত বড় একটি ট্র্যাজেডির পর দরিদ্র পরিবারের এই কিশোরের জীবন ও ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। কিন্তু রাব্বি কোনো অবস্থাতেই হার না মেনে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার কঠিন সিদ্ধান্ত নেন।

প্রাথমিকভাবে লেখার জন্য মুখ ব্যবহার করলেও পড়াশোনার গতি বাড়াতে তিনি পা দিয়ে লেখার কৌশল রপ্ত করেন। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত মুখ দিয়ে লেখার পর পরবর্তী সময়ে পা দিয়েই সব পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে সফল হতে থাকেন তিনি। তার এই দীর্ঘ পথচলায় পরিবারের পাশাপাশি শিক্ষক এবং বিভিন্ন দাতা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পাশে দাঁড়িয়েছে। গবেষক ও চিকিৎসক ফেরদৌসী কাদরী রাব্বির পড়াশোনার আর্থিক খরচ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং ওসমান নামের এক শিক্ষক তাকে বিনামূল্যে কোচিং করিয়েছেন। বাবা-মায়ের দিনমজুরির সামান্য আয়ের সংসার আর নানা প্রতিকূলতা পেরিয়েও রাব্বি তার পড়াশোনা সফলভাবে চালিয়ে গেছেন।

ভবিষ্যতে একজন বিজ্ঞানী হওয়ার সুদূরপ্রসারী স্বপ্ন রয়েছে রাব্বির এবং তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তার এই অভাবনীয় সাফল্যে স্থানীয় বিশিষ্টজনেরাও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, মনের জোর থাকলে যে কোনো বাধা পেরিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব। রাব্বির এই সংগ্রাম ও সাফল্য কেবল তার নিজের পরিবারকেই নয়, বরং পুরো সমাজকে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শেখাচ্ছে। সমাজের প্রতিটি স্তরে তার এই সাহসিকতা ও অধ্যবসায় এক অনুকরণীয় উদাহরণ হয়ে থাকবে।

ট্যাগস :

সিংগাইরে জমি জরিপে ঘুষ-বাণিজ্য, কাজ অসমাপ্ত রেখেই চলে গেছেন সার্ভেয়াররা

বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই হাত হারানো সীতাকুণ্ডের রাব্বি এবারও পেলেন জিপিএ-৫

আপডেট সময় ১০:৪৬:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

শিক্ষা ডেস্ক: অদম্য মনোবল ও কঠোর পরিশ্রমের জোরে উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন রফিকুল ইসলাম রাব্বি। তিনি চট্টগ্রাম সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এই অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছেন। এর আগে একই শিক্ষার্থী পা দিয়ে লিখে মাধ্যমিক পরীক্ষায়ও সর্বোচ্চ জিপিএ-৫ অর্জন করেছিলেন। তার এই ধারাবাহিক সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের বন্যা বইছে। শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে রাব্বির এই জয়যাত্রা এখন অনেকের জন্যই এক বিরাট অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।

রাব্বির এই জীবন সংগ্রাম শুরু হয়েছিল ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে, যখন তিনি পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে ভাটিয়ারী ফুটওভার ব্রিজের ওপর একটি ঝুলন্ত বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে এসে মারাত্মকভাবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন তিনি। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় তার শরীরের দুই হাত মারাত্মকভাবে পুড়ে যায় এবং চিকিৎসকরা তার জীবন বাঁচাতে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে দুটি হাতই কেটে ফেলতে বাধ্য হন। এত বড় একটি ট্র্যাজেডির পর দরিদ্র পরিবারের এই কিশোরের জীবন ও ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। কিন্তু রাব্বি কোনো অবস্থাতেই হার না মেনে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার কঠিন সিদ্ধান্ত নেন।

প্রাথমিকভাবে লেখার জন্য মুখ ব্যবহার করলেও পড়াশোনার গতি বাড়াতে তিনি পা দিয়ে লেখার কৌশল রপ্ত করেন। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত মুখ দিয়ে লেখার পর পরবর্তী সময়ে পা দিয়েই সব পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে সফল হতে থাকেন তিনি। তার এই দীর্ঘ পথচলায় পরিবারের পাশাপাশি শিক্ষক এবং বিভিন্ন দাতা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পাশে দাঁড়িয়েছে। গবেষক ও চিকিৎসক ফেরদৌসী কাদরী রাব্বির পড়াশোনার আর্থিক খরচ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং ওসমান নামের এক শিক্ষক তাকে বিনামূল্যে কোচিং করিয়েছেন। বাবা-মায়ের দিনমজুরির সামান্য আয়ের সংসার আর নানা প্রতিকূলতা পেরিয়েও রাব্বি তার পড়াশোনা সফলভাবে চালিয়ে গেছেন।

ভবিষ্যতে একজন বিজ্ঞানী হওয়ার সুদূরপ্রসারী স্বপ্ন রয়েছে রাব্বির এবং তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তার এই অভাবনীয় সাফল্যে স্থানীয় বিশিষ্টজনেরাও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, মনের জোর থাকলে যে কোনো বাধা পেরিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব। রাব্বির এই সংগ্রাম ও সাফল্য কেবল তার নিজের পরিবারকেই নয়, বরং পুরো সমাজকে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শেখাচ্ছে। সমাজের প্রতিটি স্তরে তার এই সাহসিকতা ও অধ্যবসায় এক অনুকরণীয় উদাহরণ হয়ে থাকবে।