ঢাকা ১১:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
Logo ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৬৮ কর্মচারীর বেতন বন্ধ, চাকরি হারানোর শঙ্কা Logo সমাজ ও রাষ্ট্রের ক্ষতিকারীদের সঙ্গে সম্পর্ক নয়, নীতিতে আমরা অটল থাকি: প্রথম আলো সম্পাদক Logo গ্যাসের সরবরাহ কমেছে, এমন চলবে কত দিন Logo শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি নির্ধারণ করবে সরকার: মাহদী আমিন Logo সাংবাদিক গ্রেপ্তারে লাগবে আদালতের অনুমতি, সাইবার সুরক্ষা আইনে যুক্ত হচ্ছে বিধান Logo ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি আসছে শিগগির Logo চীনের সঙ্গে সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিতে চায় বিএনপি: রিজভী Logo চীনা দূতাবাসের অনুষ্ঠানে জামায়াত প্রতিনিধি দল Logo খোকা ছিলেন রাজপথের খাঁটি যোদ্ধা: মির্জা আব্বাস Logo সিলেটে আলোচনা সভা করেছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের নেতারা, স্থান উল্লেখ করেননি
প্রতিনিধি নিয়োগঃ
এটি একটি প্রিন্টভার্ষণ পত্রিকার ওয়েবসাইট। সারাদেশে জেলা উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। আগ্রহীদের শুধুমাত্র ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করার জন্য বলা হইলো। -বার্তা সম্পাদক।

সাংবাদিক গ্রেপ্তারে লাগবে আদালতের অনুমতি, সাইবার সুরক্ষা আইনে যুক্ত হচ্ছে বিধান

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৯:৪৬:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

আইন-আদালত ডেস্ক: সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সুরক্ষায় সাইবার সুরক্ষা সংশোধন আইন ২০২৬-এর খসড়ায় বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংবাদ প্রকাশের জেরে কোনো সাংবাদিক, গণমাধ্যমের মালিক কিংবা দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের আগে আদালতের পূর্বানুমতি নেওয়ার বিধান যুক্ত করার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সরকারের নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, এই সংশোধনী কার্যকর হলে সংবাদকর্মীদের অহেতুক হয়রানি রোধ করা সম্ভব হবে এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ আরও সুদৃঢ় হবে।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের মতামতকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে প্রস্তাবিত আইনটির খসড়া চূড়ান্ত করা হচ্ছে। বিশেষ করে আইনটি যেন কোনোভাবেই সাংবাদিক বা সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত না হয়, সে বিষয়টি কঠোরভাবে নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত আইনের খসড়ায় মানহানি, সাইবার বুলিং এবং হেয় প্রতিপন্ন করার মতো বিষয়গুলোকে আলাদাভাবে মূল্যায়ন করার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মানহানির সংজ্ঞা ও এর শাস্তির বিধান প্রচলিত দণ্ডবিধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। পাশাপাশি গুজব ও অপতথ্যের সংজ্ঞা আরও পরিষ্কার করা হচ্ছে, যাতে ব্যাখ্যার অস্পষ্টতার কারণে গণমাধ্যমের কাজের পরিধি সংকুচিত না হয়। এছাড়া কোনো সংবাদপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আগে লিখিত নোটিশ প্রদান এবং তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের পর্যাপ্ত সুযোগ রাখার প্রস্তাবও বিবেচনাধীন রয়েছে।

সভায় মোবাইল কোর্টের বিধান বাদ দেওয়া, কনটেন্ট ব্লক বা অপসারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে কারণ জানানো এবং অবমুক্তির আবেদন নিষ্পত্তির সুনির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়। সাইবার অপরাধ দমনের পাশাপাশি নাগরিকদের মৌলিক অধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মধ্যে সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখাই এই সংশোধনীর মূল লক্ষ্য। খসড়া আইনটি অংশীজনদের মতামত নেওয়ার জন্য পুনরায় ওয়েবসাইটে প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে জনসাধারণের অংশগ্রহণে এটি আরও বেশি সময়োপযোগী ও গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৬৮ কর্মচারীর বেতন বন্ধ, চাকরি হারানোর শঙ্কা

সাংবাদিক গ্রেপ্তারে লাগবে আদালতের অনুমতি, সাইবার সুরক্ষা আইনে যুক্ত হচ্ছে বিধান

আপডেট সময় ০৯:৪৬:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

আইন-আদালত ডেস্ক: সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সুরক্ষায় সাইবার সুরক্ষা সংশোধন আইন ২০২৬-এর খসড়ায় বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংবাদ প্রকাশের জেরে কোনো সাংবাদিক, গণমাধ্যমের মালিক কিংবা দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের আগে আদালতের পূর্বানুমতি নেওয়ার বিধান যুক্ত করার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সরকারের নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, এই সংশোধনী কার্যকর হলে সংবাদকর্মীদের অহেতুক হয়রানি রোধ করা সম্ভব হবে এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ আরও সুদৃঢ় হবে।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের মতামতকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে প্রস্তাবিত আইনটির খসড়া চূড়ান্ত করা হচ্ছে। বিশেষ করে আইনটি যেন কোনোভাবেই সাংবাদিক বা সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত না হয়, সে বিষয়টি কঠোরভাবে নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত আইনের খসড়ায় মানহানি, সাইবার বুলিং এবং হেয় প্রতিপন্ন করার মতো বিষয়গুলোকে আলাদাভাবে মূল্যায়ন করার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মানহানির সংজ্ঞা ও এর শাস্তির বিধান প্রচলিত দণ্ডবিধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। পাশাপাশি গুজব ও অপতথ্যের সংজ্ঞা আরও পরিষ্কার করা হচ্ছে, যাতে ব্যাখ্যার অস্পষ্টতার কারণে গণমাধ্যমের কাজের পরিধি সংকুচিত না হয়। এছাড়া কোনো সংবাদপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আগে লিখিত নোটিশ প্রদান এবং তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের পর্যাপ্ত সুযোগ রাখার প্রস্তাবও বিবেচনাধীন রয়েছে।

সভায় মোবাইল কোর্টের বিধান বাদ দেওয়া, কনটেন্ট ব্লক বা অপসারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে কারণ জানানো এবং অবমুক্তির আবেদন নিষ্পত্তির সুনির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়। সাইবার অপরাধ দমনের পাশাপাশি নাগরিকদের মৌলিক অধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মধ্যে সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখাই এই সংশোধনীর মূল লক্ষ্য। খসড়া আইনটি অংশীজনদের মতামত নেওয়ার জন্য পুনরায় ওয়েবসাইটে প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে জনসাধারণের অংশগ্রহণে এটি আরও বেশি সময়োপযোগী ও গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে।