ঢাকা ০৭:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
Logo শেখ হাসিনার খাবারের বিল ১০ লাখ, তারেক রহমানের ১৫০ টাকা: চিফ হুইপ Logo আগামী পাঁচ বছরে ৩ হাজার শিক্ষককে পিএইচডি অর্জনে সহায়তা দেবে ইউজিসি Logo আইনগত সহায়তার মাধ্যমে ন্যায়বিচারের পথ সুগম করতে হবে: আইনমন্ত্রী Logo ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিনকে শোকজ Logo রাজনৈতিক অঙ্গনকে ফের অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চলছে: রিজভী Logo ভারত বিগত দিনের চিন্তা-চেতনা থেকে বের হয়ে বাংলাদেশের বন্ধু হবে, আশা প্রতিমন্ত্রীর Logo ইসরাইলি প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের সময় বাংলাদেশের ওয়াকআউট Logo ইচ্ছাকৃতভাবে বিরোধী দলকে সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়া থেকে বাইরে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে: পরওয়ার Logo ৪৫তম বিসিএসের নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ প্রায় চার বছরে: জবাবদিহির দাবি Logo কৃষককে কেন্দ্রবিন্দুতে রেখেই কৃষিখাতের নীতি নির্ধারণ করতে হবে: জহির উদ্দিন
প্রতিনিধি নিয়োগঃ
এটি একটি প্রিন্টভার্ষণ পত্রিকার ওয়েবসাইট। সারাদেশে জেলা উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। আগ্রহীদের শুধুমাত্র ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করার জন্য বলা হইলো। -বার্তা সম্পাদক।

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব নয়: বন ও পরিবেশমন্ত্রী

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৪:৩১:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় ডেস্ক: জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি পুরোপুরি রোধ করা না গেলেও যথাযথ প্রস্তুতি এবং অভিযোজন ক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে তা সহনীয় মাত্রায় নামিয়ে আনা সম্ভব। সম্প্রতি রাজধানী ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত একটি বিশেষ সেমিনারে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু এই অভিমত ব্যক্ত করেন। স্বনামধন্য গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান দৈনিক বণিক বার্তা আয়োজিত জলবায়ু পরিবর্তন ও অর্থনীতির পুনর্বিন্যাস বিষয়ক এই আলোচনা সভায় দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারকেরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী দেশের বর্তমান আবহাওয়াগত বৈচিত্র্য এবং এর সুদূরপ্রসারী অর্থনৈতিক প্রভাবের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি জানান যে তীব্র গরমে খেটে খাওয়া শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা যেমন হ্রাস পাচ্ছে, তেমনি অনিয়মিত ও আকস্মিক বৃষ্টিপাতে কৃষকদের উৎপাদিত ফসল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাওয়ায় উর্বর কৃষিজমি এবং সুপেয় পানির উৎসের ওপর নজিরবিহীন চাপ তৈরি হচ্ছে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক বাস্তবতার কথা তুলে ধরে পরিবেশমন্ত্রী বলেন যে এর সুনির্দিষ্ট নেতিবাচক পরিণতি সম্পর্কে সবাই ওয়াকিবহাল থাকলেও এটি থেকে পুরোপুরি মুক্তি পাওয়ার কোনো উপায় নেই। তাই এই সংকট মোকাবিলায় সুনির্দিষ্ট প্রতিরোধমূলক কৌশল গ্রহণ এবং দেশের অভিযোজন সক্ষমতা বহুগুণ বাড়ানোর ওপর তিনি বিশেষ জোর দেন। তিনি উল্লেখ করেন যে বিশ্বব্যাংকের সম্প্রতি প্রকাশিত অর্থনৈতিক পূর্বাভাস বাংলাদেশের অর্থনীতির স্থিতিশীলতা জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা জোরালোভাবে স্মরণ করিয়ে দেয়।

কৃষি খাতের ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী জানান যে দেশের অর্থনীতিতে কৃষির ভূমিকা কেবল খাদ্য উৎপাদনের মাঝেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর সাথে গ্রামীণ কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য বিমোচন অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত। আধুনিক সেচব্যবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও সামগ্রিকভাবে কৃষি খাত এখনও আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনার ওপর নির্ভরশীল বলে তিনি মন্তব্য করেন। বার্ষিক বিশ থেকে বাইশ লাখ কর্মসংস্থানের চাহিদা মেটাতে দেশে বিনিয়োগের পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি বহুমুখী অর্থনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণের তাগিদ দেন তিনি।

উক্ত আলোচনা সভায় অন্যান্য বক্তারাও জলবায়ু সংকটের বহুমুখী নেতিবাচক দিকগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে বৈশ্বিক উষ্ণায়নে বাংলাদেশের দায় minimal হলেও দেশটি এর সবচেয়ে মারাত্মক শিকার। বন্যা, ঘূর্ণিঝড় এবং বাস্তুচ্যুতির মতো সংকট মোকাবিলায় জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানিমুখী অর্থনীতি গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

শেখ হাসিনার খাবারের বিল ১০ লাখ, তারেক রহমানের ১৫০ টাকা: চিফ হুইপ

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব নয়: বন ও পরিবেশমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৪:৩১:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

জাতীয় ডেস্ক: জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি পুরোপুরি রোধ করা না গেলেও যথাযথ প্রস্তুতি এবং অভিযোজন ক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে তা সহনীয় মাত্রায় নামিয়ে আনা সম্ভব। সম্প্রতি রাজধানী ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত একটি বিশেষ সেমিনারে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু এই অভিমত ব্যক্ত করেন। স্বনামধন্য গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান দৈনিক বণিক বার্তা আয়োজিত জলবায়ু পরিবর্তন ও অর্থনীতির পুনর্বিন্যাস বিষয়ক এই আলোচনা সভায় দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারকেরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী দেশের বর্তমান আবহাওয়াগত বৈচিত্র্য এবং এর সুদূরপ্রসারী অর্থনৈতিক প্রভাবের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি জানান যে তীব্র গরমে খেটে খাওয়া শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা যেমন হ্রাস পাচ্ছে, তেমনি অনিয়মিত ও আকস্মিক বৃষ্টিপাতে কৃষকদের উৎপাদিত ফসল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাওয়ায় উর্বর কৃষিজমি এবং সুপেয় পানির উৎসের ওপর নজিরবিহীন চাপ তৈরি হচ্ছে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক বাস্তবতার কথা তুলে ধরে পরিবেশমন্ত্রী বলেন যে এর সুনির্দিষ্ট নেতিবাচক পরিণতি সম্পর্কে সবাই ওয়াকিবহাল থাকলেও এটি থেকে পুরোপুরি মুক্তি পাওয়ার কোনো উপায় নেই। তাই এই সংকট মোকাবিলায় সুনির্দিষ্ট প্রতিরোধমূলক কৌশল গ্রহণ এবং দেশের অভিযোজন সক্ষমতা বহুগুণ বাড়ানোর ওপর তিনি বিশেষ জোর দেন। তিনি উল্লেখ করেন যে বিশ্বব্যাংকের সম্প্রতি প্রকাশিত অর্থনৈতিক পূর্বাভাস বাংলাদেশের অর্থনীতির স্থিতিশীলতা জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা জোরালোভাবে স্মরণ করিয়ে দেয়।

কৃষি খাতের ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী জানান যে দেশের অর্থনীতিতে কৃষির ভূমিকা কেবল খাদ্য উৎপাদনের মাঝেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর সাথে গ্রামীণ কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য বিমোচন অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত। আধুনিক সেচব্যবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও সামগ্রিকভাবে কৃষি খাত এখনও আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনার ওপর নির্ভরশীল বলে তিনি মন্তব্য করেন। বার্ষিক বিশ থেকে বাইশ লাখ কর্মসংস্থানের চাহিদা মেটাতে দেশে বিনিয়োগের পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি বহুমুখী অর্থনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণের তাগিদ দেন তিনি।

উক্ত আলোচনা সভায় অন্যান্য বক্তারাও জলবায়ু সংকটের বহুমুখী নেতিবাচক দিকগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে বৈশ্বিক উষ্ণায়নে বাংলাদেশের দায় minimal হলেও দেশটি এর সবচেয়ে মারাত্মক শিকার। বন্যা, ঘূর্ণিঝড় এবং বাস্তুচ্যুতির মতো সংকট মোকাবিলায় জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানিমুখী অর্থনীতি গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।