খেলা ডেস্ক: পাকিস্তান সফরে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ নারী ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে চরম লড়াই করেও শিরোপার নাগাল পায়নি বাংলাদেশ দল। ফয়সালাবাদের ইকবাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে শ্রীলঙ্কার যুবা নারীদের কাছে মাত্র ৪ রানে হেরে যায় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। টুর্নামেন্টের শুরুতে হোঁচট খেলেও পরবর্তীতে দুর্দান্ত খেলে টানা জয় তুলে নেওয়া লঙ্কানদের বিপক্ষে ফাইনালে জয় পাওয়া আর সম্ভব হয়নি। শেষ ওভারে জয়ের জন্য ১৯ রানের সমীকরণ মেলাতে না পেরে আক্ষেপ নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে বাংলাদেশি তরুণীদের। এই হারের ফলে বাংলাদেশ দলকে রানার্সআপ ট্রফি নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়।
এর আগে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৫৮ রানের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ দাঁড় করায় শ্রীলঙ্কা। লঙ্কান ইনিংসে সর্বোচ্চ ৬৪ রানের অনবদ্য এক ইনিংস খেলেন সাঞ্জানা কাভিন্দি, যার সুবাদে বড় পুঁজি পায় দল। বাংলাদেশের পক্ষে বোলিংয়ে ফারজানা ইয়াসমিন, নিশিতা আক্তার নিশি, জান্নাতুল ফেরদৌস এবং আফরিন মিম প্রত্যেকে একটি করে উইকেট শিকার করেন। নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের চেষ্টা সত্ত্বেও লঙ্কান ব্যাটারদের রানের গতি পুরোপুরি রোধ করতে পারেনি বাংলাদেশি বোলাররা। ফলে ম্যাচ জেতার জন্য ১৫৯ রানের বেশ বড় লক্ষ্য সামনে পায় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল।
জবাবে রান তাড়ায় নেমে শুরুতেই চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। দলীয় ২১ রান তুলতেই সাজঘরে ফিরে যান দলের প্রথম তিন ব্যাটার, যার মধ্যে শূন্য রানে আউট হন দুই ওপেনার মায়মুনা নাহার ও অচেনা জান্নাত। তবে চতুর্থ উইকেটে হাল ধরে বিপর্যয় সামাল দেন নিশিতা আক্তার নিশি ও সাদিয়া ইসলাম। এই জুটিতে আসে গুরুত্বপূর্ণ ৬৭ রান, যা ফাইনালে বাংলাদেশের ইনিংসের সর্বোচ্চ জুটি। ১৪তম ওভারের প্রথম বলে নিশিতা ৩২ রান করে রানআউট হয়ে গেলে সেই প্রতিরোধ ভেঙে যায় এবং বাংলাদেশ নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে।
শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৫৪ রান তুলতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ দল। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫৯ রানের লড়াকু ইনিংস খেলেন সাদিয়া ইসলাম, যিনি ৩৬ বলের মোকাবেলায় ৩টি চার ও ৫টি ছক্কা হাঁকান। শ্রীলঙ্কার পক্ষে চামুদি হেরাথ এবং প্রবোদা দুটি করে উইকেট শিকার করে দলের জয় নিশ্চিত করেন। অসাধারণ অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের সুবাদে ফাইনাল ম্যাচে ম্যাচসেরার পাশাপাশি পুরো সিরিজের সেরা খেলোয়াড়ের পুরষ্কারও অর্জন করেন লঙ্কান তারকা সাঞ্জানা কাভিন্দি।