ঢাকা ০৯:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
Logo হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের কারণে ডাকে আসা ব্যালট হাতে গোনা হচ্ছে কিছু জায়গায় Logo প্রধানমন্ত্রী মোংলা বন্দরের আধুনিকায়নে ৪০৬৮ কোটি টাকার প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন আজ Logo পলিটিক্যাল ব্রেকআপ ও বর্তমান বাংলাদেশ Logo সেন্ট মার্টিনে জাহাজ চলাচল শুরু Logo সঞ্চয়পত্রের উৎসে কর চূড়ান্ত কর নয়, কার লাভ কার ক্ষতি Logo পত্রিকা: ‘আন্দোলনে অর্থায়নের অভিযোগ: সাবেক মন্ত্রী, এমপিসহ ২০ ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব জব্দ হচ্ছে’ Logo ৯ম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা কবে, এনটিআরসিএ জানাল সময় Logo আজ খুলনা ও বাগেরহাট সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী Logo এলপিজির মূল্যবৃদ্ধি, দিশেহারা ভোক্তা Logo ভোলা হাসপাতাল: আইসিইউর দাবিতে অবস্থান
প্রতিনিধি নিয়োগঃ
এটি একটি প্রিন্টভার্ষণ পত্রিকার ওয়েবসাইট। সারাদেশে জেলা উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। আগ্রহীদের শুধুমাত্র ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করার জন্য বলা হইলো। -বার্তা সম্পাদক।

ঠাকুরগাঁও-বগুড়া: ফুলকপিতে উঠছে না শ্রমিকের খরচ, মুলা ফেলে দিচ্ছেন চাষিরা

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৭:০০:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

অর্থনীতি ডেস্ক: বাজারে শীতকালীন সবজির পর্যাপ্ত সরবরাহ লক্ষ্য করা গেলেও সেই তুলনায় ক্রেতাদের চাহিদা বাড়েনি। ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রায় প্রতিদিনই কমে চলেছে সবজির দাম। ঠাকুরগাঁও ও বগুড়ার কৃষকেরা অভিযোগ করেছেন যে তাঁরা উৎপাদনের খরচ তো দূরের কথা, বাজার পর্যন্ত সবজি নেওয়ার পরিবহন খরচ এবং শ্রমিকের মজুরিও তুলতে পারছেন না। ন্যায্যমূল্য না পেয়ে অনেক চাষি চরম হতাশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

স্থানীয় চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঠাকুরগাঁওয়ে ফুলকপি ও বাঁধাকপির ফলন অত্যন্ত ভালো হয়েছে। পাইকারি বাজারে প্রতি মণ কপি মাত্র চার শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যার অর্থ দাঁড়ায় প্রতি কেজির দাম পড়ছে মাত্র নয় টাকা ত্রিশ পয়সা। অথচ একই সবজি খুচরা বাজারে ত্রিশ থেকে চল্লিশ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কৃষকদের মতে, উৎপাদন খরচ সামাল দিতে হলে প্রতি কেজিতে কমপক্ষে পনেরো থেকে কুড়ি টাকা দাম পাওয়া প্রয়োজন ছিল। সদর উপজেলার বেগুনবাড়ি এলাকার কৃষক মনসুর আলী দুই বিঘা জমিতে ফুলকপি চাষ করে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন। তাঁর উৎপাদনে খরচ হয়েছে এক লাখ বিশ হাজার টাকা, যা বর্তমান বাজারদরে বিক্রি করে আশি হাজার টাকাও পাওয়া যাবে না। অপর কৃষক শাহাবুদ্দিন জানান, দৈনিক পাঁচ শ টাকা মজুরিতে শ্রমিক নিয়োগ করে কপি তুলতে হচ্ছে, কিন্তু বিক্রয়মূল্য কম হওয়ায় ফসল কাটা নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছে। এলাকায় কোনো সংরক্ষণাগার বা প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র না থাকায় কৃষকেরা বাধ্য হয়ে নামমাত্র মূল্যে ফসল বিক্রি করে দিচ্ছেন। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাজেদুল ইসলাম জানিয়েছেন, অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আগাম চাষ হওয়ায় বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ দেখা দিয়েছে এবং শীত বাড়লে দাম কিছুটা বাড়তে পারে।

অন্যদিকে, বগুড়ার বৃহত্তম পাইকারি বাজার মহাস্থানগড়েও সবজির দাম তলানিতে ঠেকেছে। সম্প্রতি এই বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ফুলকপি প্রতি মণ সাত শ থেকে আট শ টাকা, বাঁধাকপি প্রতি পিস পনেরো থেকে বিশ টাকা এবং মুলা প্রতি মণ মাত্র দুই শ থেকে চার শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মিষ্টিকুমড়া, শিম, শসা, বেগুন ও কাঁচা মরিচসহ প্রায় সব ধরনের সবজির দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। পাইকারি বাজারের আড়তদার ও চাষি রহেদুল ইসলাম তিন বিঘা জমিতে মুলা চাষ করে প্রায় ত্রিশ হাজার টাকা লোকসানের আশঙ্কা করছেন। মোকামতলা উপজেলার শঙ্করপুর গ্রামের কৃষক জাহেদুর রহমান বাজারে মুলা নিয়ে এসে ভ্যানভাড়া ও শ্রমিকের মজুরি দিতে না পেরে শেষ পর্যন্ত অবশিষ্ট মুলা রাস্তার পাশে ফেলে দিতে বাধ্য হয়েছেন। বগুড়া সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইসমত জাহান উল্লেখ করেছেন যে আলুর দাম কম থাকায় ভোক্তারা সবজির প্রতি কিছুটা উদাসীন এবং অনুকূল আবহাওয়ায় ফলন ভালো হওয়ায় বাজারে এই দামের পতন ঘটেছে।

ট্যাগস :

হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের কারণে ডাকে আসা ব্যালট হাতে গোনা হচ্ছে কিছু জায়গায়

ঠাকুরগাঁও-বগুড়া: ফুলকপিতে উঠছে না শ্রমিকের খরচ, মুলা ফেলে দিচ্ছেন চাষিরা

আপডেট সময় ০৭:০০:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

অর্থনীতি ডেস্ক: বাজারে শীতকালীন সবজির পর্যাপ্ত সরবরাহ লক্ষ্য করা গেলেও সেই তুলনায় ক্রেতাদের চাহিদা বাড়েনি। ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রায় প্রতিদিনই কমে চলেছে সবজির দাম। ঠাকুরগাঁও ও বগুড়ার কৃষকেরা অভিযোগ করেছেন যে তাঁরা উৎপাদনের খরচ তো দূরের কথা, বাজার পর্যন্ত সবজি নেওয়ার পরিবহন খরচ এবং শ্রমিকের মজুরিও তুলতে পারছেন না। ন্যায্যমূল্য না পেয়ে অনেক চাষি চরম হতাশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

স্থানীয় চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঠাকুরগাঁওয়ে ফুলকপি ও বাঁধাকপির ফলন অত্যন্ত ভালো হয়েছে। পাইকারি বাজারে প্রতি মণ কপি মাত্র চার শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যার অর্থ দাঁড়ায় প্রতি কেজির দাম পড়ছে মাত্র নয় টাকা ত্রিশ পয়সা। অথচ একই সবজি খুচরা বাজারে ত্রিশ থেকে চল্লিশ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কৃষকদের মতে, উৎপাদন খরচ সামাল দিতে হলে প্রতি কেজিতে কমপক্ষে পনেরো থেকে কুড়ি টাকা দাম পাওয়া প্রয়োজন ছিল। সদর উপজেলার বেগুনবাড়ি এলাকার কৃষক মনসুর আলী দুই বিঘা জমিতে ফুলকপি চাষ করে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন। তাঁর উৎপাদনে খরচ হয়েছে এক লাখ বিশ হাজার টাকা, যা বর্তমান বাজারদরে বিক্রি করে আশি হাজার টাকাও পাওয়া যাবে না। অপর কৃষক শাহাবুদ্দিন জানান, দৈনিক পাঁচ শ টাকা মজুরিতে শ্রমিক নিয়োগ করে কপি তুলতে হচ্ছে, কিন্তু বিক্রয়মূল্য কম হওয়ায় ফসল কাটা নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছে। এলাকায় কোনো সংরক্ষণাগার বা প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র না থাকায় কৃষকেরা বাধ্য হয়ে নামমাত্র মূল্যে ফসল বিক্রি করে দিচ্ছেন। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাজেদুল ইসলাম জানিয়েছেন, অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আগাম চাষ হওয়ায় বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ দেখা দিয়েছে এবং শীত বাড়লে দাম কিছুটা বাড়তে পারে।

অন্যদিকে, বগুড়ার বৃহত্তম পাইকারি বাজার মহাস্থানগড়েও সবজির দাম তলানিতে ঠেকেছে। সম্প্রতি এই বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ফুলকপি প্রতি মণ সাত শ থেকে আট শ টাকা, বাঁধাকপি প্রতি পিস পনেরো থেকে বিশ টাকা এবং মুলা প্রতি মণ মাত্র দুই শ থেকে চার শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মিষ্টিকুমড়া, শিম, শসা, বেগুন ও কাঁচা মরিচসহ প্রায় সব ধরনের সবজির দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। পাইকারি বাজারের আড়তদার ও চাষি রহেদুল ইসলাম তিন বিঘা জমিতে মুলা চাষ করে প্রায় ত্রিশ হাজার টাকা লোকসানের আশঙ্কা করছেন। মোকামতলা উপজেলার শঙ্করপুর গ্রামের কৃষক জাহেদুর রহমান বাজারে মুলা নিয়ে এসে ভ্যানভাড়া ও শ্রমিকের মজুরি দিতে না পেরে শেষ পর্যন্ত অবশিষ্ট মুলা রাস্তার পাশে ফেলে দিতে বাধ্য হয়েছেন। বগুড়া সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইসমত জাহান উল্লেখ করেছেন যে আলুর দাম কম থাকায় ভোক্তারা সবজির প্রতি কিছুটা উদাসীন এবং অনুকূল আবহাওয়ায় ফলন ভালো হওয়ায় বাজারে এই দামের পতন ঘটেছে।