জাতীয় ডেস্ক: মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গারা জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি সংগ্রহ করে বাংলাদেশি পাসপোর্ট বানিয়ে ফেলছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কিছু জনপ্রতিনিধি, নির্বাচন অফিসের অসাধু কর্মকর্তা এবং দালালদের নিয়ে গঠিত একটি শক্তিশালী চক্র এই অবৈধ কার্যক্রমে জড়িত রয়েছে। কক্সবাজারের আশ্রয়শিবির থেকে শুরু করে চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থেকে রোহিঙ্গাদের হাতে ভুয়া পরিচয়পত্র তুলে দিচ্ছে। এর ফলে রোহিঙ্গারা সহজেই দেশের নাগরিক সেজে পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে সক্ষম হচ্ছেন এবং অনেকেই ইতিমধ্যে বিদেশে পাড়িও জমাচ্ছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বছর পাসপোর্ট প্রদানে পুলিশ ভেরিফিকেশনের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়ার পর থেকেই এই অবৈধ সুযোগটি লুফে নেয় চক্রটি। এর আগে কঠোর পুলিশি যাচাই-বাছাইয়ের কারণে রোহিঙ্গাদের জন্য পাসপোর্ট পাওয়া কঠিন ছিল, কিন্তু ভেরিফিকেশন বন্ধ হওয়ার পর পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। গত কয়েক বছরে শুধু টেকনাফ অঞ্চলেই হাজার হাজার রোহিঙ্গা ভুয়া এনআইডি পেয়েছে বলে গোয়েন্দা তথ্যে উঠে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে সরকারের উচ্চ মহলে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলে পাসপোর্টের আবেদন যাচাইয়ে পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া পুনরায় চালুর জোরালো চিন্তা করছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, ভেরিফিকেশন ছাড়া পাসপোর্ট প্রাপ্তি সহজ হওয়ায় রোহিঙ্গারা এই সুযোগ নিচ্ছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত ওই অঞ্চলের পাসপোর্ট অফিসগুলোতে আবেদনপত্র যাচাইয়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে কেবল এনআইডি নয়, বরং চাকরি, ব্যবসা ও পরিবারের বিস্তারিত তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে স্থানীয় বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন ও সচেতন মহল রোহিঙ্গাদের হাতে চলে যাওয়া ভুয়া এনআইডিগুলো দ্রুত শনাক্ত করে তা বাতিলের জোরালো দাবি জানিয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এনআইডি অনুবিভাগের এ বিষয়ে একাধিক বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে জালিয়াতির মাধ্যমে নেওয়া পরিচয়পত্রগুলো ব্লক করে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কর্মকর্তারা মনে করছেন, এনআইডি প্রদানের প্রাথমিক ধাপেই কঠোর যাচাই নিশ্চিত করা গেলে এবং পাসপোর্টের ক্ষেত্রে পুলিশ ভেরিফিকেশন ফিরিয়ে আনা গেলে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণভাবে রোধ করা সম্ভব হবে।