আগামীর প্রত্যাশা ডটকম | logo

৩রা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৬ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

বোয়ালমারীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের ইউনিয়ন সভাপতিকে কুপিয়ে জখম, আহত ৩ আটক ৪

প্রকাশিত : অক্টোবর ১৫, ২০১৯, ১৩:৫৫

বোয়ালমারীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের ইউনিয়ন সভাপতিকে কুপিয়ে জখম, আহত ৩ আটক ৪

টাফ রিপোর্টারঃ

উপজেলার ঘোষপুর ইউনিয়নের শেলাহাটি গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সোমবার (১৪.১০.২০১৯) সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে ইউপি সদস্যসহ ৩জন আহত হয়েছে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করে। এ সময় ৪জনকে আটক করা হয়।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি শেলাহাটি গ্রামের মোঃ আতিয়ার রহমান ও ইউয়িন আ’লীগের সহ-সভাপতি রায়হানউদ্দিন মোল্যা এবং খলিলুর রহমান গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়।
এসময় আতিয়ার রহমানকে বেধড়ক পিটিয়ে চায়নিজ কুড়াল দিয়ে শরীরে বিভিন্ন স্থানে এবং মাথায় কুপিয়ে ও চাইনিজ কুড়ালের বাট দিয়ে পিটিয়ে মুখের চোয়াল ভেঙ্গে মারাত্নক জখম এবং লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে ১টি হাত ও দুটি পা ভেঙ্গে গুড়িয়ে ফেলে বলে প্রতক্ষদর্শীরা জানায়।
এসময় ঠেকাতে এসে এক অটোভ্যান চালক কুড়ালের কোপে মারাত্নক আহত হয়।
খলিল ১ নং ঘোষপুর ইউনিয়নের ৫ ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বর) ও সাবেক এমপি আব্দুর রহমানের অনুসারী।
স্থানীয় একধিক সূত্র জানায়, বিগত দিনগুলোতে ফরিদপুর-১ আসনে আওয়ামীলীগের দু’টি গ্রুপের ওই ইউনিয়নে ফারুক চেয়ারম্যানের ছত্রছায়ায় বেপরোয়া হয়ে ওঠে খলিল। বিভিন্নভাবে এলাকার সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচার, কারণে অকারণে হামলা, হয়রানিমূলক মামলা সহ চাঁদাবাজীর একাধিক অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া ঘোষপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি আবু সালেহ’র সাথে একত্রে খলিল সরকারী জায়গা দখল করা সহ সরকারী গাছ কাটার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক আ’লীগ নেতা জানায়, দলীয় শক্তি ব্যবহার করে এলাকায় হাঙ্গামা বাধিয়ে শালিশ বানিজ্য করা তার পেশা হয়ে দাড়িয়েছে। সে সময় খলিল মেম্বারের অত্যাচারে অনেকে এলাকা ছেড়ে চলে যায়।


এছাড়া বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলো মেম্বর খলিলুর রহমান।
আর এসব বিষয় নিয়ে বিভিন্ন সময় আতিয়ার প্রতিবাদ করাতে খলিলের প্রতিপক্ষ হয়ে যায় আতিয়ার রহমান।
সোমবার (১৪.১০.২০১৯) সন্ধ্যায় সাতৈর প্রাইমারী স্কুলের সামনে আতিয়ার রহমানকে একা পেয়ে খলিল তার বাহিনী নিয়ে তার (আতিয়ার) উপর হামলা চালায়। খবর পেয়ে আতিয়ারের লোকজন এসে ধাওয়া করলে খলিল বাহিনী খলিলকে রেখেই পিছু হটতে বাধ্য হয়। এসময় আতিয়ারের লোকজন সাতৈর বাজার বাসস্ট্যান্ডে মিন্টুর দোকানের সামনে ঐ ইউপি সদস্য খলিলের সাথে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এসময় কিছু লোক খলিল মেম্বরকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে যায় এবং যে যার কর্মে চলে যায়। কিছুক্ষন পরেই খলিল মেম্বরের নেতৃত্বে ঢাল-শড়কী, রামদা, চাপাতি, স্যানদা, চাইনিজ কুড়াল ও লোহার রড সহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে খলিল বাহিনী আবারও সাতৈর প্রাইমারী স্কুলের সামনে আতিয়ার রহমানকে একা পেয়ে তার (আতিয়ার) উপর হামলা চালায়।
এসময় হামলাকারীরা আতিয়ার রহমানকে চায়নিজ কুড়াল দিয়ে শরীরে বিভিন্ন স্থানে এবং মাথায় কুপিয়ে ও চাইনিজ কুড়ালের বাট দিয়ে পিটিয়ে মুখের চোয়াল ভেঙ্গে মারাত্নক জখম এবং লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে ১টি হাত ও দুটি পা ভেঙ্গে গুড়িয়ে ফেলে বলে প্রতক্ষদর্শীরা জানায়।
এ সময় স্থানীয় লোকজন হামলাকারীদের ঠেকাতে গেলে এক পথচারী অটোভ্যান চালক মোঃ আকিদুল ইসলাম ধারলো অস্ত্রের আঘাতে মারত্মক আহত হন। তার বাড়ি পার্শ্ববর্তী ময়না ইউনিয়নের রানীদৌলা গ্রামে।
ঘটনার সংবাদ পেয়ে বোয়ালমারী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আহতদের মধ্যে দুই জনকে (আকিদুল ও আতিয়ার) ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ছাত্রলীগ সভাপতি মোঃ আতিয়ার রহমানের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে স্থানন্তর করা হয়েছে।
ঘটনাস্থল থেকে আটককৃতরা হলো, শেলাহাটি গ্রামের ছিরু মাতুব্বর (৫৮), আব্দুস শুকুর মোল্য (৪৮), হাবিব মোল্যা (৩৩) ও সুজন মাহামুদ (২৬)।
বোয়ালমারী থানা অফিসার ইনচার্জ আমিনুর রহমান হামলার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, রাত ৯টা পর্যন্ত থানায় কোন পক্ষই লিখিত অভিযোগ দেয়নি। আটককৃতদের মঙ্গলবার সকালে ফরিদপুর আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।




error: Content is protected !!