ঢাকা ০৯:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
Logo ক্যালিফোর্নিয়ায় ২০ হাজার ব্যালট বাতিলে ট্রাম্প প্রশাসনের চেষ্টা সুপ্রিম কোর্টে খারিজ Logo বাসে রং করলেই রুট রেশনালাইজেশন হবে না Logo যেখানে সারা বছর ৬০০ টাকায় বাটার জুতা কেনা যায়, বছরে বিক্রি ১ লাখ জোড়া Logo পত্রিকা: ‘পোশাকশ্রমিক-হকারদের মাঠে নামিয়ে আ’লীগের ভয়ঙ্কর ছক’ Logo রাজনীতি আটকে গেছে ডানপন্থী ফাঁদে, বাম ও লিবারেলরা কী করবে Logo ই-রিকশার নিবন্ধন কীভাবে, কারা পাবেন, আয় কেমন হতে পারে Logo চীন-জাপানের প্রতিযোগিতা ও বাংলাদেশ Logo মূল্যস্ফীতির চাপে সঞ্চয়ের পুরোনো শিক্ষা Logo তরুণদের টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আশার আলো, ছয় মাসে রেমিশন ৫৪ শতাংশের Logo হিমালয়ে বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা, ঝুঁকিতে তিন লক্ষেরও বেশি মানুষ
প্রতিনিধি নিয়োগঃ
এটি একটি প্রিন্টভার্ষণ পত্রিকার ওয়েবসাইট। সারাদেশে জেলা উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। আগ্রহীদের শুধুমাত্র ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করার জন্য বলা হইলো। -বার্তা সম্পাদক।

চীন-জাপানের প্রতিযোগিতা ও বাংলাদেশ

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৮:০০:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: এশিয়ার প্রভাবশালী দুই অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তি চীন এবং জাপানের মধ্যে ঐতিহাসিককাল থেকেই নানা স্তরে প্রতিযোগিতা চলে আসছে। প্রযুক্তিনির্ভর বাণিজ্য থেকে শুরু করে আঞ্চলিক ভূরাজনীতি—সব ক্ষেত্রেই দেশ দুটির এই নীরব প্রতিদ্বন্দ্বিতা দৃশ্যমান। ঐতিহাসিকভাবে এশিয়ার নেতৃত্বে জাপান এগিয়ে থাকলেও, চীনের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক ও সামরিক অগ্রগতি জাপানকে একধরনের কৌশলগত চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে। এই দুই পরাশক্তির দ্বন্দ্ব কেবল তাদের নিজেদের ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে সীমিত নেই, বরং সমগ্র এশিয়ার ভবিষ্যৎ ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারণে এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি লড়াই হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

বাংলাদেশের পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং কৌশলগত সহযোগিতার ক্ষেত্রে চীন ও জাপান উভয়েই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দেশের প্রতিরক্ষা খাত এবং বড় বড় প্রকল্পে চীনের দীর্ঘদিনের অংশগ্রহণ রয়েছে, যার ফলে বেইজিংকে কৌশলগত মিত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অন্যদিকে, ভারতের প্রধান মিত্র হিসেবে জাপানের প্রভাবও এ অঞ্চলে বেশ সুদূরপ্রসারী। সম্প্রতি সরকারের শীর্ষপর্যায়ের চীন ও জাপান সফরকালে এই দুই দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ও ভূরাজনৈতিক হিসাবনিকাশ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগ এবং জাপানের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন বিভিন্ন মেগা প্রকল্প ঘিরে ঢাকার কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

চীন সফরের সময় অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বিনিয়োগের পাশাপাশি তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্প এবং চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তবে এসব বড় প্রকল্পে অংশগ্রহণ নিয়ে আঞ্চলিক ভূরাজনীতির নানা সমীকরণ জড়িয়ে রয়েছে। ভারতের কৌশলগত উদ্বেগের বিষয়টি মাথায় রেখে বাংলাদেশ সরকার এখন তিস্তা প্রকল্পটি নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নের কথা ভাবছে। অন্যদিকে, পরবর্তীতে জাপান সফরে গিয়ে দুই দেশের মধ্যে বেশ কিছু সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার মধ্যে কক্সবাজারের মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ প্রকল্পটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই বন্দরকে কেন্দ্র করে জাপানি বিনিয়োগের বড় সম্ভাবনা তৈরি হলেও বিপুল ঋণের বোঝা ও আঞ্চলিক যোগাযোগের বিষয়গুলো নিয়ে দেশের অভ্যন্তরে নানা হিসাব-নিকাশ চলছে।

অতীতে ট্রানজিট বা বন্দর ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা খুব একটা সুখকর হয়নি, যা নিয়ে সচেতন মহলে নানা বিতর্ক রয়েছে। আঞ্চলিক যোগাযোগ এবং বাণিজ্যের প্রসার ঘটলেও এসব বড় অবকাঠামো প্রকল্পের সুফল এবং এর অর্থনৈতিক কার্যকারিতা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রশ্ন থেকে যায়। বঙ্গোপসাগরের কৌশলগত গুরুত্ব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চীন ও জাপানের মতো শক্তিগুলোর প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা এই অঞ্চলে আরও ঘনীভূত হচ্ছে। এই জটিল ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় ভারসাম্য বজায় রেখে দেশের স্বার্থ রক্ষা করা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ এবং দূরদর্শিতাপূর্ণ এক কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ক্যালিফোর্নিয়ায় ২০ হাজার ব্যালট বাতিলে ট্রাম্প প্রশাসনের চেষ্টা সুপ্রিম কোর্টে খারিজ

চীন-জাপানের প্রতিযোগিতা ও বাংলাদেশ

আপডেট সময় ০৮:০০:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: এশিয়ার প্রভাবশালী দুই অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তি চীন এবং জাপানের মধ্যে ঐতিহাসিককাল থেকেই নানা স্তরে প্রতিযোগিতা চলে আসছে। প্রযুক্তিনির্ভর বাণিজ্য থেকে শুরু করে আঞ্চলিক ভূরাজনীতি—সব ক্ষেত্রেই দেশ দুটির এই নীরব প্রতিদ্বন্দ্বিতা দৃশ্যমান। ঐতিহাসিকভাবে এশিয়ার নেতৃত্বে জাপান এগিয়ে থাকলেও, চীনের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক ও সামরিক অগ্রগতি জাপানকে একধরনের কৌশলগত চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে। এই দুই পরাশক্তির দ্বন্দ্ব কেবল তাদের নিজেদের ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে সীমিত নেই, বরং সমগ্র এশিয়ার ভবিষ্যৎ ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারণে এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি লড়াই হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

বাংলাদেশের পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং কৌশলগত সহযোগিতার ক্ষেত্রে চীন ও জাপান উভয়েই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দেশের প্রতিরক্ষা খাত এবং বড় বড় প্রকল্পে চীনের দীর্ঘদিনের অংশগ্রহণ রয়েছে, যার ফলে বেইজিংকে কৌশলগত মিত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অন্যদিকে, ভারতের প্রধান মিত্র হিসেবে জাপানের প্রভাবও এ অঞ্চলে বেশ সুদূরপ্রসারী। সম্প্রতি সরকারের শীর্ষপর্যায়ের চীন ও জাপান সফরকালে এই দুই দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ও ভূরাজনৈতিক হিসাবনিকাশ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগ এবং জাপানের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন বিভিন্ন মেগা প্রকল্প ঘিরে ঢাকার কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

চীন সফরের সময় অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বিনিয়োগের পাশাপাশি তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্প এবং চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তবে এসব বড় প্রকল্পে অংশগ্রহণ নিয়ে আঞ্চলিক ভূরাজনীতির নানা সমীকরণ জড়িয়ে রয়েছে। ভারতের কৌশলগত উদ্বেগের বিষয়টি মাথায় রেখে বাংলাদেশ সরকার এখন তিস্তা প্রকল্পটি নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নের কথা ভাবছে। অন্যদিকে, পরবর্তীতে জাপান সফরে গিয়ে দুই দেশের মধ্যে বেশ কিছু সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার মধ্যে কক্সবাজারের মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ প্রকল্পটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই বন্দরকে কেন্দ্র করে জাপানি বিনিয়োগের বড় সম্ভাবনা তৈরি হলেও বিপুল ঋণের বোঝা ও আঞ্চলিক যোগাযোগের বিষয়গুলো নিয়ে দেশের অভ্যন্তরে নানা হিসাব-নিকাশ চলছে।

অতীতে ট্রানজিট বা বন্দর ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা খুব একটা সুখকর হয়নি, যা নিয়ে সচেতন মহলে নানা বিতর্ক রয়েছে। আঞ্চলিক যোগাযোগ এবং বাণিজ্যের প্রসার ঘটলেও এসব বড় অবকাঠামো প্রকল্পের সুফল এবং এর অর্থনৈতিক কার্যকারিতা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রশ্ন থেকে যায়। বঙ্গোপসাগরের কৌশলগত গুরুত্ব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চীন ও জাপানের মতো শক্তিগুলোর প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা এই অঞ্চলে আরও ঘনীভূত হচ্ছে। এই জটিল ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় ভারসাম্য বজায় রেখে দেশের স্বার্থ রক্ষা করা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ এবং দূরদর্শিতাপূর্ণ এক কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ।