স্বাস্থ্য ডেস্ক: পরিমিত মাত্রায় এবং সঠিকভাবে চুইংগাম চিবানো হলে তা মানবদেহের জন্য বিভিন্ন উপকার বয়ে আনতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের মুখ সবসময় শুষ্ক থাকে, তাঁদের জন্য এটি বেশ উপকারী হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, চুইংগাম মুখের লালা উৎপাদন প্রায় দশগুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে পারে। উৎপাদিত এই লালা মুখের ভেতরে থাকা ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার তৈরি অ্যাসিডকে নিষ্ক্রিয় করে দাঁতের সুরক্ষায় বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এ ছাড়া লালায় থাকা ক্যালসিয়াম ও ফসফেট দাঁতের ক্ষয় রোধ করতে সাহায্য করে এবং খাবার হজম প্রক্রিয়াকে সহজ করে তোলে।
মুখের স্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি চুইংগাম চিবানোর আরও কিছু মানসিক ও শারীরিক সুফল রয়েছে। এটি চিবানোর ফলে মানুষের মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ এবং অক্সিজেনের সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই অভ্যাসটি মানুষের শরীরের স্ট্রেস হরমোন কমাতে সাহায্য করে এবং মানসিক চাপ মুক্ত রাখতে ভূমিকা রাখে। তা ছাড়া মুখের দুর্গন্ধ দূর করতেও এটি সাময়িকভাবে বেশ কার্যকর প্রমাণিত হতে পারে।
তবে অতিরিক্ত বা অনিয়ন্ত্রিত চুইংগাম চিবানোর অভ্যাস শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। বাজারে প্রচলিত অনেক চুইংগামে থাকা অতিরিক্ত চিনি দাঁতের এনামেলের ক্ষতি করে ডেন্টাল ক্যারিজ বা দাঁত ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। দীর্ঘক্ষণ চুইংগাম চিবানোর কারণে চোয়ালের সন্ধি বা টেমপোরোম্যান্ডিবুলার জয়েন্ট এবং মুখের মাংসপেশির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এর ফলে চোয়ালে ব্যথা, মাথাব্যথা কিংবা কানের আশপাশে অস্বস্তির মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। এছাড়া এতে থাকা কৃত্রিম মিষ্টি বা সরবিটলের কারণে সংবেদনশীল ব্যক্তিদের ডায়রিয়ার মতো সমস্যাও হতে পারে।
যাদের দাঁতের বিভিন্ন জটিল চিকিৎসা যেমন ফিলিং, ইমপ্ল্যান্ট বা ব্রেস লাগানো হয়েছে, তাঁদের চুইংগাম থেকে দূরে থাকা উচিত। একই সঙ্গে চোয়ালের বিশেষ সমস্যা, মাইগ্রেন কিংবা রাতে দাঁত কিড়মিড় করার অভ্যাস যাঁদের রয়েছে, তাঁদেরও এটি এড়িয়ে চলা আবশ্যক। শিশুদের ক্ষেত্রে গলায় আটকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকায় অতিরিক্ত সতর্কতা প্রয়োজন। দন্তবিশেষজ্ঞ ডা. মো. আসাফুজ্জোহা রাজ পরামর্শ দিয়েছেন যে, চোয়ালের পেশির সুস্থতার জন্য ১০ থেকে ১৫ মিনিটের বেশি সময় ধরে চুইংগাম চিবানো উচিত নয়। পাশাপাশি চিনিযুক্ত গামের পরিবর্তে জাইলিটল–সমৃদ্ধ চিনিমুক্ত গাম নির্বাচন করা এবং ভারি খাবারের পরপরই তা ব্যবহার করা স্বাস্থ্যসম্মত।