মোঃ মনোয়ার হোসেনঃ
‘তওহীদভিত্তিক আধুনিক রাষ্ট্র গঠনে নারীদের ভূমিকা’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রাজশাহীতে হেযবুত তওহীদের আয়োজনে নারী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার (২ মে ২০২৬) বিকেল ৪টায় রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়ার তালাইমারী রোডস্থ উপর ভদ্রায় এই সম্মেলনের আয়োজন করে হেযবুত তওহীদ রাজশাহী জেলা শাখা।
হেযবুত তওহীদ রাজশাহী জেলা নারী বিভাগের সম্পাদক মোসা. রোজিনা খাতুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অরাজনৈতিক আন্দোলন হেযবুত তওহীদের খুলনা নারী বিভাগের সম্পাদক জেরিন সাইয়ারা। সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের রাজশাহী নারী বিভাগের সম্পাদক মোসা. নাঈমা খাতুন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেরিন সাইয়ারা বলেন, একটি তওহীদভিত্তিক আধুনিক রাষ্ট্র গঠনে নারী-পুরুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য। ইসলামের স্বর্ণযুগে নারীরা সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে যে অসামান্য অবদান রেখেছিলেন, বর্তমান সময়ে সেই চেতনা আবার ফিরিয়ে আনতে হবে। হেযবুত তওহীদ নারীদেরকে সেই প্রকৃত মর্যাদা ও অধিকার দিতে চায়, যা আজ ধর্মীয় গোঁড়ামি ও পশ্চিমা অপসংস্কৃতির বেড়াজালে বন্দি। নারীরা কেবল ঘরের চার দেয়ালে সীমাবদ্ধ না থেকে যখন সমাজ সংস্কারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে, তখনই দেশ থেকে যাবতীয় অন্যায় ও অবিচার দূর করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার ও নিরাপত্তার যে চরম সংকট চলছে, তার প্রত্যক্ষ শিকার হচ্ছে নারীরাই। উগ্রবাদ ও মব সন্ত্রাসের কারণে সমাজ দিন দিন বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে আল্লাহর একত্ববাদ বা তওহীদের আদর্শে নারীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। একজন নারী যদি সচেতন ও আদর্শবান হয়, তবে সে কেবল একটি পরিবার নয়, বরং একটি সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ জাতি উপহার দিতে সক্ষম হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মোসা. নাঈমা খাতুন বলেন, তওহীদভিত্তিক রাষ্ট্র মানেই হলো এমন এক আধুনিক জীবনব্যবস্থা যেখানে প্রতিটি নাগরিকের জান-মাল ও ইজ্জতের পূর্ণ নিরাপত্তা থাকবে। রাজশাহীর প্রতিটি নারী যদি সত্য ও ন্যায়ের পথে জাগ্রত হয়, তবে উগ্রবাদ বা অন্যায়ের কোনো স্থান এই জনপদে থাকবে না। আমরা চাই প্রতিটি ঘরে ঘরে শান্তির বার্তা পৌঁছে দিতে এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য দেশ নির্মাণ করতে। এর জন্য নারীদেরকে তওহীদী চেতনায় বলীয়ান হয়ে সমাজ বিনির্মাণে সক্রিয় হতে হবে। তিনি আরও বলেন, তওহীদভিত্তিক রাষ্ট্র মানেই হলো যেখানে প্রতিটি মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে। নারীরা যদি শিক্ষিত ও আদর্শবান হয়, তবে আগামী প্রজন্ম একটি সুন্দর দেশ উপহার পাবে।
সম্মেলনে রাজশাহী জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুল সংখ্যক নারী কর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন।