ঢাকা ০৯:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
Logo ক্ষমতার রাজনীতি ও আমলাতান্ত্রিক দুষ্টচক্রে জিম্মি রাষ্ট্রসংস্কার: টিআইবি Logo বিদেশে উচ্চশিক্ষার খোঁজে ‘স্টাডি অ্যাব্রোড ফেয়ারে’ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভিড় Logo গ্রামীণ জনপদে ঘরে ঘরে ডায়াবেটিসের চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া হবে Logo আকিজ গ্রুপে নিয়োগ, আবেদন ২২ অক্টোবর পর্যন্ত Logo পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় জনসংযোগ সমিতির নেতৃত্বে সুমন-শিবলী Logo প্রতিটি ধর্মই মানুষকে সত্য, ন্যায় ও মানবকল্যাণের শিক্ষা দেয়: রাষ্ট্রপতি Logo ভোরে প্রশ্নপত্র আসে এনবিআরের দুই কর্মীর কাছে, কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে উত্তর Logo ৮-১০ লাখে যুব উন্নয়নের প্রশ্নফাঁস, গ্রেপ্তার ৭ জনের ৫ জনই সরকারি কর্মচারী Logo অনলাইনে আকর্ষণীয় পণ্যের বিজ্ঞাপন দিয়ে বিশ্বজুড়ে গুপ্তচরবৃত্তি চালিয়েছে ইসরায়েলি কোম্পানি Logo মানারাতে দুই দিনব্যাপী স্টেম ফেস্ট শুরু, অংশ নিচ্ছে ৮ শতাধিক শিক্ষার্থী
প্রতিনিধি নিয়োগঃ
এটি একটি প্রিন্টভার্ষণ পত্রিকার ওয়েবসাইট। সারাদেশে জেলা উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। আগ্রহীদের শুধুমাত্র ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করার জন্য বলা হইলো। -বার্তা সম্পাদক।

অনলাইনে আকর্ষণীয় পণ্যের বিজ্ঞাপন দিয়ে বিশ্বজুড়ে গুপ্তচরবৃত্তি চালিয়েছে ইসরায়েলি কোম্পানি

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৭:১৫:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: অনলাইন বিজ্ঞাপনের বিশাল নেটওয়ার্ককে কাজে লাগিয়ে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর গোপন নজরদারি চালিয়েছে ইসরায়েলের একটি ডিজিটাল বিজ্ঞাপন সংস্থা। ডিসকভার-টেক নামক এই প্রতিষ্ঠানটি সাধারণ পণ্যের বিজ্ঞাপনের আড়ালে ব্যবহারকারীদের ডিভাইসে অবৈধভাবে প্রবেশ এবং হ্যাকিংয়ের মতো কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। কানাডার সাইবার নজরদারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিটিজেন ল্যাব এবং নিউ ইয়র্কের বিজ্ঞাপন নিরাপত্তা সংস্থা কনফিয়েন্টের পৃথক দুটি অনুসন্ধানে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। গবেষকদের মতে, ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থাটি মূলত আন্তর্জাতিক নজরদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ক্ষতিকর কোড বা স্পাইওয়্যার ছড়ানোর মাধ্যম হিসেবে কাজ করত। গুগল, কমকাস্ট এবং ইয়ানডেক্সের মতো শীর্ষস্থানীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে তাদের এই সাইবার তৎপরতা চালানো হতো।

প্রতিবেদনে জানা গেছে, ডিসকভার-টেক প্রতিদিন বিশ্বব্যাপী প্রায় এক কোটিরও বেশি বিজ্ঞাপন পরিচালনা করত। সাধারণত মোবাইল ফোন কিংবা ইয়ারবাডের মতো নিত্যব্যবহার্য ও আকর্ষণীয় পণ্যের বিজ্ঞাপনের ছদ্মবেশে এক লাখের বেশি ওয়েবসাইট এবং হাজার হাজার অ্যাপে এই ক্ষতিকর লিংক ছড়িয়ে দেওয়া হতো। কোনো ব্যবহারকারী নির্দিষ্ট ওই ওয়েবসাইট বা অ্যাপে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গেই তাদের ডিভাইস ট্র্যাকিংয়ের আওতায় চলে আসত। অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের অজান্তেই তাদের ফোন নম্বর ও সংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হতো। এমনকি কিছু বিশেষ বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের স্মার্টফোনে ক্যান্ডিরু নামক একটি শক্তিশালী ইসরায়েলি স্পাইওয়্যার গোপনে ইনস্টল করে দেওয়া হতো।

এই সাইবার গুপ্তচরবৃত্তির পরিধি এতটাই বিস্তৃত ছিল যে তা বিশ্বের অত্যন্ত সংবেদনশীল নেটওয়ার্কগুলো পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল। সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বেশ কিছু কম্পিউটারে এই বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ক্যান্ডিরু স্পাইওয়্যার ব্যবহার করে সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছিল। কনফিয়েন্টের সহ-প্রতিষ্ঠাতা জেরোম ড্যাঙ্গু জানান, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটেও এই বিজ্ঞাপন প্রদর্শিত হয়েছে। এছাড়া ফিলিস্তিনের প্রায় প্রতিটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এই ইসরায়েলি ফার্মের বিজ্ঞাপন ছড়িয়ে দিয়ে সেখানকার সামগ্রিক ইন্টারনেট কার্যক্রমের ওপর নজর রাখা হতো।

সিটিজেন ল্যাবের তথ্য অনুযায়ী, জাতিসংঘ, ন্যাটো, ইউরোপীয় কমিশন এবং বিভিন্ন দেশের সরকারি নেটওয়ার্কেও এই ক্ষতিকর বিজ্ঞাপন পৌঁছেছিল। পাশাপাশি এনভিডিয়া ও ব্রডকমের মতো বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমও এই নজরদারির লক্ষ্যবস্তু ছিল। এই ভয়াবহ তথ্য প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক বিজ্ঞাপন বাজার থেকে ডিসকভার-টেককে নিষ্ক্রিয় করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নীতিমালা ভঙ্গের অভিযোগে গুগল ইতিমধ্যে তাদের প্ল্যাটফর্ম থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করেছে। এছাড়া অন্যান্য ডিজিটাল মার্কেটিং সংস্থাও তাদের কার্যক্রম স্থগিত করেছে, যা বর্তমান ডিজিটাল যুগে সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ক্ষমতার রাজনীতি ও আমলাতান্ত্রিক দুষ্টচক্রে জিম্মি রাষ্ট্রসংস্কার: টিআইবি

অনলাইনে আকর্ষণীয় পণ্যের বিজ্ঞাপন দিয়ে বিশ্বজুড়ে গুপ্তচরবৃত্তি চালিয়েছে ইসরায়েলি কোম্পানি

আপডেট সময় ০৭:১৫:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: অনলাইন বিজ্ঞাপনের বিশাল নেটওয়ার্ককে কাজে লাগিয়ে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর গোপন নজরদারি চালিয়েছে ইসরায়েলের একটি ডিজিটাল বিজ্ঞাপন সংস্থা। ডিসকভার-টেক নামক এই প্রতিষ্ঠানটি সাধারণ পণ্যের বিজ্ঞাপনের আড়ালে ব্যবহারকারীদের ডিভাইসে অবৈধভাবে প্রবেশ এবং হ্যাকিংয়ের মতো কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। কানাডার সাইবার নজরদারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিটিজেন ল্যাব এবং নিউ ইয়র্কের বিজ্ঞাপন নিরাপত্তা সংস্থা কনফিয়েন্টের পৃথক দুটি অনুসন্ধানে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। গবেষকদের মতে, ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থাটি মূলত আন্তর্জাতিক নজরদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ক্ষতিকর কোড বা স্পাইওয়্যার ছড়ানোর মাধ্যম হিসেবে কাজ করত। গুগল, কমকাস্ট এবং ইয়ানডেক্সের মতো শীর্ষস্থানীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে তাদের এই সাইবার তৎপরতা চালানো হতো।

প্রতিবেদনে জানা গেছে, ডিসকভার-টেক প্রতিদিন বিশ্বব্যাপী প্রায় এক কোটিরও বেশি বিজ্ঞাপন পরিচালনা করত। সাধারণত মোবাইল ফোন কিংবা ইয়ারবাডের মতো নিত্যব্যবহার্য ও আকর্ষণীয় পণ্যের বিজ্ঞাপনের ছদ্মবেশে এক লাখের বেশি ওয়েবসাইট এবং হাজার হাজার অ্যাপে এই ক্ষতিকর লিংক ছড়িয়ে দেওয়া হতো। কোনো ব্যবহারকারী নির্দিষ্ট ওই ওয়েবসাইট বা অ্যাপে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গেই তাদের ডিভাইস ট্র্যাকিংয়ের আওতায় চলে আসত। অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের অজান্তেই তাদের ফোন নম্বর ও সংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হতো। এমনকি কিছু বিশেষ বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের স্মার্টফোনে ক্যান্ডিরু নামক একটি শক্তিশালী ইসরায়েলি স্পাইওয়্যার গোপনে ইনস্টল করে দেওয়া হতো।

এই সাইবার গুপ্তচরবৃত্তির পরিধি এতটাই বিস্তৃত ছিল যে তা বিশ্বের অত্যন্ত সংবেদনশীল নেটওয়ার্কগুলো পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল। সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বেশ কিছু কম্পিউটারে এই বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ক্যান্ডিরু স্পাইওয়্যার ব্যবহার করে সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছিল। কনফিয়েন্টের সহ-প্রতিষ্ঠাতা জেরোম ড্যাঙ্গু জানান, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটেও এই বিজ্ঞাপন প্রদর্শিত হয়েছে। এছাড়া ফিলিস্তিনের প্রায় প্রতিটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এই ইসরায়েলি ফার্মের বিজ্ঞাপন ছড়িয়ে দিয়ে সেখানকার সামগ্রিক ইন্টারনেট কার্যক্রমের ওপর নজর রাখা হতো।

সিটিজেন ল্যাবের তথ্য অনুযায়ী, জাতিসংঘ, ন্যাটো, ইউরোপীয় কমিশন এবং বিভিন্ন দেশের সরকারি নেটওয়ার্কেও এই ক্ষতিকর বিজ্ঞাপন পৌঁছেছিল। পাশাপাশি এনভিডিয়া ও ব্রডকমের মতো বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমও এই নজরদারির লক্ষ্যবস্তু ছিল। এই ভয়াবহ তথ্য প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক বিজ্ঞাপন বাজার থেকে ডিসকভার-টেককে নিষ্ক্রিয় করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নীতিমালা ভঙ্গের অভিযোগে গুগল ইতিমধ্যে তাদের প্ল্যাটফর্ম থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করেছে। এছাড়া অন্যান্য ডিজিটাল মার্কেটিং সংস্থাও তাদের কার্যক্রম স্থগিত করেছে, যা বর্তমান ডিজিটাল যুগে সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।