খেলা ডেস্ক: আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের ধারাবাহিক সাফল্যের ধারা অব্যাহত রেখে এশিয়া কাপ স্টেজ-২ ওয়ার্ল্ড র্যাংকিং টুর্নামেন্টে অসাধারণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করেছে বাংলাদেশের আর্চাররা। প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ইভেন্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে ফাইনালে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন লাল-সবুজ প্রতিনিধিরা। এর ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ফাইনাল ম্যাচগুলোতে দারুণ সাফল্য অর্জন করে দেশবাসীর জন্য গৌরব বয়ে এনেছেন তারা। আসরে একটি স্বর্ণ, দুটি রৌপ্য ও দুটি ব্রোঞ্জসহ মোট পাঁচটি পদক নিজেদের ঝুলিতে পরে বাংলাদেশ দল।
টুর্নামেন্টের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল নারী কম্পাউন্ড দলগত ইভেন্টের ফাইনাল ম্যাচটি। এই বিভাগে কাজাখস্তানের শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মোকাবিলা করে স্বর্ণপদক নিশ্চিত করেন বন্যা আক্তার, কুলছুম আক্তার মনি ও শ্রীপর্ণা বিশ্বাসের গড়া বাংলাদেশ নারী দল। ফাইনালে শুরু থেকেই দারুণ আত্মবিশ্বাস ও নিখুঁত নিশানা বজায় রেখে ২৩০-২২০ স্কোরে প্রতিপক্ষকে পরাজিত করেন তারা। চার এন্ডে যথাক্রমে ৫৭, ৫৭, ৫৮ ও ৫৮ পয়েন্ট অর্জন করে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেন দেশের নারী আর্চাররা।
তবে স্বর্ণ জয়ের সুযোগ থাকলেও পুরুষ ও মিশ্র দলগত ইভেন্টে কিছুটা আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে বাংলাদেশি ক্রীড়াবিদদের। কম্পাউন্ড পুরুষ দলগত ইভেন্টের ফাইনালে কাজাখস্তানের কাছে ২২৪-২৩০ স্কোরে হেরে রৌপ্যপদক সন্তুষ্ট থাকতে হয় বাংলাদেশের পুরুষ আর্চারদের। একইভাবে কম্পাউন্ড মিশ্র দলগত ইভেন্টেও স্বর্ণ হাতছাড়া হয় কাজাখস্তানের বিপক্ষে ১৪২-১৫৩ স্কোরে পরাজয় বরণ করায়। এই ইভেন্টেও রৌপ্যপদক অর্জন করেন বাংলাদেশের প্রতিযোগীরা।
দলগত ইভেন্টের পাশাপাশি ব্যক্তিগত বিভাগেও দারুণ সাফল্য দেখিয়েছেন বাংলাদেশের আর্চাররা। কম্পাউন্ড পুরুষ একক ইভেন্টের ব্রোঞ্জপদক নির্ধারণী লড়াইয়ে সতীর্থ তরিকুল ইসলামকে ১৪৫-১৩৯ স্কোরে পরাজিত করে পদক জেতেন নেওয়াজ আহমেদ রাকিব। অন্যদিকে কম্পাউন্ড নারী একক ইভেন্টে কাজাখস্তানের আয়াজান ঝাকসিলিককে ১৪৩-১৩৯ স্কোরে হারিয়ে দেশের জন্য আরেকটি ব্রোঞ্জপদক এনে দেন কুলছুম আক্তার মনি।
বাংলাদেশি আর্চারদের এই অভাবনীয় সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ আর্চারি ফেডারেশন। দলের এই গৌরবময় অর্জনের সাথে জড়িত সকল আর্চার, কোচ, কর্মকর্তা ও শুভানুধ্যায়ীদের আন্তরিক অভিনন্দন জানানো হয়েছে। আগামী দিনগুলোতেও আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের এই জয়রথ অব্যাহত থাকবে এবং দেশের লাল-সবুজ পতাকা বিশ্বদরবারে আরও উঁচুতে উড়বে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।