রাজনীতি ডেস্ক: আসন্ন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনি মাঠে উত্তাপ বাড়তে শুরু করেছে। নির্ধারিত তফসিলে আগামী ২৯ অক্টোবর এই আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিদ্বন্দ্বী এক প্রার্থীর প্রচারে বাধা দেওয়া এবং হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে বিএনপি সমর্থিত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিনকে শোকজ নোটিশ পাঠিয়েছে কতৃর্পক্ষ।

নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির প্রধান এবং ঠাকুরগাঁওয়ের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ সাদিয়া আফসানা রিমার সই করা এই নোটিশ জারি করা হয়। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের একটি এলাকায় প্রতিপক্ষ ১১ দলীয় ঐক্যের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী দেলোয়ার হোসেনের গণসংযোগে বলপ্রয়োগ করে বাধা দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, বিএনপি প্রার্থীর সমর্থক হিসেবে পরিচিত কয়েকজন নেতাকর্মীর নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি দেলোয়ার হোসেনকে আক্রমণ ও হেনস্তার চেষ্টা চালান। এই ঘটনার পর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশ বা লেভেল প্লেইং ফিল্ড নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্ট।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে এই ঘটনার সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়ে নোটিশে বলা হয়েছে, প্রার্থীর সমর্থকদের মাধ্যমে প্রতিপক্ষের প্রচারে বাধা সৃষ্টি করা সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০২৫-এর নির্দিষ্ট অনুচ্ছেদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এই অপরাধের দায়ে কেন সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের কাছে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ পাঠানো হবে না, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। আগামী ১৭ অক্টোবর সকাল ১১টার মধ্যে বিএনপি প্রার্থী নিজে অথবা তাঁর কোনো উপযুক্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে সশরীরে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা ও প্রয়োজনীয় সাক্ষ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রতিপক্ষ প্রার্থীর এজেন্টের অভিযোগ অনুযায়ী, এলাকায় তাদের প্রচারণায় বারবার বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং কর্মী-সমর্থকদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। নির্বাচনে সমান সুযোগ বা লেভেল প্লেইং ফিল্ড বজায় রাখার স্বার্থেই তারা নির্বাচন কমিশনের দারস্থ হয়েছেন বলে জানান তিনি। এদিকে, এই শোকজ নোটিশ ও আনীত অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য জানতে বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।