প্রবাস ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসী সম্প্রদায় অত্যন্ত সৌভাগ্যবান যে তারা বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম এবং উন্নত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জীবনযাপন করার সুযোগ পাচ্ছেন। এই দেশে অভিবাসীরা কোনো ধরনের ভয়ভীতি বা হুমকির মুখোমুখি না হয়ে নিজেদের সাংবিধানিক ভোটাধিকার অবাধে প্রয়োগ করতে পারেন। দীর্ঘমেয়াদে মার্কিন সমাজে নিজেদের অধিকার সুরক্ষা এবং শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে এই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করা জরুরি।
আমেরিকার মূলধারার রাজনীতিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণ কেবল নিজেদের স্বার্থরক্ষা নয়, বরং দেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। স্থানীয় নীতিনির্ধারক ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখলে অভিবাসী সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করা অনেক সহজ হয়। তাছাড়া প্রবাসীদের অধিকার, নিরাপত্তা এবং সুযোগ-সুবিধা সংক্রান্ত নীতিগুলো প্রণয়নের সময় তাদের জোরালো উপস্থিতি অত্যন্ত জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরের নির্বাচনে বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণ এখন আগের তুলনায় কিছুটা বাড়লেও তা এখনও আশানুরূপ নয়। স্থানীয় সরকার থেকে শুরু করে জাতীয় রাজনীতি পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচন কিংবা প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেওয়ার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। নতুন প্রজন্মকে মার্কিন রাজনৈতিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী নেতৃত্ব তৈরি করা সম্ভব হবে।
তাই প্রবাসী বাংলাদেশিদের কেবল অর্থনৈতিকভাবে সফল হলেই চলবে না, বরং রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি করে মূলধারার সঙ্গে একাত্ম হতে হবে। ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে মার্কিন রাজনীতিতে বাংলাদেশি সমাজের গুরুত্ব ও প্রভাব বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নের পাশাপাশি প্রবাসীদের ভবিষ্যৎ আরও সুদৃঢ় ও নিরাপদ হবে।