জাতীয় ডেস্ক: অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষ যাতে অত্যন্ত আনন্দঘন এবং উৎসবমুখর পরিবেশে নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করতে পারে, সেটাই সরকারের মূল প্রত্যাশা। শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রাক্কালে নাটোর জেলার লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে গিয়ে এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল। এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ দেশের সব নাগরিককে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

সাম্প্রতিক এক সফরে প্রতিমন্ত্রী বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত টানা আট ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে দুই উপজেলার একাধিক মন্দির সশরীরে ঘুরে দেখেন। এই দীর্ঘ পরিদর্শনের সময় তিনি দুর্গাপূজার সার্বিক নিরাপত্তা ও আয়োজনের খোঁজখবর নেন এবং মন্দির কমিটির সদস্য, স্থানীয় পূজারি ও আগত দর্শনার্থীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। দেশের ঐতিহ্যগত সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি যেকোনো মূলes বজায় রেখে উৎসব উদযাপনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী দৃঢ় কণ্ঠে জানান যে, দেশের সকল নাগরিকের স্বাধীনভাবে ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পালনের পরিবেশ সুনিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার সব সময় আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এবারের দুর্গোৎসবে দেশের কোথাও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি বলে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। উৎসবের এই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে যারা দিনরাত নিরলসভাবে কাজ করেছেন, সেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান প্রতিমন্ত্রী।

বাগাতিপাড়া উপজেলার দয়ারামপুর সার্বজনীন মন্দির, বাগাতিপাড়া পৌরসভা মন্দির, গালিমপুর ও জামনগর মন্দিরসহ লালপুরের ধুপইল বাজার মন্দির, ওয়ালিয়া মন্দির, নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলস মন্দির এবং গোপালপুর লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দিরসহ অসংখ্য পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন প্রতিমন্ত্রী। এ সময় তার সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পুলিশ প্রশাসনের প্রতিনিধি, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন মন্দির কমিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।