ঢাকা ০২:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
Logo উচ্চশিক্ষিত বেকারত্ব ও শ্রমবাজারে লুকিয়ে থাকা বাস্তবতা Logo ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিককে টেক্কা দিতে নতুন এআই মডেল আনল মেটা Logo স্তন ক্যানসারের ঝুঁকিতে কারা Logo কমিউনিটি ব্যাংকে কাস্টমার সার্ভিস এক্সিকিউটিভ পদে চাকরি, বেতন ২৬ হাজার টাকা Logo সাংবাদিকদের জরিমানা করাসহ স্বপ্রণোদিত ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা চায় প্রেস কাউন্সিল Logo ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে সেনা মোতায়েনের প্রয়োজন নেই: নির্বাচন কমিশনার Logo গণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে লাভ নেই: রিজভী Logo তিস্তা প্রকল্প কি ভূরাজনৈতিক খেলায় পরিণত হচ্ছে Logo ড. ইউনূসকে হেনস্তা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ. লীগের হিংসাত্মক রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ: রিজভী Logo নিরাপদ খাদ্য পরীক্ষার ভ্রাম্যমাণ ল্যাব পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী
প্রতিনিধি নিয়োগঃ
এটি একটি প্রিন্টভার্ষণ পত্রিকার ওয়েবসাইট। সারাদেশে জেলা উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। আগ্রহীদের শুধুমাত্র ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করার জন্য বলা হইলো। -বার্তা সম্পাদক।

সাংবাদিকদের জরিমানা করাসহ স্বপ্রণোদিত ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা চায় প্রেস কাউন্সিল

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০১:৩০:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

গণমাধ্যম ডেস্ক: বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও জনস্বার্থের পরিপন্থী সংবাদ প্রকাশের বিরুদ্ধে স্বপ্রণোদিত হয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা অর্জনের দাবি জানিয়েছে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে সম্প্রতি জমা দেওয়া এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি এই প্রস্তাব পেশ করে। তাদের মতে, বর্তমান ডিজিটাল ও অবাধ তথ্যপ্রবাহের যুগে অপসাংবাদিকতা এবং ভুয়া খবর রোধ করতে ১৯৭৪ সালের প্রেস কাউন্সিল আইন যুগোপযোগী করা জরুরি হয়ে পড়েছে। প্রস্তাবিত সংস্কারে সাংবাদিকদের জন্য আর্থিক জরিমানার বিধান যুক্ত করার পাশাপাশি অনলাইন গণমাধ্যমগুলোকেও এই কাউন্সিলের আওতাভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।

তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন ১৪টি প্রতিষ্ঠানের লিখিত প্রস্তাবের অংশ হিসেবে প্রেস কাউন্সিলের এই প্রতিবেদনটি সম্প্রতি সংসদীয় কমিটিতে উপস্থাপন করা হয়। সংস্থার সচিব মো. আবদুস সবুরের স্বাক্ষর করা ওই প্রতিবেদনে মোট ১৯টি নতুন এখতিয়ার ও ক্ষমতা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে সাংবাদিকদের নিবন্ধন প্রদান, ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ, সুনির্দিষ্ট আচরণবিধি প্রণয়ন এবং স্বাধীন সাংবাদিকতায় বাধা বা হামলার ঘটনায় তদন্ত করে সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া আর্থিক স্বনির্ভরতা অর্জনের জন্য সংবাদপত্রের প্রচারসংখ্যার ভিত্তিতে লেভি বা চাঁদা আদায়ের ক্ষমতা দেওয়ারও প্রস্তাব করেছে সংস্থাটি।

তবে প্রেস কাউন্সিলের এমন উদ্যোগকে স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মুক্তচিন্তার পরিপন্থী বলে অভিহিত করেছেন গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নোয়াবের সভাপতি মতিউর রহমান চৌধুরী জানিয়েছেন, ক্ষমতাচ্যুত কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের আমলেও অনুরূপ আইন প্রণয়নের চেষ্টা করা হয়েছিল এবং বর্তমান প্রেক্ষাপটেও এ ধরনের পদক্ষেপ অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। তিনি মনে করেন, প্রেস কাউন্সিলকে স্বপ্রণোদিত হয়ে তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হলে তা বিচারিক প্রক্রিয়া ও গণতান্ত্রিক চর্চার ওপর বড় ধরনের হস্তক্ষেপ হিসেবে গণ্য হবে। অতীতেও এই সংস্থাটি কার্যকর কোনো ভূমিকা রাখতে পারেনি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সাবেক গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান কামাল আহমেদ এই প্রস্তাবের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি সংস্থাকে আধা বিচারিক ক্ষমতা বা স্বপ্রণোদিত আদেশ জারির এখতিয়ার দেওয়া বড় ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি করবে। তিনি উল্লেখ করেন, ব্যর্থ কোনো প্রতিষ্ঠানকে পুনরুজ্জীবিত করার চেয়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় একটি স্বাধীন ও স্থায়ী কমিশন গঠন করা অনেক বেশি যুক্তিযুক্ত হবে। সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, অংশীজনদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়া একপক্ষীয়ভাবে এ ধরনের আইনি ক্ষমতা দেওয়া হলে তা গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করার অপচেষ্টা হিসেবেই প্রতীয়মান হবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

উচ্চশিক্ষিত বেকারত্ব ও শ্রমবাজারে লুকিয়ে থাকা বাস্তবতা

সাংবাদিকদের জরিমানা করাসহ স্বপ্রণোদিত ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা চায় প্রেস কাউন্সিল

আপডেট সময় ০১:৩০:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

গণমাধ্যম ডেস্ক: বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও জনস্বার্থের পরিপন্থী সংবাদ প্রকাশের বিরুদ্ধে স্বপ্রণোদিত হয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা অর্জনের দাবি জানিয়েছে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে সম্প্রতি জমা দেওয়া এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি এই প্রস্তাব পেশ করে। তাদের মতে, বর্তমান ডিজিটাল ও অবাধ তথ্যপ্রবাহের যুগে অপসাংবাদিকতা এবং ভুয়া খবর রোধ করতে ১৯৭৪ সালের প্রেস কাউন্সিল আইন যুগোপযোগী করা জরুরি হয়ে পড়েছে। প্রস্তাবিত সংস্কারে সাংবাদিকদের জন্য আর্থিক জরিমানার বিধান যুক্ত করার পাশাপাশি অনলাইন গণমাধ্যমগুলোকেও এই কাউন্সিলের আওতাভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।

তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন ১৪টি প্রতিষ্ঠানের লিখিত প্রস্তাবের অংশ হিসেবে প্রেস কাউন্সিলের এই প্রতিবেদনটি সম্প্রতি সংসদীয় কমিটিতে উপস্থাপন করা হয়। সংস্থার সচিব মো. আবদুস সবুরের স্বাক্ষর করা ওই প্রতিবেদনে মোট ১৯টি নতুন এখতিয়ার ও ক্ষমতা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে সাংবাদিকদের নিবন্ধন প্রদান, ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ, সুনির্দিষ্ট আচরণবিধি প্রণয়ন এবং স্বাধীন সাংবাদিকতায় বাধা বা হামলার ঘটনায় তদন্ত করে সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া আর্থিক স্বনির্ভরতা অর্জনের জন্য সংবাদপত্রের প্রচারসংখ্যার ভিত্তিতে লেভি বা চাঁদা আদায়ের ক্ষমতা দেওয়ারও প্রস্তাব করেছে সংস্থাটি।

তবে প্রেস কাউন্সিলের এমন উদ্যোগকে স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মুক্তচিন্তার পরিপন্থী বলে অভিহিত করেছেন গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নোয়াবের সভাপতি মতিউর রহমান চৌধুরী জানিয়েছেন, ক্ষমতাচ্যুত কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের আমলেও অনুরূপ আইন প্রণয়নের চেষ্টা করা হয়েছিল এবং বর্তমান প্রেক্ষাপটেও এ ধরনের পদক্ষেপ অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। তিনি মনে করেন, প্রেস কাউন্সিলকে স্বপ্রণোদিত হয়ে তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হলে তা বিচারিক প্রক্রিয়া ও গণতান্ত্রিক চর্চার ওপর বড় ধরনের হস্তক্ষেপ হিসেবে গণ্য হবে। অতীতেও এই সংস্থাটি কার্যকর কোনো ভূমিকা রাখতে পারেনি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সাবেক গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান কামাল আহমেদ এই প্রস্তাবের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি সংস্থাকে আধা বিচারিক ক্ষমতা বা স্বপ্রণোদিত আদেশ জারির এখতিয়ার দেওয়া বড় ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি করবে। তিনি উল্লেখ করেন, ব্যর্থ কোনো প্রতিষ্ঠানকে পুনরুজ্জীবিত করার চেয়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় একটি স্বাধীন ও স্থায়ী কমিশন গঠন করা অনেক বেশি যুক্তিযুক্ত হবে। সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, অংশীজনদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়া একপক্ষীয়ভাবে এ ধরনের আইনি ক্ষমতা দেওয়া হলে তা গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করার অপচেষ্টা হিসেবেই প্রতীয়মান হবে।