ঢাকা ১০:০২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
Logo বাজারে এলপিজির বাড়তি দর, আবার দাম বাড়াতে তাড়াহুড়া Logo গ্রামবাসীর চাঁদায় কেনা হলো খেলার মাঠের জমি, গ্রামজুড়ে উৎসব Logo দেশে জ্বালানি তেলের দাম নভেম্বরেও অপরিবর্তিত থাকছে Logo তিন মাসে রাজস্ব ঘাটতি ৪২ হাজার কোটি টাকা Logo দলীয় কর্মসূচিতে অনুপস্থিত থাকায় শ্রীমঙ্গল উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ককে বহিষ্কার Logo যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের আগ্রাসন আড়াল করার চেষ্টা করছে জাতিসংঘ Logo ১২ কেজি এলপিজির দাম বাড়িয়ে ১৯৭৬ টাকা করার সুপারিশ Logo জমির নিবন্ধনে ‘মান্ধাতা-প্রীতি’ আর কতদিন, এতে কার লাভ? Logo লুলার জয় লাতিন আমেরিকায় ট্রাম্পের জন্য বড় ধাক্কা Logo মানুষ কি মাংস খাওয়ার জন্যই তৈরি, নাকি নিরামিষেই সুস্থ থাকা সম্ভব
প্রতিনিধি নিয়োগঃ
এটি একটি প্রিন্টভার্ষণ পত্রিকার ওয়েবসাইট। সারাদেশে জেলা উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। আগ্রহীদের শুধুমাত্র ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করার জন্য বলা হইলো। -বার্তা সম্পাদক।

তিন মাসে রাজস্ব ঘাটতি ৪২ হাজার কোটি টাকা

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৯:১৫:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

অর্থনীতি ডেস্ক: চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী কর আদায় না হওয়ায় প্রায় আটচল্লিশ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি তৈরি হয়েছে। সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্য এবং প্রকৃত অর্জনের মধ্যে বড় ব্যবধান থাকায় সামগ্রিক অর্থনীতিতে এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। আদায় কমে যাওয়ার কারণে দীর্ঘ সময় ধরে এসংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের হিসাব অনুযায়ী, অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে মোট রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক লাখ ৩৪ হাজার ৩৯৬ কোটি টাকা। এর বিপরীতে কাসেম বা অন্য মাধ্যমে আদায় হয়েছে মাত্র ৯২ হাজার ৫১৭ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় একত্রিশ শতাংশ কম। প্রধান তিনটি খাত অর্থাৎ মূল্য সংযোজন কর, আয়কর এবং আমদানি-রপ্তানি শুল্ক—কোনোটিতেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘাটতি দেখা গেছে মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট খাতে, যা মোট ঘাটতির প্রায় অর্ধেক।

খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর এই তিন মাসে ভ্যাট আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও তা থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ কম পাওয়া গেছে। ব্যবসায়িক কার্যক্রমে শ্লথগতি এবং ভ্যাট রিটার্ন জমাদানের নিয়মে পরিবর্তনের কারণে এই খাতের আদায়ে বড় ধস নামে। একই অবস্থা তৈরি হয়েছে আয়কর ও ভ্রমণ কর খাতেও, যেখানে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় সাড়ে নয় হাজার কোটি টাকা কম আদায় হয়েছে। এছাড়া আমদানি-রপ্তানি শুল্ক থেকেও পর্যাপ্ত রাজস্ব আসেনি, যা সামগ্রিক ঘাটতিকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান আহসান হাবিব সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন। ওই বৈঠকে কর আদায় কার্যক্রম আরও জোরদার করার জন্য কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অর্থনীতির শ্লথগতি, অবাস্তব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ এবং প্রশাসনিক কিছু জটিলতার কারণেই এই ঘাটতি তৈরি হয়েছে। তবে নিয়মিত ভ্যাট রিটার্ন জমা দেওয়ার নতুন বিধান চালুর ফলে সামনের দিনগুলোতে রাজস্ব আদায় কিছুটা বাড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

ট্যাগস :

বাজারে এলপিজির বাড়তি দর, আবার দাম বাড়াতে তাড়াহুড়া

তিন মাসে রাজস্ব ঘাটতি ৪২ হাজার কোটি টাকা

আপডেট সময় ০৯:১৫:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

অর্থনীতি ডেস্ক: চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী কর আদায় না হওয়ায় প্রায় আটচল্লিশ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি তৈরি হয়েছে। সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্য এবং প্রকৃত অর্জনের মধ্যে বড় ব্যবধান থাকায় সামগ্রিক অর্থনীতিতে এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। আদায় কমে যাওয়ার কারণে দীর্ঘ সময় ধরে এসংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের হিসাব অনুযায়ী, অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে মোট রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক লাখ ৩৪ হাজার ৩৯৬ কোটি টাকা। এর বিপরীতে কাসেম বা অন্য মাধ্যমে আদায় হয়েছে মাত্র ৯২ হাজার ৫১৭ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় একত্রিশ শতাংশ কম। প্রধান তিনটি খাত অর্থাৎ মূল্য সংযোজন কর, আয়কর এবং আমদানি-রপ্তানি শুল্ক—কোনোটিতেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘাটতি দেখা গেছে মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট খাতে, যা মোট ঘাটতির প্রায় অর্ধেক।

খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর এই তিন মাসে ভ্যাট আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও তা থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ কম পাওয়া গেছে। ব্যবসায়িক কার্যক্রমে শ্লথগতি এবং ভ্যাট রিটার্ন জমাদানের নিয়মে পরিবর্তনের কারণে এই খাতের আদায়ে বড় ধস নামে। একই অবস্থা তৈরি হয়েছে আয়কর ও ভ্রমণ কর খাতেও, যেখানে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় সাড়ে নয় হাজার কোটি টাকা কম আদায় হয়েছে। এছাড়া আমদানি-রপ্তানি শুল্ক থেকেও পর্যাপ্ত রাজস্ব আসেনি, যা সামগ্রিক ঘাটতিকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান আহসান হাবিব সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন। ওই বৈঠকে কর আদায় কার্যক্রম আরও জোরদার করার জন্য কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অর্থনীতির শ্লথগতি, অবাস্তব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ এবং প্রশাসনিক কিছু জটিলতার কারণেই এই ঘাটতি তৈরি হয়েছে। তবে নিয়মিত ভ্যাট রিটার্ন জমা দেওয়ার নতুন বিধান চালুর ফলে সামনের দিনগুলোতে রাজস্ব আদায় কিছুটা বাড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।