ঢাকা ১০:২০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
Logo সব ছাত্র সংগঠনকে ‘দিল্লি চলো’ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান রাহুলের Logo বাজারে এলপিজির বাড়তি দর, আবার দাম বাড়াতে তাড়াহুড়া Logo গ্রামবাসীর চাঁদায় কেনা হলো খেলার মাঠের জমি, গ্রামজুড়ে উৎসব Logo দেশে জ্বালানি তেলের দাম নভেম্বরেও অপরিবর্তিত থাকছে Logo তিন মাসে রাজস্ব ঘাটতি ৪২ হাজার কোটি টাকা Logo দলীয় কর্মসূচিতে অনুপস্থিত থাকায় শ্রীমঙ্গল উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ককে বহিষ্কার Logo যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের আগ্রাসন আড়াল করার চেষ্টা করছে জাতিসংঘ Logo ১২ কেজি এলপিজির দাম বাড়িয়ে ১৯৭৬ টাকা করার সুপারিশ Logo জমির নিবন্ধনে ‘মান্ধাতা-প্রীতি’ আর কতদিন, এতে কার লাভ? Logo লুলার জয় লাতিন আমেরিকায় ট্রাম্পের জন্য বড় ধাক্কা
প্রতিনিধি নিয়োগঃ
এটি একটি প্রিন্টভার্ষণ পত্রিকার ওয়েবসাইট। সারাদেশে জেলা উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। আগ্রহীদের শুধুমাত্র ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করার জন্য বলা হইলো। -বার্তা সম্পাদক।

গ্রামবাসীর চাঁদায় কেনা হলো খেলার মাঠের জমি, গ্রামজুড়ে উৎসব

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৯:৪৬:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় ডেস্ক: টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার দেউলী ইউনিয়নের বাবুপুর গ্রামে দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার পর নিজস্ব উদ্যোগে একটি খেলার মাঠের জমি কেনা হয়েছে। সাত শতাধিক পরিবারে সাড়ে তিন হাজারের বেশি মানুষের বসবাস হলেও এই জনপদে শিশুদের খেলাধুলার কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা ছিল না। প্রতিবছর ধান কাটার পর ফাঁকা জমিতে সাময়িকভাবে খেলাধুলা চললেও ফসলের আবাস শুরু হলে তা বন্ধ হয়ে যেত। এই দুর্ভোগ লাঘব করতে গ্রামের ধনী ও গরিব নির্বিশেষে সবাই মিলে অর্থ সংগ্রহ করে একটি স্থায়ী মাঠ গড়ার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেন।

এই মহৎ উদ্যোগের পেছনে স্থানীয় ক্রীড়াব্যক্তিত্ব খোরশেদ আলম ও উদ্যোক্তা এস এম ইকবাল মাহমুদের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁরা গ্রামের বিত্তবান ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে তহবিল গঠনের কাজ শুরু করেন এবং পরবর্তীতে গ্রামবাসীর অংশগ্রহণে একটি মতবিনিময় সভা করেন। সেই সভায় গ্রামের সর্বস্তরের মানুষ নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। পরবর্তীতে ইকবাল হোসেন সুজনের কাছ থেকে প্রতি শতাংশ বায়ান্ন হাজার টাকা মূল্যে মোট ষাট শতাংশ জমি কিনে নেওয়া হয়, যার মধ্যে এক শতাংশ জমি মালিক পক্ষ দান করেন।

নির্ধারিত জমি আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝে পাওয়ার দিনটিতে পুরো বাবুপুর গ্রামে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। গ্রামের মানুষ বাদ্য বাজিয়ে ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে নতুন এই মাঠটি গ্রহণ করেন এবং দিনভর নানা আনন্দ উৎসবে মেতে ওঠেন। যুবকেরা অর্থদাতা ও প্রবীণ ব্যক্তিদের ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেন। কিশোর ও তরুণদের দীর্ঘদিনের এই স্বপ্ন পূরণের ফলে এখন থেকে তারা সারা বছরই নিয়মিত খেলাধুলা চালিয়ে যেতে পারবে বলে স্বস্তি প্রকাশ করেছে।

স্থানীয় বিশিষ্টজনেরা গ্রামবাসীর এই স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এবং একে একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁদের মতে, এই খেলার মাঠ প্রতিষ্ঠার ফলে কিশোর ও যুবসমাজ সুস্থ ক্রীড়াচর্চার সুযোগ পাবে এবং মাদক কিংবা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকবে। সরকারি বা বেসরকারি কোনো সহযোগিতা ছাড়াই সাধারণ মানুষের এমন যৌথ প্রয়াস দেশের অন্যান্য এলাকার মানুষের মধ্যেও ক্রীড়ার প্রসারে নতুন প্রেরণা জোগাবে বলে সচেতন মহল মনে করছে।

ট্যাগস :

সব ছাত্র সংগঠনকে ‘দিল্লি চলো’ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান রাহুলের

গ্রামবাসীর চাঁদায় কেনা হলো খেলার মাঠের জমি, গ্রামজুড়ে উৎসব

আপডেট সময় ০৯:৪৬:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

জাতীয় ডেস্ক: টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার দেউলী ইউনিয়নের বাবুপুর গ্রামে দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার পর নিজস্ব উদ্যোগে একটি খেলার মাঠের জমি কেনা হয়েছে। সাত শতাধিক পরিবারে সাড়ে তিন হাজারের বেশি মানুষের বসবাস হলেও এই জনপদে শিশুদের খেলাধুলার কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা ছিল না। প্রতিবছর ধান কাটার পর ফাঁকা জমিতে সাময়িকভাবে খেলাধুলা চললেও ফসলের আবাস শুরু হলে তা বন্ধ হয়ে যেত। এই দুর্ভোগ লাঘব করতে গ্রামের ধনী ও গরিব নির্বিশেষে সবাই মিলে অর্থ সংগ্রহ করে একটি স্থায়ী মাঠ গড়ার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেন।

এই মহৎ উদ্যোগের পেছনে স্থানীয় ক্রীড়াব্যক্তিত্ব খোরশেদ আলম ও উদ্যোক্তা এস এম ইকবাল মাহমুদের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁরা গ্রামের বিত্তবান ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে তহবিল গঠনের কাজ শুরু করেন এবং পরবর্তীতে গ্রামবাসীর অংশগ্রহণে একটি মতবিনিময় সভা করেন। সেই সভায় গ্রামের সর্বস্তরের মানুষ নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। পরবর্তীতে ইকবাল হোসেন সুজনের কাছ থেকে প্রতি শতাংশ বায়ান্ন হাজার টাকা মূল্যে মোট ষাট শতাংশ জমি কিনে নেওয়া হয়, যার মধ্যে এক শতাংশ জমি মালিক পক্ষ দান করেন।

নির্ধারিত জমি আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝে পাওয়ার দিনটিতে পুরো বাবুপুর গ্রামে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। গ্রামের মানুষ বাদ্য বাজিয়ে ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে নতুন এই মাঠটি গ্রহণ করেন এবং দিনভর নানা আনন্দ উৎসবে মেতে ওঠেন। যুবকেরা অর্থদাতা ও প্রবীণ ব্যক্তিদের ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেন। কিশোর ও তরুণদের দীর্ঘদিনের এই স্বপ্ন পূরণের ফলে এখন থেকে তারা সারা বছরই নিয়মিত খেলাধুলা চালিয়ে যেতে পারবে বলে স্বস্তি প্রকাশ করেছে।

স্থানীয় বিশিষ্টজনেরা গ্রামবাসীর এই স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এবং একে একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁদের মতে, এই খেলার মাঠ প্রতিষ্ঠার ফলে কিশোর ও যুবসমাজ সুস্থ ক্রীড়াচর্চার সুযোগ পাবে এবং মাদক কিংবা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকবে। সরকারি বা বেসরকারি কোনো সহযোগিতা ছাড়াই সাধারণ মানুষের এমন যৌথ প্রয়াস দেশের অন্যান্য এলাকার মানুষের মধ্যেও ক্রীড়ার প্রসারে নতুন প্রেরণা জোগাবে বলে সচেতন মহল মনে করছে।