ঢাকা ০৩:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগঃ
এটি একটি প্রিন্টভার্ষণ পত্রিকার ওয়েবসাইট। সারাদেশে জেলা উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। আগ্রহীদের শুধুমাত্র ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করার জন্য বলা হইলো। -বার্তা সম্পাদক।

দপ্তর হারালেন প্রধানমন্ত্রীর স্লোগানকে ‘হাদিস’ বলা সচিব

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০১:১৫:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রীর একটি রাজনৈতিক স্লোগানকে ইসলামের পবিত্র হাদিসের সঙ্গে তুলনা করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়া উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা মোহাম্মদ মসিউর রহমানকে তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি সরকারের একজন চুক্তিভিত্তিক সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনরত এই কর্মকর্তাকে তার পূর্বের পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। এই বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হলেও তাকে হঠাৎ কেন প্রত্যাহার করা হলো, সে বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। তবে প্রশাসনের বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে যে সাম্প্রতিক সময়ে তার একটি বিতর্কিত বক্তব্যের কারণেই এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় রাজধানীতে আয়োজিত একটি বিশেষ বাস উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে। গত ১ নভেম্বর মানিক মিয়া এভিনিউ এলাকায় ‘এক রুট, এক কোম্পানি’ উদ্যোগের আওতায় ছয়টি নতুন রুটে পরীক্ষামূলক বাস চলাচল কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ওই অনুষ্ঠানে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে বক্তব্য রাখার সময় মোহাম্মদ মসিউর রহমান দেশের রাজনৈতিক স্লোগান নিয়ে এক অদ্ভুত মন্তব্য করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া একটি বিশেষ স্লোগানকে সরাসরি হাদিস বলে আখ্যায়িত করার চেষ্টা করেন, যা মুহূর্তেই উপস্থিত সবার মধ্যে এবং পরবর্তীতে সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে ওই কর্মকর্তা উপস্থিত শ্রোতাদের উদ্দেশে বলেন যে তিনি যদি এই স্লোগানটিকে হাদিস বলে থাকেন, তবে অনেকেই হয়তো মনে করতে পারেন যে তিনি পরবর্তী পদোন্নতির আশায় তোষামোদি করছেন। তবে তিনি নিজের বক্তব্যে অটল থেকে জোর দিয়ে বলেন যে এটি একটি শাশ্বত বাণী এবং বাস্তবে এর গুরুত্ব কোনো অংশে কম নয়। তিনি আরও দাবি করেন যে এই ধরনের বাণী হুজুরদের মুখ থেকে উচ্চারিত হলে সেটি যেমন হাদিস বলে গণ্য হতো, তেমনি সাধারণ মানুষের মুখে উচ্চারিত হলেও তার গুরুত্ব ফুরিয়ে যায় না। তার এই ধরনের মন্তব্যের মূল উদ্দেশ্য ছিল রাজনৈতিক স্লোগানটিকে ধর্মীয় পরিভাষার সঙ্গে মেলবন্ধন ঘটানো, যা ইসলাম ধর্মে হাদিসের সংজ্ঞার সম্পূর্ণ পরিপন্থী এবং অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি বিষয়।

তার এই বিতর্কিত বক্তব্য দ্রুতই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তার এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানান এবং সামাজিক মাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় তোলেন। একজন দায়িত্বশীল সরকারি পদে থেকে ধর্মীয় পরিভাষার অপব্যবহার এবং রাজনৈতিক স্লোগানের সঙ্গে তার তুলনা করায় অনেকেই তার মানসিক সুস্থতা ও পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। পরবর্তীতে এই তীব্র জনরোষ ও সমালোচনার মুখে পড়ে সরকার তার বিরুদ্ধে এই প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে বলে মনে করা হচ্ছে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

শ্রেণিকক্ষের পাঠদান থেকে খাবার সংরক্ষণ—সবই দেখলেন ববি হাজ্জাজ

দপ্তর হারালেন প্রধানমন্ত্রীর স্লোগানকে ‘হাদিস’ বলা সচিব

আপডেট সময় ০১:১৫:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

জাতীয় ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রীর একটি রাজনৈতিক স্লোগানকে ইসলামের পবিত্র হাদিসের সঙ্গে তুলনা করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়া উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা মোহাম্মদ মসিউর রহমানকে তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি সরকারের একজন চুক্তিভিত্তিক সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনরত এই কর্মকর্তাকে তার পূর্বের পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। এই বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হলেও তাকে হঠাৎ কেন প্রত্যাহার করা হলো, সে বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। তবে প্রশাসনের বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে যে সাম্প্রতিক সময়ে তার একটি বিতর্কিত বক্তব্যের কারণেই এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় রাজধানীতে আয়োজিত একটি বিশেষ বাস উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে। গত ১ নভেম্বর মানিক মিয়া এভিনিউ এলাকায় ‘এক রুট, এক কোম্পানি’ উদ্যোগের আওতায় ছয়টি নতুন রুটে পরীক্ষামূলক বাস চলাচল কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ওই অনুষ্ঠানে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে বক্তব্য রাখার সময় মোহাম্মদ মসিউর রহমান দেশের রাজনৈতিক স্লোগান নিয়ে এক অদ্ভুত মন্তব্য করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া একটি বিশেষ স্লোগানকে সরাসরি হাদিস বলে আখ্যায়িত করার চেষ্টা করেন, যা মুহূর্তেই উপস্থিত সবার মধ্যে এবং পরবর্তীতে সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে ওই কর্মকর্তা উপস্থিত শ্রোতাদের উদ্দেশে বলেন যে তিনি যদি এই স্লোগানটিকে হাদিস বলে থাকেন, তবে অনেকেই হয়তো মনে করতে পারেন যে তিনি পরবর্তী পদোন্নতির আশায় তোষামোদি করছেন। তবে তিনি নিজের বক্তব্যে অটল থেকে জোর দিয়ে বলেন যে এটি একটি শাশ্বত বাণী এবং বাস্তবে এর গুরুত্ব কোনো অংশে কম নয়। তিনি আরও দাবি করেন যে এই ধরনের বাণী হুজুরদের মুখ থেকে উচ্চারিত হলে সেটি যেমন হাদিস বলে গণ্য হতো, তেমনি সাধারণ মানুষের মুখে উচ্চারিত হলেও তার গুরুত্ব ফুরিয়ে যায় না। তার এই ধরনের মন্তব্যের মূল উদ্দেশ্য ছিল রাজনৈতিক স্লোগানটিকে ধর্মীয় পরিভাষার সঙ্গে মেলবন্ধন ঘটানো, যা ইসলাম ধর্মে হাদিসের সংজ্ঞার সম্পূর্ণ পরিপন্থী এবং অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি বিষয়।

তার এই বিতর্কিত বক্তব্য দ্রুতই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তার এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানান এবং সামাজিক মাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় তোলেন। একজন দায়িত্বশীল সরকারি পদে থেকে ধর্মীয় পরিভাষার অপব্যবহার এবং রাজনৈতিক স্লোগানের সঙ্গে তার তুলনা করায় অনেকেই তার মানসিক সুস্থতা ও পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। পরবর্তীতে এই তীব্র জনরোষ ও সমালোচনার মুখে পড়ে সরকার তার বিরুদ্ধে এই প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে বলে মনে করা হচ্ছে।