ঢাকা ০৪:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
Logo হাবিপ্রবির গবেষণা: উপকারী ব্যাকটেরিয়ায় কীটনাশক ছাড়াই বেগুন-ঢেঁড়স চাষ Logo মাদারীপুরে আকস্মিক পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, দুই নার্সকে অব্যাহতি Logo বে টার্মিনালে বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে আগ্রহী সিঙ্গাপুরের পিএসএ Logo সংবিধান সংশোধন কমিটির সভা বর্জন করলেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম Logo বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে সিঙ্গাপুরের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ Logo কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের সংযোগ থাকতে পারে, তবে শেখ হাসিনার ফেরার পথ তৈরি হচ্ছে না: তথ্য উপদেষ্টা Logo রাষ্ট্রপতিকে জাপান সফরের বিষয়ে অবহিত করলেন প্রধানমন্ত্রী Logo বিরোধী দলের কণ্ঠ রোধের চেষ্টা হলে প্রতিহত করা হবে: জামায়াত আমির Logo ৬০% স্নাতক ডিগ্রিধারী যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি না পেয়ে করছেন অন্য কাজ Logo শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের অর্ধেক সম্পত্তি বাজেয়াপ্তে চিঠি দেবে চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়
প্রতিনিধি নিয়োগঃ
এটি একটি প্রিন্টভার্ষণ পত্রিকার ওয়েবসাইট। সারাদেশে জেলা উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। আগ্রহীদের শুধুমাত্র ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করার জন্য বলা হইলো। -বার্তা সম্পাদক।

বিরোধী দলের কণ্ঠ রোধের চেষ্টা হলে প্রতিহত করা হবে: জামায়াত আমির

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৩:০০:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

রাজনীতি ডেস্ক: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন যে সরকারের পক্ষ থেকে বিরোধী দলের কণ্ঠ স্তব্ধ করার যেকোনো ধরনের অপচেষ্টা শক্ত হাতে প্রতিহত করা হবে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে দেশের আপামর জনগণের মৌলিক অধিকার সম্পূর্ণভাবে আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের রাজনৈতিক আন্দোলন ও লড়াই অবিরত চলবে। সম্প্রতি বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে আয়োজিত মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের কারামুক্তির সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই রাজনৈতিক বার্তা দেন। এ সময় তিনি সরকারের নানা সমসাময়িক নীতি ও কর্মকাণ্ডের কড়া সমালোচনা করেন এবং জনগণের অধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে জামায়াত আমির বিমানবন্দরকেন্দ্রিক প্রবাসীদের নানা দুর্ভোগ ও অনিয়মের প্রতিবাদে আখতারুজ্জামানের সাহসী ভূমিকার উচ্চ প্রশংসা করেন। তিনি বলেন যে প্রবাসীদের অধিকার আদায়ের এই আন্দোলন শেষ পর্যন্ত সফল হয়েছে এবং এর সুফল এখন যাত্রীরা পেতে শুরু করেছেন। আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই শুধু দেশের ভেতর নয়, বরং বিভিন্ন দেশের প্রবাসী বাংলাদেশিরাও এর তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং সভা-সমাবেশ ও দূতাবাস ঘেরাওয়ের মতো কর্মসূচি পালন করেন। তাঁর এই প্রতিবাদের ফলেই বিমানবন্দরের সেবার মান উন্নত হয়েছে এবং লাগেজ প্রাপ্তির দীর্ঘসূত্রিতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সরকারের কঠোর সমালোচনা করে শফিকুর রহমান বলেন যে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলা দিয়ে তাঁকে রিমান্ডে নেওয়া এবং আইনি প্রক্রিয়ায় নানা জটিলতা তৈরি করা অত্যন্ত লজ্জাজনক একটি বিষয়। তাঁর মতে, সরকার নিজেদের পাহাড়সম ব্যর্থতা ও অদক্ষতা আড়াল করার অসৎ উদ্দেশ্যে বরাবরই বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের অপপ্রচারের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে। অতীতে বিভিন্ন স্বৈরাচারী সরকার যেভাবে প্রতিবাদী কণ্ঠ রুদ্ধ করতে চেয়েছিল, বর্তমান সরকারও সেই একই পথ অনুসরণ করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। জনগণের দুঃখ-দুর্দশা লাঘব করার দিকে মনোনিবেশ না করে রাজনৈতিক চরিত্র হননে ব্যস্ত না থাকতে তিনি সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি আহ্বান জানান।

কারামুক্তির পর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান বলেন যে তাঁর এই কারাবাস বর্তমান সরকারের আসল রূপ এবং রাজনৈতিক আক্রোশের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে। তিনি জানান যে প্রবাসীদের সঙ্গে বিমানবন্দরে সংঘটিত দুর্ব্যবহার ও চরম অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদ করার অপরাধেই তাঁকে বিনা কারণে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। নিম্ন আদালতে বারবার জামিন বঞ্চিত হওয়ার পর উচ্চ আদালতের মাধ্যমে তিনি ন্যায়বিচার পান এবং মুক্তি লাভ করেন। আইনের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত করার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন যে এ ধরনের দমনপীড়নমূলক আচরণ সাধারণ মানুষ কস্মিনকালেও মেনে নেবে না এবং ভবিষ্যতে যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

হাবিপ্রবির গবেষণা: উপকারী ব্যাকটেরিয়ায় কীটনাশক ছাড়াই বেগুন-ঢেঁড়স চাষ

বিরোধী দলের কণ্ঠ রোধের চেষ্টা হলে প্রতিহত করা হবে: জামায়াত আমির

আপডেট সময় ০৩:০০:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

রাজনীতি ডেস্ক: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন যে সরকারের পক্ষ থেকে বিরোধী দলের কণ্ঠ স্তব্ধ করার যেকোনো ধরনের অপচেষ্টা শক্ত হাতে প্রতিহত করা হবে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে দেশের আপামর জনগণের মৌলিক অধিকার সম্পূর্ণভাবে আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের রাজনৈতিক আন্দোলন ও লড়াই অবিরত চলবে। সম্প্রতি বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে আয়োজিত মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের কারামুক্তির সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই রাজনৈতিক বার্তা দেন। এ সময় তিনি সরকারের নানা সমসাময়িক নীতি ও কর্মকাণ্ডের কড়া সমালোচনা করেন এবং জনগণের অধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে জামায়াত আমির বিমানবন্দরকেন্দ্রিক প্রবাসীদের নানা দুর্ভোগ ও অনিয়মের প্রতিবাদে আখতারুজ্জামানের সাহসী ভূমিকার উচ্চ প্রশংসা করেন। তিনি বলেন যে প্রবাসীদের অধিকার আদায়ের এই আন্দোলন শেষ পর্যন্ত সফল হয়েছে এবং এর সুফল এখন যাত্রীরা পেতে শুরু করেছেন। আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই শুধু দেশের ভেতর নয়, বরং বিভিন্ন দেশের প্রবাসী বাংলাদেশিরাও এর তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং সভা-সমাবেশ ও দূতাবাস ঘেরাওয়ের মতো কর্মসূচি পালন করেন। তাঁর এই প্রতিবাদের ফলেই বিমানবন্দরের সেবার মান উন্নত হয়েছে এবং লাগেজ প্রাপ্তির দীর্ঘসূত্রিতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সরকারের কঠোর সমালোচনা করে শফিকুর রহমান বলেন যে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলা দিয়ে তাঁকে রিমান্ডে নেওয়া এবং আইনি প্রক্রিয়ায় নানা জটিলতা তৈরি করা অত্যন্ত লজ্জাজনক একটি বিষয়। তাঁর মতে, সরকার নিজেদের পাহাড়সম ব্যর্থতা ও অদক্ষতা আড়াল করার অসৎ উদ্দেশ্যে বরাবরই বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের অপপ্রচারের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে। অতীতে বিভিন্ন স্বৈরাচারী সরকার যেভাবে প্রতিবাদী কণ্ঠ রুদ্ধ করতে চেয়েছিল, বর্তমান সরকারও সেই একই পথ অনুসরণ করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। জনগণের দুঃখ-দুর্দশা লাঘব করার দিকে মনোনিবেশ না করে রাজনৈতিক চরিত্র হননে ব্যস্ত না থাকতে তিনি সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি আহ্বান জানান।

কারামুক্তির পর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান বলেন যে তাঁর এই কারাবাস বর্তমান সরকারের আসল রূপ এবং রাজনৈতিক আক্রোশের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে। তিনি জানান যে প্রবাসীদের সঙ্গে বিমানবন্দরে সংঘটিত দুর্ব্যবহার ও চরম অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদ করার অপরাধেই তাঁকে বিনা কারণে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। নিম্ন আদালতে বারবার জামিন বঞ্চিত হওয়ার পর উচ্চ আদালতের মাধ্যমে তিনি ন্যায়বিচার পান এবং মুক্তি লাভ করেন। আইনের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত করার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন যে এ ধরনের দমনপীড়নমূলক আচরণ সাধারণ মানুষ কস্মিনকালেও মেনে নেবে না এবং ভবিষ্যতে যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।