ঢাকা ০২:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
Logo ভারতের মধ্যে প্রথম কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত হবে ম্যাজিক ইনস্টিটিউট Logo উড়োজাহাজ কেনার চুক্তির আগে সম্ভাব্যতা যাচাই হয়েছে কি না, সংসদীয় কমিটিতে প্রশ্ন Logo ‘ট্রাইব্যুনালে শুধু পলাতক আসামিদের বিচার হয়’—জামায়াত নেতার এমন বক্তব্য অসত্য: প্রসিকিউটর Logo ১৪ বছর পর অ্যানফিল্ড জয় করে শীর্ষে আর্সেনাল Logo ঢাকায় কুশ চাষের গোপন ল্যাব, যুক্তরাষ্ট্রে বসে নিয়ন্ত্রণ করতেন তৌসিফ Logo কীভাবে ১৩ হাজার কোটি টাকার সাম্রাজ্য গড়লেন শাহরুখ Logo যৌথ মহড়া দিতে চট্টগ্রাম বন্দরে মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজ Logo তীব্র গরমে বছরে ১,৭৫০ কোটি ডলার ক্ষতি বাংলাদেশের Logo এক দিনের নোটিশে বাসাছাড়া, কাল সেমিস্টার ফাইনাল Logo ৩৫৭ পুলিশ কর্মকর্তার তথ্য চায় সদর দপ্তর
প্রতিনিধি নিয়োগঃ
এটি একটি প্রিন্টভার্ষণ পত্রিকার ওয়েবসাইট। সারাদেশে জেলা উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। আগ্রহীদের শুধুমাত্র ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করার জন্য বলা হইলো। -বার্তা সম্পাদক।

‘ট্রাইব্যুনালে শুধু পলাতক আসামিদের বিচার হয়’—জামায়াত নেতার এমন বক্তব্য অসত্য: প্রসিকিউটর

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০১:৩০:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

আইন-আদালত ডেস্ক: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে কেবল পলাতক আসামিদেরই বিচারকার্য পরিচালিত হয়—জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের এমন বক্তব্য সম্পূর্ণ অসত্য ও বিভ্রান্তিকর বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের একজন প্রসিকিউটর। সম্প্রতি গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে প্রসিকিউটর এই দাবির তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং এর পেছনে কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই বলে স্পষ্ট উল্লেখ করেন। তিনি জানান, বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে এ ধরনের মন্তব্য জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে এবং আদালতের নিরপেক্ষ ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করার একটি অপপ্রয়াস মাত্র।

এর আগে এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত নেতা মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছিলেন যে, বর্তমান ট্রাইব্যুনালে মূলত আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে বা অনুপস্থিত থাকা পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে একতরফাভাবে সাজা ঘোষণা করা হচ্ছে। তার এই বক্তব্য নিয়ে পরবর্তীতে আইনি অঙ্গনে এবং বিভিন্ন মহলে নানামুখী আলোচনার সূত্রপাত ঘটে। বিশেষ করে বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে যখন নানা ধরনের পর্যালোচনা চলছে, তখন এমন রাজনৈতিক মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।

প্রসিকিউটর আরও পরিষ্কার করে জানান যে, ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন প্রতিটি মামলার ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়। এখানে উপস্থিত কিংবা পলাতক—সব আসামির ক্ষেত্রেই আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ এবং সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে নিরপেক্ষভাবে বিচার সম্পন্ন করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ফলে কোনো নির্দিষ্ট পক্ষকে সুবিধা প্রদান বা একপেশে রায় দেওয়ার কোনো সুযোগ এই আদালতে নেই বলে জোরালোভাবে দাবি করেন তিনি।

আইনজীবীরা মনে করছেন, বিচার ব্যবস্থার মতো সংবেদনশীল একটি বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম থেকে এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করা উচিত নয়। এতে বিচার বিভাগের কাজে অনাবশ্যক চাপ সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মানুষ বিচার প্রক্রিয়া সম্পর্কে ভুল ধারণা লাভ করতে পারে। তাই যেকোনো ধরনের মন্তব্য করার আগে আইনি প্রক্রিয়া এবং বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখা জরুরি বলে তারা মত প্রকাশ করেছেন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতের মধ্যে প্রথম কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত হবে ম্যাজিক ইনস্টিটিউট

‘ট্রাইব্যুনালে শুধু পলাতক আসামিদের বিচার হয়’—জামায়াত নেতার এমন বক্তব্য অসত্য: প্রসিকিউটর

আপডেট সময় ০১:৩০:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

আইন-আদালত ডেস্ক: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে কেবল পলাতক আসামিদেরই বিচারকার্য পরিচালিত হয়—জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের এমন বক্তব্য সম্পূর্ণ অসত্য ও বিভ্রান্তিকর বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের একজন প্রসিকিউটর। সম্প্রতি গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে প্রসিকিউটর এই দাবির তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং এর পেছনে কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই বলে স্পষ্ট উল্লেখ করেন। তিনি জানান, বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে এ ধরনের মন্তব্য জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে এবং আদালতের নিরপেক্ষ ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করার একটি অপপ্রয়াস মাত্র।

এর আগে এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত নেতা মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছিলেন যে, বর্তমান ট্রাইব্যুনালে মূলত আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে বা অনুপস্থিত থাকা পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে একতরফাভাবে সাজা ঘোষণা করা হচ্ছে। তার এই বক্তব্য নিয়ে পরবর্তীতে আইনি অঙ্গনে এবং বিভিন্ন মহলে নানামুখী আলোচনার সূত্রপাত ঘটে। বিশেষ করে বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে যখন নানা ধরনের পর্যালোচনা চলছে, তখন এমন রাজনৈতিক মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।

প্রসিকিউটর আরও পরিষ্কার করে জানান যে, ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন প্রতিটি মামলার ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়। এখানে উপস্থিত কিংবা পলাতক—সব আসামির ক্ষেত্রেই আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ এবং সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে নিরপেক্ষভাবে বিচার সম্পন্ন করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ফলে কোনো নির্দিষ্ট পক্ষকে সুবিধা প্রদান বা একপেশে রায় দেওয়ার কোনো সুযোগ এই আদালতে নেই বলে জোরালোভাবে দাবি করেন তিনি।

আইনজীবীরা মনে করছেন, বিচার ব্যবস্থার মতো সংবেদনশীল একটি বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম থেকে এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করা উচিত নয়। এতে বিচার বিভাগের কাজে অনাবশ্যক চাপ সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মানুষ বিচার প্রক্রিয়া সম্পর্কে ভুল ধারণা লাভ করতে পারে। তাই যেকোনো ধরনের মন্তব্য করার আগে আইনি প্রক্রিয়া এবং বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখা জরুরি বলে তারা মত প্রকাশ করেছেন।