আপডেট সময়
১১:০৩:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
১
বার পড়া হয়েছে
সমাজে নারীর অবস্থান নিয়ে আমাদের নতুন করে ভাবতে হবে: সারা হোসেন
জাতীয় ডেস্ক: গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন লড়াইয়ে নারীরা সবসময় সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিলেও বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তাঁদের অংশগ্রহণ অত্যন্ত সীমিত থাকে। রাজনৈতিক রূপান্তর প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করার পরও সংবিধান প্রণয়ন কিংবা নতুন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলো থেকে নারীরা প্রায়ই বঞ্চিত হন। এই কাঠামোগত বৈষম্য দূর করতে মুসলিম সমাজে নারীর প্রকৃত অবস্থান ও অধিকার নিয়ে নতুন করে গভীরভাবে চিন্তা করার সময় এসেছে বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনেরা। সম্প্রতি রাজধানী ঢাকার মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টার ইনে আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন। ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি), ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় এবং উইমেন লিভিং আন্ডার মুসলিম লজ (ডব্লিউএলইউএমএল) যৌথভাবে এই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করে।উক্ত সম্মেলনে বাংলাদেশ ছাড়াও আফগানিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, পাকিস্তান, ফিলিস্তিন ও সিরিয়া থেকে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, অ্যাক্টিভিস্ট, আইনপ্রণেতা, আইনজীবী ও গবেষকেরা অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ দেশের রাজনৈতিক রূপান্তর, অন্তর্বর্তীকালীন ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রগঠনে নারীদের অবদান ও বঞ্চনার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এবং ব্লাস্টের অনারারি নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন সম্মেলনে প্রশ্ন তোলেন যে, সাম্প্রতিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর নারীদের অধিকার নিয়ে যে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল, তা বাস্তবে কতটা রূপান্তর ঘটাতে পেরেছে। তিনি সমাজে নারীর অবস্থান বদলে ফেলার আহ্বান জানিয়ে বলেন যে, নারী অধিকার নিয়ে সনাতন ধারা বজায় থাকলে পরিস্থিতির কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে না এবং নারী আন্দোলনের কর্মীদের রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে বৃহত্তর ঐক্যের ডাক দেন।সম্মেলনে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাহী পরিচালক ড. ইমরান মতিন তাঁর বক্তব্যে বলেন যে, বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময়ে নারীরা একদিকে যেমন আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তি হন, অন্যদিকে নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থানের ফলে তাঁরা নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্তও হন। এই জটিল পরিসরটিকে সঠিকভাবে সুসংগঠিত করা সম্ভব হলে নারীরা সমাজ পরিবর্তনের সবচেয়ে শক্তিশালী কারিগর হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন। কনকর্ডিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. হোমা হুদফার বলেন যে, রাজনৈতিক পালাবদলের যুগে নারীদের দীর্ঘ লড়াইয়ে অর্জিত অধিকারগুলো প্রায়ই নানা উপায়ে খর্ব করা হয়। নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থার জন্য নিয়মকানুন তৈরির সময় নারীদের সরাসরি উপস্থিতি নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন যে, সংবিধানে লিঙ্গসমতার স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি তা বাস্তবায়নের উপযোগী শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে।স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক ড. মোনা তাজালি তাঁর বক্তব্যে একটি প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণার কথা উল্লেখ করে জানান যে, অনেক ভাবা হয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই জেন্ডার সমতা চলে আসবে, যা মূলত সঠিক নয়। রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময়ে শীর্ষ পদে কিছু নারীর উপস্থিতি দেখা গেলেও সেই অবস্থানগুলো অত্যন্ত সাময়িক ও নাজুক হয়ে থাকে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজ রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ আরও স্বচ্ছ ও দৃশ্যমান করার ওপর জোর দিয়ে বলেন যে, কোনো ধরনের জোরজবরদস্তি ছাড়াই নারী ও পুরুষকে যৌথভাবে রাজনৈতিক ক্ষমতা কাঠбামো গড়ে তুলতে হবে। সম্মেলনের সমাপনী বক্তব্যে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন ড. সামিয়া হক মুসলিম সমাজে নারীর প্রকৃত অগ্রগতির জন্য জাতীয় সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সংহতি ও ঐক্য গড়ে তোলার তাগিদ দেন।
জাতীয় ডেস্ক: গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন লড়াইয়ে নারীরা সবসময় সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিলেও বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তাঁদের অংশগ্রহণ অত্যন্ত সীমিত থাকে। রাজনৈতিক রূপান্তর প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করার পরও সংবিধান প্রণয়ন কিংবা নতুন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলো থেকে নারীরা প্রায়ই বঞ্চিত হন। এই কাঠামোগত বৈষম্য দূর করতে মুসলিম সমাজে নারীর প্রকৃত অবস্থান ও অধিকার নিয়ে নতুন করে গভীরভাবে চিন্তা করার সময় এসেছে বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনেরা। সম্প্রতি রাজধানী ঢাকার মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টার ইনে আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন। ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি), ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় এবং উইমেন লিভিং আন্ডার মুসলিম লজ (ডব্লিউএলইউএমএল) যৌথভাবে এই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করে।
উক্ত সম্মেলনে বাংলাদেশ ছাড়াও আফগানিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, পাকিস্তান, ফিলিস্তিন ও সিরিয়া থেকে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, অ্যাক্টিভিস্ট, আইনপ্রণেতা, আইনজীবী ও গবেষকেরা অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ দেশের রাজনৈতিক রূপান্তর, অন্তর্বর্তীকালীন ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রগঠনে নারীদের অবদান ও বঞ্চনার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এবং ব্লাস্টের অনারারি নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন সম্মেলনে প্রশ্ন তোলেন যে, সাম্প্রতিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর নারীদের অধিকার নিয়ে যে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল, তা বাস্তবে কতটা রূপান্তর ঘটাতে পেরেছে। তিনি সমাজে নারীর অবস্থান বদলে ফেলার আহ্বান জানিয়ে বলেন যে, নারী অধিকার নিয়ে সনাতন ধারা বজায় থাকলে পরিস্থিতির কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে না এবং নারী আন্দোলনের কর্মীদের রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে বৃহত্তর ঐক্যের ডাক দেন।
সম্মেলনে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাহী পরিচালক ড. ইমরান মতিন তাঁর বক্তব্যে বলেন যে, বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময়ে নারীরা একদিকে যেমন আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তি হন, অন্যদিকে নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থানের ফলে তাঁরা নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্তও হন। এই জটিল পরিসরটিকে সঠিকভাবে সুসংগঠিত করা সম্ভব হলে নারীরা সমাজ পরিবর্তনের সবচেয়ে শক্তিশালী কারিগর হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন। কনকর্ডিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. হোমা হুদফার বলেন যে, রাজনৈতিক পালাবদলের যুগে নারীদের দীর্ঘ লড়াইয়ে অর্জিত অধিকারগুলো প্রায়ই নানা উপায়ে খর্ব করা হয়। নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থার জন্য নিয়মকানুন তৈরির সময় নারীদের সরাসরি উপস্থিতি নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন যে, সংবিধানে লিঙ্গসমতার স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি তা বাস্তবায়নের উপযোগী শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে।
স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক ড. মোনা তাজালি তাঁর বক্তব্যে একটি প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণার কথা উল্লেখ করে জানান যে, অনেক ভাবা হয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই জেন্ডার সমতা চলে আসবে, যা মূলত সঠিক নয়। রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময়ে শীর্ষ পদে কিছু নারীর উপস্থিতি দেখা গেলেও সেই অবস্থানগুলো অত্যন্ত সাময়িক ও নাজুক হয়ে থাকে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজ রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ আরও স্বচ্ছ ও দৃশ্যমান করার ওপর জোর দিয়ে বলেন যে, কোনো ধরনের জোরজবরদস্তি ছাড়াই নারী ও পুরুষকে যৌথভাবে রাজনৈতিক ক্ষমতা কাঠбামো গড়ে তুলতে হবে। সম্মেলনের সমাপনী বক্তব্যে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন ড. সামিয়া হক মুসলিম সমাজে নারীর প্রকৃত অগ্রগতির জন্য জাতীয় সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সংহতি ও ঐক্য গড়ে তোলার তাগিদ দেন।