লাইফস্টাইল ডেস্ক: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে বর্তমানে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে মরক্কোর প্রাচীন প্রসাধন সামগ্রী নিলা পাউডার। ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক ও ইউটিউবের রিলস এবং শর্টস ভিডিওগুলোতে ত্বকের যত্নে এই নীল রঙের ভেষজ গুঁড়ার ব্যবহার ব্যাপকভাবে প্রচার করা হচ্ছে। মরক্কোর নারীরা শত শত বছর ধরে ঐতিহ্যগতভাবে এই উপাদানটি ব্যবহার করে আসছেন বলে দাবি করা হয়। বিশেষ করে ত্বকের জেদি কালো দাগ দূর করা, পিগমেন্টেশনের সমস্যা কমানোর এবং রোদে পোড়া ভাব বা সানবার্ন দূর করার জাদুকরী সমাধান হিসেবে এটি বেশ পরিচিতি পেয়েছে।

প্রভাবশালী কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ও বিউটি ব্লগারদের কল্যাণে এই উপাদানটির গুণাগুণ রাতারাতি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওগুলোতে দেখানো হচ্ছে কীভাবে নিলা পাউডার বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদানের সঙ্গে মিশিয়ে ফেসপ্যাক তৈরি করা হয় এবং তা ত্বকে লাগানোর পর চমৎকার ফলাফল পাওয়া যায়। এই নান্দনিক নীল রঙের পাউডারটি ব্যবহারের পর ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায় বলে দাবি করা হচ্ছে। ফলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই রূপচর্চাপ্রেমী তরুণ প্রজন্মের নজর কেড়েছে মরক্কোর এই ঐতিহ্যবাহী উপাদানটি।

তবে অনলাইনে এই প্রসাধন সামগ্রীর নানামুখী কার্যকারিতার প্রচার চললেও এর প্রকৃত কার্যকারিতা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেক চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ। যেকোনো ভেষজ বা আমদানিকৃত প্রসাধন সামগ্রী ব্যবহারের আগে তার উপাদান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া অত্যন্ত জরুরি বলে তারা মনে করেন। বিশেষ করে সংবেদনশীল ত্বকে এই ধরনের অপরিচিত পাউডার ব্যবহার করার ফলে অ্যালার্জি, ফুসকুড়ি বা মারাত্মক চর্মরোগ দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই ইন্টারনেটে কোনো প্রসাধন উপাদান ভাইরাল হলেই না বুঝে তা ত্বকে প্রয়োগ করা উচিত নয় বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

নিরাপদে যেকোনো নতুন প্রসাধন ব্যবহারের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং ব্যবহারের আগে ত্বকের একটি নির্দিষ্ট অংশে প্যাচ টেস্ট করে নেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। অনলাইনের মন ভোলানো প্রচারণায় অন্ধভাবে বিশ্বাস না করে নিজের ত্বকের ধরন অনুযায়ী সঠিক উপাদান নির্বাচন করা বাঞ্ছনীয়। নিলা পাউডারের ক্ষেত্রেও এর খাঁটি উৎস এবং এতে কোনো রাসায়নিক ভেজাল আছে কি না, তা যাচাই করা আবশ্যক। অন্যথায় সাময়িক সৌন্দর্য বৃদ্ধির চেষ্টা ত্বকের দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।