ঢাকা ০২:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
Logo বিনিয়োগে গতি আসবে কীভাবে Logo উচ্চশিক্ষিত বেকারত্ব ও শ্রমবাজারে লুকিয়ে থাকা বাস্তবতা Logo ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিককে টেক্কা দিতে নতুন এআই মডেল আনল মেটা Logo স্তন ক্যানসারের ঝুঁকিতে কারা Logo কমিউনিটি ব্যাংকে কাস্টমার সার্ভিস এক্সিকিউটিভ পদে চাকরি, বেতন ২৬ হাজার টাকা Logo সাংবাদিকদের জরিমানা করাসহ স্বপ্রণোদিত ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা চায় প্রেস কাউন্সিল Logo ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে সেনা মোতায়েনের প্রয়োজন নেই: নির্বাচন কমিশনার Logo গণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে লাভ নেই: রিজভী Logo তিস্তা প্রকল্প কি ভূরাজনৈতিক খেলায় পরিণত হচ্ছে Logo ড. ইউনূসকে হেনস্তা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ. লীগের হিংসাত্মক রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ: রিজভী
প্রতিনিধি নিয়োগঃ
এটি একটি প্রিন্টভার্ষণ পত্রিকার ওয়েবসাইট। সারাদেশে জেলা উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। আগ্রহীদের শুধুমাত্র ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করার জন্য বলা হইলো। -বার্তা সম্পাদক।

তিস্তা প্রকল্প কি ভূরাজনৈতিক খেলায় পরিণত হচ্ছে

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১২:৪৬:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্পটিকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক রাজনীতিতে বড় ধরনের কূটনৈতিক দৌড়ঝাঁপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এই গুরুত্বপূর্ণ নদী ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন উদ্যোগ নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার পরাশক্তিগুলো নিজেদের কৌশলগত অবস্থান পোক্ত করার চেষ্টা করছে। ফলে প্রকল্পটি কেবল একটি পানিসম্পদ উন্নয়নের অবকাঠামো না হয়ে বরং আন্তর্জাতিক কূটনীতির এক স্পর্শকাতর বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

এই মেগা প্রকল্পের অর্থায়ন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রতিবেশী দেশ ভারত ও চীনের মধ্যে এক ধরনের নীরব ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা চলছে। দুই দেশেরই অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থ জড়িত থাকায় এই নদীর পানিবণ্টন ও অববাহিকা উন্নয়ন বিষয়টি এখন কেবল ঢাকা ও দিল্লির দ্বিপক্ষীয় আলোচনার গণ্ডি পেরিয়ে গেছে। এর ফলে বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকদের অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রেখে এগোতে হচ্ছে।

ভারত ও চীনের এই প্রভাব বলয়ের বাইরে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রও তিস্তা প্রকল্প নিয়ে নিজেদের আগ্রহের ইঙ্গিত দিয়েছে। বিশ্বমঞ্চের প্রভাবশালী এই দেশের আকস্মিক তৎপরতা বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলেছে এবং তিস্তা অববাহিকাকে কেন্দ্র করে বড় রাষ্ট্রগুলোর ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে স্পষ্ট করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বহুপক্ষীয় এই আগ্রহ বাংলাদেশের জন্য যেমন সুযোগ তৈরি করতে পারে, তেমনি দীর্ঘমেয়াদী চ্যালেঞ্জেরও জন্ম দিচ্ছে।

এই জটিল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ কীভাবে তার জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করবে এবং নেতিবাচক প্রভাব এড়াবে, তা অত্যন্ত জরুরি একটি প্রশ্ন। বিশেষজ্ঞ ও গবেষকরা এই সংকট উত্তরণে অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সব পক্ষের সঙ্গে সুষম কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছেন। সঠিক কৌশল গ্রহণ করা না গেলে তিস্তা প্রকল্পের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ার পাশাপাশি তা দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তাকেও প্রভাবিত করতে পারে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

বিনিয়োগে গতি আসবে কীভাবে

তিস্তা প্রকল্প কি ভূরাজনৈতিক খেলায় পরিণত হচ্ছে

আপডেট সময় ১২:৪৬:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্পটিকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক রাজনীতিতে বড় ধরনের কূটনৈতিক দৌড়ঝাঁপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এই গুরুত্বপূর্ণ নদী ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন উদ্যোগ নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার পরাশক্তিগুলো নিজেদের কৌশলগত অবস্থান পোক্ত করার চেষ্টা করছে। ফলে প্রকল্পটি কেবল একটি পানিসম্পদ উন্নয়নের অবকাঠামো না হয়ে বরং আন্তর্জাতিক কূটনীতির এক স্পর্শকাতর বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

এই মেগা প্রকল্পের অর্থায়ন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রতিবেশী দেশ ভারত ও চীনের মধ্যে এক ধরনের নীরব ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা চলছে। দুই দেশেরই অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থ জড়িত থাকায় এই নদীর পানিবণ্টন ও অববাহিকা উন্নয়ন বিষয়টি এখন কেবল ঢাকা ও দিল্লির দ্বিপক্ষীয় আলোচনার গণ্ডি পেরিয়ে গেছে। এর ফলে বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকদের অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রেখে এগোতে হচ্ছে।

ভারত ও চীনের এই প্রভাব বলয়ের বাইরে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রও তিস্তা প্রকল্প নিয়ে নিজেদের আগ্রহের ইঙ্গিত দিয়েছে। বিশ্বমঞ্চের প্রভাবশালী এই দেশের আকস্মিক তৎপরতা বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলেছে এবং তিস্তা অববাহিকাকে কেন্দ্র করে বড় রাষ্ট্রগুলোর ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে স্পষ্ট করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বহুপক্ষীয় এই আগ্রহ বাংলাদেশের জন্য যেমন সুযোগ তৈরি করতে পারে, তেমনি দীর্ঘমেয়াদী চ্যালেঞ্জেরও জন্ম দিচ্ছে।

এই জটিল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ কীভাবে তার জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করবে এবং নেতিবাচক প্রভাব এড়াবে, তা অত্যন্ত জরুরি একটি প্রশ্ন। বিশেষজ্ঞ ও গবেষকরা এই সংকট উত্তরণে অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সব পক্ষের সঙ্গে সুষম কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছেন। সঠিক কৌশল গ্রহণ করা না গেলে তিস্তা প্রকল্পের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ার পাশাপাশি তা দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তাকেও প্রভাবিত করতে পারে।