চাকরি ডেস্ক: প্রায় দীর্ঘ চার বছরের দীর্ঘসূত্রিতা পেরিয়ে অবসান হয়েছে ৪৫তম বিসিএস পরীক্ষার নিয়োগ প্রক্রিয়ার। ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে এই বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছিল এবং বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে পরবর্তীতে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হয়। তবে ফলাফল প্রকাশের পর চূড়ান্ত গেজেট হাতে পেতে প্রার্থীদের আরও প্রায় এগারো মাস অপেক্ষা করতে হয়েছে। সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এক হাজার ৭০২ জন প্রার্থীর নাম গেজেট আকারে প্রকাশ করার মাধ্যমে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। দীর্ঘ এই অপেক্ষার ফলে সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ার গতিশীলতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।
এই পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াটি একাধিক ভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিক্রমা অতিক্রম করে বর্তমান অবস্থায় এসে পৌঁছেছে। ২০২২ সালে পূর্ববর্তী সরকারের আমলে শুরু হওয়া এই বিসিএসের বিভিন্ন কার্যক্রমের মাঝে দেশে বড় ধরনের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটে। পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব পালন শেষে নতুন রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। তবে পাবলিক সার্ভিস কমিশন বা পিএসসি এক হাজার ৮০৭ জনের নাম সুপারিশ করলেও শেষ পর্যন্ত গেজেটে স্থান পান এক হাজার ৭০২ জন। সুপারিশপ্রাপ্ত সবাই চূড়ান্ত তালিকায় স্থান না পাওয়া এবং ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া নিয়ে নানা মহলে ইতোমধ্যে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এমন দীর্ঘসূত্রিতা ও প্রশাসনিক ধীরগতির কঠোর সমালোচনা করেছেন দেশের বিভিন্ন শিক্ষাবিদ ও গবেষকেরা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধা মনে করেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে কার্যকর বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা ও জবাবদিহির সংস্কৃতির চরম ঘাটতি রয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজের মূল্যায়ন না থাকায় প্রশাসনিক কাজে এই ধরনের বিচ্যুতি এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। অন্যদিকে পিএসসির সাবেক সদস্য সমর পাল স্পষ্ট করেছেন যে, পরীক্ষা নেওয়া ও ফল প্রকাশের দায়িত্ব পিএসসির হলেও গেজেট প্রকাশের সম্পূর্ণ দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ওপর বর্তায়।
দীর্ঘ এই অপেক্ষার কারণে চাকরিপ্রার্থী তরুণ ও তাদের পরিবারগুলোকে চরম মানসিক চাপ এবং আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হতে হয়েছে। অনেক প্রার্থী ভালো চাকরির আশায় পূর্বের চাকরি ছেড়ে দেওয়া কিংবা পড়াশোনার খরচ চালাতে গিয়ে জমি বিক্রি করে চরম অস্বচ্ছলতার মধ্যে পড়েছেন। ইডেন কলেজের শিক্ষার্থী ও ছাত্রনেতা স্কাইয়া ইসলাম আক্ষেপ করে জানান, দেশের সংকটে তরুণেরা সবসময় এগিয়ে আসলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় তাদেরই সবচেয়ে বেশি বঞ্চনার শিকার হতে হয়। দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের এই বেহাল দশা কাটাতে বিসিএসের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি এক বছরের মধ্যে শেষ করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।