জাতীয় ডেস্ক: বাংলাদেশে বসবাসরত সব ধর্মের মানুষের মূল পরিচয় তাঁরা সবাই এ দেশের গর্বিত নাগরিক এবং বাংলাদেশি। ধর্মীয় বা জাতিগত পার্থক্যের ভিত্তিতে দেশের কোনো নাগরিককে সংখ্যালঘু হিসেবে দেখার বা চিহ্নিত করার সুযোগ নেই। সম্প্রতি চট্টগ্রাম মহানগরীর ঐতিহ্যবাহী জে এম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে গিয়ে আয়োজিত সমাবেশে এই মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে সব ধরনের বৈষম্য দূর করে একটি সমঅধিকারভিত্তিক সমাজ গঠনে সরকার সর্বাত্মক কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, যিনি নিজে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষের সঙ্গে শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে অভিযোগ করেন যে, দেশের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটি বিশেষ মহল সনাতন ধর্মসহ অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের কেবল রাজনৈতিক স্বার্থে ভোট ব্যাংক হিসেবে ব্যবহার করেছে। তবে সম্প্রতি দেশের সাধারণ মানুষ নিজেদের রাজনৈতিক সচেতনতার পরিচয় দিয়ে সেই অপচেষ্টার দাঁতভাঙা জবাব দিয়েছে এবং অতীতে উপাসনালয় বা সম্পত্তি দখলের রাজনীতি সফল হতে দেয়নি।

সরকার কেবল মৌখিক প্রতিশ্রুতিতে নয় বরং বাস্তব কাজের মাধ্যমে দেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি এবং সব নাগরিকের সর্বাত্মক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্বাস করে। অতীতে বেদখল হওয়া অর্পিত সম্পত্তি পুনরুদ্ধার এবং মন্দিরসংক্রান্ত অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সুরাহা করতে বর্তমান প্রশাসন অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা এবং উপাসনালয়ের নিরাপত্তা বিধানের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, চট্টগ্রাম মহানগরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় প্রমুখ। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে সরকারের বেশ কয়েকজন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছা জানান। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন পূজা উদযাপন পরিষদ চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি অধ্যাপক অর্পণ কান্তি ব্যানার্জী।