জাতীয় ডেস্ক: শারদীয় দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় বসেছে ঢাকের ঐতিহ্যবাহী হাট। প্রতিবছর পূজার ঠিক আগে এই হাটটি বসার কারণে দূরদূরান্ত থেকে শত শত ঢাকি ও ব্যবসায়ীরা এখানে সমবেত হন। দুর্গাপূজার আনন্দকে বহুগুণ বাড়িয়ে তুলতে ঢাকের প্রধান অনুষঙ্গ হিসেবে এই হাটের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। শতবর্ষের ঐতিহ্য ধরে রেখে চলা এই হাটটি ঘিরে স্থানীয় এলাকায় এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।
পূজামণ্ডপের জন্য দক্ষ ঢাকি এবং মানসম্মত বাদ্যযন্ত্র নিশ্চিত করতে বিভিন্ন এলাকা থেকে পূজারি ও আয়োজকরা এই হাটে আসেন। হাটে সারি সারি সাজানো রয়েছে বিভিন্ন আকারের ঢাক, ঢোল ও করতাল। পছন্দসই বাদ্যযন্ত্র কেনার পাশাপাশি পূজার নির্দিষ্ট দিনগুলোর জন্য ঢাকিদের সাথে সরাসরি চুক্তিবদ্ধ হচ্ছেন মণ্ডপ কমিটির প্রতিনিধিরা। ফলে বিক্রেতা ও ক্রেতাদের দরকষাকষিতে পুরো হাট প্রাঙ্গণ সব সময় মুখরিত থাকে।
এই অঞ্চলের মানুষের কাছে প্রায় চার শতাব্দী ধরে ঐতিহ্য বহন করে আসছে কটিয়াদীর এই বিশেষ হাটটি। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ঢাকিরা তাদের পেশাদার দক্ষতা প্রদর্শনের মাধ্যমে নিজেদের দল ঠিক করার সুযোগ পান এখানে। বহু পুরোনো এই ঐতিহ্য বাঁচিয়ে রাখতে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও আয়োজকরা প্রতিবছর বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করে থাকেন। পূজার আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে এই হাটটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
বাঙালির প্রাণের এই উৎসবকে অর্থবহ করতে ঢাকের গুরুত্ব অপরিসীম। ঢাকের বাদ্য ছাড়া দুর্গাপূজার আনন্দ যেন ঠিক জমে ওঠে না, আর তাই এই হাটের আকর্ষণ প্রতিবছর বেড়েই চলে। পূজারিদের ব্যাপক উপস্থিতি এবং ঢাকের জাদুকরী শব্দে কটিয়াদীর এই ঐতিহাসিক হাট এখন জমজমাট এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।