ঢাকা ১০:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
Logo ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী Logo তরুণদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে সবার জন্য বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী Logo হারিয়ে যাওয়া প্রাণীদের দেখা মিলল রাতের আঁধারে Logo এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ শুরু ১৬ নভেম্বর Logo ফ্লাইট বাতিলে সৌদি যেতে পারছেন না প্রবাসীরা, বাড়ছে অনিশ্চয়তা Logo থাকেন নড়াইলে, ফেসবুকে চাঁদপুরের ইলিশ বিক্রির বিজ্ঞাপন দিয়ে হাতিয়ে নেন টাকা Logo সাগরপাড়ের কাঠ বা বাঁশের রিসোর্টে ছুটি কাটাবেন? বুকিংয়ের আগে এই ৮ বিষয় অবশ্যই যাচাই করুন Logo বিদেশে কোনো ফল নেওয়া যায় না কেন Logo ইউনিগ্লোবাল: বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিচ্ছে যে প্রতিষ্ঠান Logo বাহুবলে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি, আইনশৃঙ্খলা অবনতির আশঙ্কা
প্রতিনিধি নিয়োগঃ
এটি একটি প্রিন্টভার্ষণ পত্রিকার ওয়েবসাইট। সারাদেশে জেলা উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। আগ্রহীদের শুধুমাত্র ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করার জন্য বলা হইলো। -বার্তা সম্পাদক।

কীভাবে তৈরি হয় নানা রঙের আতশবাজি

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৮:০০:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট: উৎসব-পার্বণ কিংবা আনন্দের মুহূর্তে আকাশ রাঙিয়ে তোলা রঙিন আতশবাজির পেছনের রহস্য লুকিয়ে রয়েছে মূলত পরমাণুর গঠনশৈলীর মধ্যে। সাধারণ চোখে একটি আতশবাজি কেবলই বারুদ আর আলোর ফোয়ারা মনে হলেও, এর নেপথ্যে কাজ করে অত্যন্ত আকর্ষণীয় এক বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া। রসায়ন ও পদার্থবিজ্ঞানের এই অদ্ভুত মিশ্রণ ছাড়া রাতের আকাশে এমন লাল, নীল বা সবুজের বাহার ফুটিয়ে তোলা অসম্ভব ছিল।

বিজ্ঞানীদের মতে, প্রতিটি পদার্থই ক্ষুদ্রতম কণা পরমাণু দিয়ে গঠিত। পরমাণুর মূল গঠনতন্ত্রে থাকে ইলেকট্রন, প্রোটন এবং নিউট্রন। এর মধ্যে ধনাত্মক চার্জযুক্ত প্রোটন ও আধানহীন নিউট্রন পরমাণুর কেন্দ্র বা নিউক্লিয়াসের ভেতর আবদ্ধ থাকে। অন্যদিকে, ঋণাত্মক চার্জযুক্ত ইলেকট্রনগুলো নিউক্লিয়াসকে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট শক্তির স্তরে বা কক্ষপথে সর্বদা প্রদক্ষিণ করতে থাকে।

যখন আতশবাজিতে আগুন দেওয়া হয়, তখন প্রচণ্ড তাপশক্তির প্রভাবে এই ইলেকট্রনগুলো উত্তেজিত হয়ে পড়ে। অতিরিক্ত শক্তি শোষণ করার কারণে ইলেকট্রনগুলো তাদের স্বাভাবিক শক্তির স্তর ছেড়ে সাময়িকভাবে উচ্চতর শক্তির স্তরে লাফিয়ে চলে যায়। তবে এই উচ্চ শক্তিস্তরে ইলেকট্রনগুলো বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে পারে না এবং তা আবার নিজের আগের অবস্থানে ফিরে আসে।

উচ্চ স্তর থেকে নিম্ন স্তরে ফিরে আসার সময় ইলেকট্রনগুলো অতিরিক্ত শক্তি আলোর কণা বা ফোটন হিসেবে ত্যাগ করে। ঠিক কোন মৌল ব্যবহার করা হচ্ছে এবং তার ইলেকট্রনগুলো কী পরিমাণ শক্তি বিকিরণ করছে, তার ওপর ভিত্তি করে আলোর রঙ নির্ধারিত হয়। যেমন সোডিয়ামের জন্য হলুদ আর স্ট্রনসিয়ামের কারণে লাল রঙের বর্ণালী তৈরি হয়।

এভাবেই নির্দিষ্ট কিছু রাসায়নিক মৌল ও ধাতুর নিখুঁত ব্যবহারের মাধ্যমে আতশবাজিতে পছন্দসই রঙের পসরা সাজানো হয়। প্রাচীন কাল থেকে শুরু করে আধুনিক বিজ্ঞান যুগেও আতশবাজি তৈরির এই মৌলিক নীতি অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রতিবার যখন আকাশে কোনো বর্ণিল বিস্ফোরণ ঘটে, তখন মূলত পরমাণুর ভেতরে চলা শক্তির এই রূপান্তরকেই আমরা খালি চোখে উপভোগ করি।

ট্যাগস :

৩ দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

কীভাবে তৈরি হয় নানা রঙের আতশবাজি

আপডেট সময় ০৮:০০:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

ডেস্ক রিপোর্ট: উৎসব-পার্বণ কিংবা আনন্দের মুহূর্তে আকাশ রাঙিয়ে তোলা রঙিন আতশবাজির পেছনের রহস্য লুকিয়ে রয়েছে মূলত পরমাণুর গঠনশৈলীর মধ্যে। সাধারণ চোখে একটি আতশবাজি কেবলই বারুদ আর আলোর ফোয়ারা মনে হলেও, এর নেপথ্যে কাজ করে অত্যন্ত আকর্ষণীয় এক বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া। রসায়ন ও পদার্থবিজ্ঞানের এই অদ্ভুত মিশ্রণ ছাড়া রাতের আকাশে এমন লাল, নীল বা সবুজের বাহার ফুটিয়ে তোলা অসম্ভব ছিল।

বিজ্ঞানীদের মতে, প্রতিটি পদার্থই ক্ষুদ্রতম কণা পরমাণু দিয়ে গঠিত। পরমাণুর মূল গঠনতন্ত্রে থাকে ইলেকট্রন, প্রোটন এবং নিউট্রন। এর মধ্যে ধনাত্মক চার্জযুক্ত প্রোটন ও আধানহীন নিউট্রন পরমাণুর কেন্দ্র বা নিউক্লিয়াসের ভেতর আবদ্ধ থাকে। অন্যদিকে, ঋণাত্মক চার্জযুক্ত ইলেকট্রনগুলো নিউক্লিয়াসকে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট শক্তির স্তরে বা কক্ষপথে সর্বদা প্রদক্ষিণ করতে থাকে।

যখন আতশবাজিতে আগুন দেওয়া হয়, তখন প্রচণ্ড তাপশক্তির প্রভাবে এই ইলেকট্রনগুলো উত্তেজিত হয়ে পড়ে। অতিরিক্ত শক্তি শোষণ করার কারণে ইলেকট্রনগুলো তাদের স্বাভাবিক শক্তির স্তর ছেড়ে সাময়িকভাবে উচ্চতর শক্তির স্তরে লাফিয়ে চলে যায়। তবে এই উচ্চ শক্তিস্তরে ইলেকট্রনগুলো বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে পারে না এবং তা আবার নিজের আগের অবস্থানে ফিরে আসে।

উচ্চ স্তর থেকে নিম্ন স্তরে ফিরে আসার সময় ইলেকট্রনগুলো অতিরিক্ত শক্তি আলোর কণা বা ফোটন হিসেবে ত্যাগ করে। ঠিক কোন মৌল ব্যবহার করা হচ্ছে এবং তার ইলেকট্রনগুলো কী পরিমাণ শক্তি বিকিরণ করছে, তার ওপর ভিত্তি করে আলোর রঙ নির্ধারিত হয়। যেমন সোডিয়ামের জন্য হলুদ আর স্ট্রনসিয়ামের কারণে লাল রঙের বর্ণালী তৈরি হয়।

এভাবেই নির্দিষ্ট কিছু রাসায়নিক মৌল ও ধাতুর নিখুঁত ব্যবহারের মাধ্যমে আতশবাজিতে পছন্দসই রঙের পসরা সাজানো হয়। প্রাচীন কাল থেকে শুরু করে আধুনিক বিজ্ঞান যুগেও আতশবাজি তৈরির এই মৌলিক নীতি অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রতিবার যখন আকাশে কোনো বর্ণিল বিস্ফোরণ ঘটে, তখন মূলত পরমাণুর ভেতরে চলা শক্তির এই রূপান্তরকেই আমরা খালি চোখে উপভোগ করি।