জাতীয় ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা শহরে অনুষ্ঠিত মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দুর্দান্ত সাফল্য অর্জন করেছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষার্থীরা। আমেরিকান কংক্রিট ইনস্টিটিউটের (এসিআই) আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘এসিআই মর্টার ওয়ার্কেবিলিটি কম্পিটিশন ২০২৬’-এ বিশ্বের বাঘা বাঘা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে পেছনে ফেলে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে দলটি। প্রতিযোগিতায় সামগ্রিক বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক বিভাগে দ্বিতীয় রানারআপ হওয়ার কৃতিত্ব দেখায় চুয়েটের ‘টিম চুয়েট সি’। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক এই মঞ্চে এমন অর্জন কেবল এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, বরং পুরো দেশের জন্য এক অনন্য সম্মান বয়ে এনেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টায় অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বাচাইকৃত সেরা ৪০টি দল অংশ নেয়। এর আগে প্রাথমিক বাছাই পর্বে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের জমা দেওয়া কারিগরি প্রতিবেদন কঠোরভাবে মূল্যায়ন করা হয়। চুয়েটের এই বিজয়ী দলে চারজন মেধাবী শিক্ষার্থী প্রতিনিধিত্ব করেন, যারা হলেন খন্দকার ফাহাদ আলম, স্বরূপ চন্দ্র মোদক, তানজিম মুশাররাত তুশিন ও সুমাইয়া বিনতে মান্নান। দলটির সাফল্যের পেছনে গাইড হিসেবে কাজ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক এবং এসিআই স্টুডেন্ট চ্যাপ্টার-চুয়েটের অনুষদ উপদেষ্টা ড. জি এম সাদিকুল ইসলাম। অন্যদিকে, এই একই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের আরেক স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) শিক্ষার্থীরাও দুটি বিভাগে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন।
প্রতিযোগিতায় মর্টারের বিভিন্ন কারিগরি বৈশিষ্ট্য যেমন প্রবাহক্ষমতা, স্থিতিশীলতা, পরিবেশগত প্রভাব ও অর্থনৈতিক সাশ্রয়িতা অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে মূল্যায়ন করা হয়। এর মধ্যে প্রবাহক্ষমতার জন্য সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ এবং স্থিতিশীলতার জন্য ২০ শতাংশ নম্বর বরাদ্দ ছিল। এছাড়া কার্বন নিঃসরণ কমানো, অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হওয়া এবং সামগ্রিক প্রতিবেদনের মানও বিচারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী দলের সদস্য স্বরূপ চন্দ্র মোদক জানান, এই ধরনের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া নিজেদের প্রতিভা ও সক্ষমতা ঝালিয়ে নেওয়ার এক দারুণ সুযোগ। পর্যাপ্ত সুযোগের অভাব সত্ত্বেও তারা যে বিশ্বমানের কাজ করতে সক্ষম, তা এই বিজয়ের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
দলটির উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. জি এম সাদিকুল ইসলাম জানান, ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে তাদের স্টুডেন্ট চ্যাপ্টার আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বেশ কিছু পুরস্কার জিতেছে। তবে এর আগের অর্জনগুলো ছিল সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক। গত বছর মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় সশরীরে অংশ নিয়ে চতুর্থ স্থান অর্জনের মধ্য দিয়ে তাদের অফলাইন প্রতিযোগিতার যাত্রা শুরু হয়। এবার মার্কিন মুলুকে সরাসরি অংশ নিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে পারা তাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেছে। এদিকে, এই আন্তর্জাতিক সাফল্যের আনন্দঘন মুহূর্তের পাশাপাশি দেশের ভেতরে চুয়েট ক্যাম্পাসে ভিন্ন এক চিত্র বিরাজ করছে। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে উপাচার্যের নিয়োগকে কেন্দ্র করে বেশ কিছুদিন ধরে আন্দোলন ও অস্থিরতা চলছে, যা এখনো পুরোপুরি নিরসন হয়নি।