জাতীয় ডেস্ক: খাগড়াছড়ির সাজেক এলাকায় বিভিন্ন ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় স্থায়ী বাসিন্দা ও শ্রমিকদের আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জোরালো সুপারিশ করেছে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। সম্প্রতি জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই প্রস্তাব উত্থাপন করা হয় এবং সাজেক অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তা সমাধানের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। কমিটির সভাপতি আবদুল ওয়াদুদ ভূঁঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি ও কমিটির অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে সাজেকের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বৈঠক শেষে কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, সাজেকের চলমান সংকট নিরসনে মন্ত্রণালয়কে অবিলম্বে কার্যকর ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন এবং তাদের ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণ করে যথাযথ ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার বিষয়ে বৈঠকে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া পার্বত্য অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে এবং স্থানীয় জনগণের অধিকার রক্ষায় মন্ত্রণালয়কে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। পাহাড়ি এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনাও দিয়েছে সংসদীয় কমিটি।

আগামী ডিসেম্বর মাসে তিন পার্বত্য জেলা সরেজমিন পরিদর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংসদীয় কমিটি। নির্ধারিত এই সফরে কমিটির সদস্যরা বিভিন্ন এলাকার স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম সরাসরি পরিদর্শন করবেন এবং সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। কমিটির সদস্য মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম জানান যে, এই সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো পার্বত্য অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা এবং দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে স্থানীয় জনগণের বাস্তব সমস্যাগুলো অনুধাবন করা। সেখানে বাঙালি ও আদিবাসীসহ সব পক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর জোর দেওয়া হবে।

বৈঠকে পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন গুচ্ছগ্রামে বসবাসরত পরিবার ও প্রত্যাগত শরণার্থীদের মাঝে রেশন কার্ড বিতরণে অতীতে সংঘটিত অনিয়মগুলো দূর করার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রকৃত ও অসহায় উপকারভোগী মানুষের হাতে যাতে এই সহায়তা সঠিকভাবে পৌঁছায়, সেজন্য মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় তদারকি বাড়াতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া টেকসই সামাজিক সেবা প্রকল্পের আওতায় কর্মরত পাড়াকর্মীদের সম্মানী ভাতা বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি সম্মানজনক পর্যায়ে উন্নীত করার সুপারিশ করা হয়। সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের শূন্যপদ পূরণের অগ্রগতি এবং সাম্প্রতিক সময়ে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়ে থাকলে তার একটি স্বচ্ছ বিবরণ আগামী বৈঠকে উপস্থাপনের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।