অর্থনীতি ডেস্ক: বিশ্ব অর্থনীতির চলমান অনিশ্চয়তা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ নানা অর্থনৈতিক দুর্বলতার কথা বিবেচনা করে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে নতুন পূর্বাভাস প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফ। সংস্থাটির সাম্প্রতিক প্রাক্কলনে জানানো হয়েছে যে, চলতি অর্থবছরে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি শ্লথ হয়ে মাত্র তিন দশমিক দুই শতাংশে নেমে আসতে পারে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় ও নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত থেকে মূল্যস্ফীতি ১০ দশমিক নয় শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

আইএমএফের এই মূল্যায়নে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির বর্তমান চিত্র এবং বিভিন্ন খাতের বাস্তব ফারাক ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দামের অস্থিরতা, সরবরাহ ব্যবস্থার জটিলতা এবং বৈদেশিক বাণিজ্যের চাপের কারণে বাংলাদেশের মতো উদীয়মান অর্থনীতিগুলো চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে। তাছাড়া অভ্যন্তরীণ বাজারে ডলারের সংকট, আমদানির ওপর বিধিনিষেধ এবং উৎপাদন খাতের খরচ বেড়ে যাওয়ায় সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমে কিছুটা স্থবিরতা দেখা দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

মূল্যস্ফীতির উচ্চ হার সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতাকে ক্রমাগত কমিয়ে দিচ্ছে যা দেশের নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছেন যে, বাজার ব্যবস্থাপনার ত্রুটি এবং মুদ্রাস্ফীতির চাপ সামাল দিতে কার্যকর আর্থিক ও রাজস্ব নীতির সমন্বয় জরুরি। আইএমএফের এই নতুন পরিসংখ্যান দেশের অর্থনীতির বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রে আরও কঠোর ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তাকেই নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

দেশের অর্থনীতিকে এই কঠিন পরিস্থিতি থেকে পুনরুদ্ধারের জন্য কাঠামোগত সংস্কারের ওপর জোর দিচ্ছেন দেশের অর্থনীতিবিদ ও গবেষকরা। রাজস্ব আদায় বাড়ানো, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় সংকোচন এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা গেলে এই মন্দভাব কাটিয়ে ওঠা সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক এই সংস্থার পূর্বাভাস আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং দেশের অর্থনীতিকে সঠিক ট্র্যাকে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবে এমনটাই প্রত্যাশা সবার।