শিক্ষা ডেস্ক: চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বা চুয়েটে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনরায় নিজ পদে বহালের দাবিকে কেন্দ্র করে তীব্র অসন্তোষ ও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। মূলত তাকে ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে আনার দাবিতে শিক্ষার্থীদের একাংশের আন্দোলন এবং এ নিয়ে বিভিন্ন মহলের নানামুখী মন্তব্যের ফলে সামগ্রিক পরিস্থিতি বেশ জটিল আকার ধারণ করেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অচলাবস্থা নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে কার্যকর কোনো সমাধান এখনো দৃশ্যমান হয়নি। ফলে পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে এক ধরনের টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারের নীতিনির্ধারক ও প্রশাসনের দায়িত্বশীল মহলের কেউ কেউ এই আন্দোলনের পেছনে গভীর কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বা বিশেষ মহলের ইন্ধন রয়েছে বলে সন্দেহ করছেন। তাদের মতে, ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক শিক্ষাবাজার নষ্ট করতে এবং অস্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখতেই একটি চক্র শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে এই আন্দোলনকে উসকে দিচ্ছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, এই দাবি কেবল সাধারণ প্রশাসনিক বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এর নেপথ্যে অন্য কোনো গোপন এজেন্ডা থাকতে পারে যা প্রতিষ্ঠানের সার্বিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী।

তবে সরকারের এই ধারণার সম্পূর্ণ বিরোধিতা করে সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা বলছেন আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, কোনো ধরনের রাজনৈতিক দল বা মহলের প্ররোচনা ছাড়াই তারা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে এই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন এবং এর মূল লক্ষ্য হলো প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও সঠিক নেতৃত্ব ফিরিয়ে আনা। শিক্ষার্থীদের ভাষ্যমতে, সাবেক উপাচার্যের পদত্যাগের বিষয়টি যথাযথ প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়নি এবং ক্যাম্পাসের সঠিক উন্নয়নের স্বার্থেই তাকে পুনরায় দায়িত্বে দেখতে চান তারা। তাদের এই অবস্থান স্পষ্ট করার পরেও প্রশাসনের তরফ থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া না পাওয়ায় ক্ষোভ দিন দিন আরও বাড়ছে।

পরিস্থিতি যেভাবে জটিলতার দিকে মোড় নিচ্ছে, তাতে দ্রুত কোনো কার্যকর উদ্যোগ না নিলে সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল। ক্যাম্পাস সূত্র জানিয়েছে, অচলাবস্থা কাটাতে এবং সব পক্ষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি দূর করতে দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য আলোচনা জরুরি হয়ে পড়েছে। অন্যথায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে, যা পুরো শিক্ষা কার্যক্রমকে দীর্ঘমেয়াদে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেবে।