ডেস্ক রিপোর্টঃ

আমরা সাধারণত সকালের নাস্তা বা দুপুরের খাবারের পর পরই চা পান করি।চা পান করেন না এমন মানুষ পাওয়া খুব কঠিন।সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, লাল চা-ই স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে ভালো। জার্মানির বার্লিন বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিজ্ঞানী তাদের গবেষণায় এমনটিই জানিয়েছেন।

আসুন জেনে নেই কেন লাল চা শরীরের জন্য উপকারী:

ক্যানসার প্রতিরোধে চা:

লাল চায়ের মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রেক্টাল, জরায়ুর ক্যানসার, ফুসফুস ও ব্লাডার ক্যানসার প্রতিরোধ করে। এটি স্তন ক্যানসার, প্রোস্টেট ক্যানসার ও পাকস্থলীর ক্যানসারও প্রতিরোধে কাজ করে।

কোলেস্টেরলের পরিমাণ হ্রাস করে

লাল চা ভালো কোলেস্টেরলের পরিমাণ বৃদ্ধি ও খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমাণ হ্রাস করে। ফলে সামগ্রিকভাবে হার্ট ভালো থাকে। যদিও শরীরে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলেই হার্ট অ্যাটাক বাড়বে এবং কম হলেই হার্ট ভালো থাকবে এরকম থিওরি পূর্বে মনে করা হলেও বর্তমানে আর করা হয় না। তবে শরীরে কোলেস্টেরলের পরিমাণ স্বাভাবিক রাখতে চা এর যে একটি ভূমিকা আছে তা বহু পুষ্টিবিজ্ঞানী মনে করেন।

হজম শক্তি বৃদ্ধি করে

লাল চায়ের মধ্যে যে ক্যাফিন থাকে তা কফির মত অতি- উত্তেজক নয়, কিন্তু কিছুটা উত্তেজনা অবশ্যই সৃষ্টি করে যার ফলে পাকস্থলী থেকে খাদ্য হজম করার জন্য প্রয়োজনীয় পাচক রস খুব সহজেই নিষ্কাশিত হতে পারে। তাছাড়া এই ক্যাফিনের মাত্রা খুব কম পরিমাণে থাকার জন্য চা সাধারনত নেশা ধরায় না (সকালে ঘুম থেকে উঠে চা খাওয়া আসলে আমাদের একটি “অভ্যাস”, এটি নেশা না।নেশা দ্রব্যের মধ্যে যে সমস্ত উপাদান থাকে তা সাধারণত চায়ের মধ্যে থাকে না)

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

লাল চা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এর মধ্যে থাকা ট্যানিন ফ্লু, ঠান্ডা, ইনফ্লুয়েঞ্জা আক্রমণ থেকে দেহকে সুরক্ষা দেয়। চার কাপ লাল চা প্রতিদিন গ্রহণ করলে প্রদাহ কমে।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৃদ্ধি করে

চা পাতায় যথেষ্ট পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। আসলে আমাদের শারীরবৃত্তীয় কার্যকলাপের জন্য সারাদিনে কোষের অভ্যন্তরে বিভিন্ন ক্ষতিকর দূষিত কণা জমা হয়। কোষের স্বাভাবিক সম্পাদনের জন্য এই “ফ্রী রেডিক্যালসগুলি”র শরীর থেকে নিষ্কাশিত হওয়ার অত্যন্ত প্রয়োজন। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুলি এই সমস্ত দূষিত কণা গুলিকে শুষে নেয়। ফলে কোষগুলি খুব সহজেই তার কার্য সম্পাদন করতে পারে। আর এর সামগ্রিক ফল হিসেবে শরীর সুস্থ ও সবল থাকে। তাই সঠিক উপায়ে প্রস্তুত করা “লাল চা” নিয়মিত খেলে শরীরের অতিরিক্ত ওজন হ্রাস পায় । শরীর অনেক ছিপছিপে ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল লাগে।

হাড় মজবুত করে

তাছাড়া শরীরের হাড় মজবুত করা, ত্বকের উজ্জলতা বৃদ্ধি, যথেষ্ট আমেজের সঙ্গে চায়ের কাপে চুমুক দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মানসিক স্থিরতা বৃদ্ধি পাওয়া প্রভৃতি উপকার তো আছেই।

হার্টের জন্য ভালো

গবেষণায় বলা হয়, লাল চা খাওয়া কার্ডিওভাসকুলার সমস্যা প্রতিরোধে সাহায্য করে। এর মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের জারিত হওয়া প্রতিরোধে কাজ করে। নিয়মিত লাল চা খেলে হৃৎপিণ্ড ভালো রাখে।

চায়ের অপকারিতা বা ক্ষতিকর দিক

অতিরিক্ত চিনি: চায়ে অতিরিক্ত চিনি মেশানো চায়ের গুণমান নষ্ট করার একটি অন্যতম কারণ। সাধারণত: চায়ের সঙ্গে যখন এই চিনি গরম জলে ফুটতে থাকে তখন এদের রাসায়নিক গঠনের বেশকিছু পরিবর্তন ঘটে। ফলে চায়ের স্বাভাবিক উপকারী গুণগুলি কিছুটা হলেও নষ্ট হয় ।কিন্তু তা সত্ত্বেও একটু মিষ্টি ভাব বজায় রাখার জন্য অল্প পরিমাণ চিনি চায়ে মেশানো যেতেই পারে। অতিরিক্ত না হলেই হল। তবে সুগার বা ডায়াবেটিস রোগীদের চিনি না খাওয়াই ভালো।

চায়ের সঙ্গে বিস্কুট:


বিস্কুট ছাড়া চা কল্পনার ও বাইরে! তাই তো? কিন্তু এই বিস্কুট এর মধ্যে থাকা “গ্লুটেন” নামক এক ধরনের প্রোটিন আমাদের “ডাইজেস্টিভ সিস্টেমকে” নষ্ট করার একটি অন্যতম কারণ বলে কিছু বিজ্ঞানী মনে করেন। তাছাড়া গ্লুটেন অনেকটা চিটচিটে জাতীয় পদার্থ হওয়ায় আমাদের খাদ্যনালীতে খুব সহজেই আটকে যায় এবং এই গ্লুটেন কে শরীর থেকে বের করতে শরীরকে অনেক বেশি কষ্ট করতে হয়। এই প্রবণতা দীর্ঘদিন চলতে থাকলে শরীর এক সময় এগুলিকে “ফরেন বডি”হিসেবে চিহ্নিত করে ধ্বংস করতে চায় এবং এগুলি কে ধ্বংস করার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের স্বাভাবিক কিছু কোষকেও ধ্বংস করে ফেলে। আর তখন এই সমস্যাকে “অটো ইমিউন ডিজিজ” বলে। তাছাড়া এর সঙ্গে সহযোগী অন্যান্য পেটের সমস্যা যেমন “ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম” বদহজম, কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা তো আছেই। তাই চায়ের সঙ্গে বিস্কুট না খাওয়াই ভালো তবে যদি প্রয়োজনে খেতেই হয় তাহলে চা খাবার আধঘন্টা আগে খাওয়া যেতে পারে।